ন্যু ক্যাম্পে ১০ জনের বার্সাকে স্তব্ধ করে আতলেতিকোর জয়
বার্সেলোনা ০–২ আতলেতিকো মাদ্রিদ
চ্যাম্পিয়নস লিগে দুই স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনা ও আতলেতিকোর দেখা হলে কোয়ার্টার ফাইনালেই হয়। এবারও তেমনই হয়েছে। আর প্রথম লেগ শেষে মনে হচ্ছে আগের দুবারের ফলের পুনরাবৃত্তিই হতে যাচ্ছে।
চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগটা হয়েছে বার্সেলোনার মাঠ ন্যু ক্যাম্প। ঘরের মাঠে দাপুটে ফুটবল খেলে শুরুতে আশার আলো দেখালেও শেষ পর্যন্ত হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে হান্সি ফ্লিকের শিষ্যদের। হুলিয়ান আলভারেজ ও আলেকজান্ডার সরলথের গোলে বার্সেলোনাকে ২–০ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেছে আতলেতিকো মাদ্রিদ।
বুধবার রাতের এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে শুরু থেকেই ছন্দে ছিল বার্সা। কিন্তু তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ম্যাচের চিত্রনাট্য বদলে যায়। ১০ জনের বার্সেলোনার বিপক্ষে সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেছে দিয়েগো সিমিওনের দল।
ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় প্রথমার্ধের শেষ দিকে। দিয়েগো সিমিওনের ছেলে জুলিয়ানো সিমিওনে যখন বল নিয়ে বার্সার ডি-বক্সে ঢুকছিলেন, তখন তাঁকে পেছন থেকে ফাউল করে বসেন ১৯ বছর বয়সী কুবারসি। রেফারি প্রথমে হলুদ কার্ড দেখালেও ভিএআর রিভিউ দেখে সিদ্ধান্ত বদলে লাল কার্ড দেখান।
এই লাল কার্ডই সর্বনাশ বার্সার। সেই ফাউল থেকে পাওয়া ফ্রি-কিকে দুর্দান্ত এক গোল করে আতলেতিকোকে এগিয়ে দেন আসা আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজ। প্রথমার্ধেই ১–০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় সফরকারীরা।
পুরো ম্যাচে বার্সেলোনার প্রধান ভরসা ছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে ধারে আসা মার্কাস রাশফোর্ড। বাম প্রান্ত দিয়ে বারবার আতলেতিকোর রক্ষণে কাঁপুনি ধরিয়েছেন তিনি। প্রথমার্ধে একবার বল জালে জড়িয়েছিলেন রাশফোর্ড, কিন্তু আক্রমণ গড়ে ওঠার সময় লামিনে ইয়ামাল অফসাইডে থাকায় গোলটি বাতিল হয়।
অন্যদিকে, ইয়ামালকে বোতলবন্দী করে রাখার ছক এঁকেছিলেন সিমিওনে। তিন-তিনজন ডিফেন্ডার মিলে আগলে রেখেছিলেন এই কিশোর–তারকাকে। তবুও কয়েকবার সুযোগ তৈরি করেছিলেন ইয়ামাল, কিন্তু আতলেতিকো গোলরক্ষক মুসো দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
দ্বিতীয়ার্ধে বার্সা লেভানডফস্কি ও পেদ্রিকে তুলে নিয়ে গাভি ও ফেরমিন লোপেজকে নামান। ১০ জন নিয়ে লড়াই চালিয়ে গেলেও ভাগ্যের সহায়তা পায়নি কাতালানরা। এর মাঝেই ৭০ মিনিটে ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটি পায় আতলেতিকো। গ্রিজমান ও রুগেরির দারুণ সমন্বয়ে আসা ক্রস থেকে বার্সা ডিফেন্ডার জেরার্দ মার্তিনকে শারীরিক শক্তিতে পরাস্ত করে গোল করেন সরলথ। ২–০ গোলে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় বার্সা।
বার্সেলোনা সর্বশেষ চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে ২০১৫ সালে। গতবার তারা সেমিফাইনালে খেললেও এবার বিদায়ঘণ্টা বাজার উপক্রম হয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালেই। আগামী মঙ্গলবার মাদ্রিদে ফিরতি লেগে মুখোমুখি হবে দুই দল। সেমিফাইনালের টিকিট পেতে হলে ঘরের মাঠে করা ২ গোলের এই ঘাটতি মেটাতে হবে।
গত মার্চ মাসে বার্সাকে হারিয়েই কোপা দেল রের সেমিফাইনালে উঠেছিল আতলেতিকো। তবে এ সপ্তাহেই লা লিগায় আবার জিতেছিল বার্সা। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে তিনবার মুখোমুখি হওয়ার লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত সিমিওনের দলই এগিয়ে।