২৮ বছরের ট্রফি–খরা ঘুচিয়ে গত বছর অপরাজিত থেকে কোপা আমেরিকা জিতেছে আর্জেন্টিনা। এই ফর্ম লিওনেল স্কালোনির দলকে কাতার বিশ্বকাপে ফেবারিট বানিয়েছে। ’৮৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করা হোর্হে ভালদানোর শো ‘ইউনিভার্সো ভালদানো’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ নিয়ে কথা বলেন মেসি, ‘এখন সব দলের বিপক্ষে খেলাই কঠিন। (বিশ্বকাপে) সব দলকে হারানোই কঠিন হবে।’

মেসি এরপর যুক্তি দেন, ‘(অপরাজিত থাকার পথে) ইউরোপিয়ান দলগুলোর বিপক্ষে আমরা খুব বেশি ম্যাচ খেলিনি। যদিও ওরা আমাদের বিপক্ষে খেলতে পছন্দ করে না। তবে লাতিন দলগুলোকে হারানোও কঠিন। আর আমরা ভালো ফর্ম নিয়েই বিশ্বকাপে খেলব। কিন্তু আমরা ফেবারিট তকমার ফাঁদে পা দিয়ে বিশ্বাস করতে পারি না, ফেবারিট হওয়ায় এমনিতেই জিতব। আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে এবং ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে হবে।’

আর্জেন্টিনার বাইরে বিশ্লেষকেরা ব্রাজিল ও ফ্রান্সকে ফেবারিট হিসেবে ভাবছেন। পিএসজি তারকা মেসি ফেবারিট হওয়ার ভারটা এ দুই দলের ওপর চাপিয়ে দিলেন, ‘ফ্রান্স ভালো দল। তাদের কয়েকজন খেলোয়াড় চোট পেলেও ভয় পাইয়ে দেওয়ার মতো দল গড়েছে। দলে সেরা খেলোয়াড়েরা আছেন এবং এমন এক কোচ আছেন, যিনি দীর্ঘদিন ধরে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করে গত বিশ্বকাপও জিতেছেন। ব্রাজিলের খেলোয়াড়েরাও বেশ ভালো। বিশেষ করে আক্রমণভাগে। তাদের ভালো ৯ নম্বর আছে, নেইমারও আছে।’

মেসি আগেই ফাইনালে তাকাচ্ছেন না। আর্জেন্টাইন তারকার সব মনোযোগ প্রথম ম্যাচ ঘিরে। ২২ নভেম্বর সৌদি আরবের মুখোমুখি হয়ে কাতার বিশ্বকাপ শুরু করবে আর্জেন্টিনা। তার আগে বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে স্কালোনির দল।

মেসি আবুধাবিতে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। আল নাহিয়ান স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে মেসির অনুশীলন দেখতে এসেছিলেন হাজারো মানুষ। এই যে ফেবারিট-তত্ত্বের ফাঁদ এবং যথারীতি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে মেসি—এসব পাত্তা না দিয়ে মেসি শুধু প্রথম ম্যাচটি নিয়েই ভাবছেন, ‘আমরা (শিরোপার জন্য) লড়াই করব। এটাই লক্ষ্য। তবে সবার আগে প্রথম ম্যাচটা জিততে হবে।’