স্পেনের কাছে ইংল্যান্ডের হারের কারণ কি ম্যানচেস্টার সিটিও

ম্যাচের ২ মিনিটেই গোল করেন ইয়ামালএএফপি

বিশ্বমানের তারকায় ঠাসা দল ইংল্যান্ড। স্পেন তো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নই। ওয়েম্বলিতে কাল উয়েফা নেশনস লিগের ইংল্যান্ড-স্পেন ম্যাচে বেশ লড়াই হওয়ার কথা ছিল। কিছুটা হয়েছেও। তবে শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকেরা হেরেছে ৩-২ গোলের ব্যবধানে।

ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে ইংল্যান্ডের এমন কিছু ভুল, যা এই মানের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে খুব একটা দেখা যায় না। আর সেই ভুলগুলোর প্রসঙ্গেই আলোচনায় উঠে এসেছে ম্যানচেস্টার সিটির নাম।

শনিবার স্পেনের কাছে ইংল্যান্ডের হারের আগের দিন সিটিকে প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের বেশির ভাগ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করার খবর আসে। এখনও শাস্তি ঘোষণা হয়নি, তবে অভিযোগের ব্যাপকতায় বড় শাস্তিরই ইঙ্গিত আছে। তাই প্রশ্নটা একেবারে অমূলক নয়—ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা সিটি খেলোয়াড়দের ওপর সেই খবরের কোনো মানসিক প্রভাব পড়েছিল কি না।

ইংল্যান্ডের হয়ে শুরুর একাদশে ছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির তিন খেলোয়াড়—এলিয়ট অ্যান্ডারসন, মার্ক গুয়েহি ও নিকো ও’রাইলি। অন্যদিকে স্পেনের একাদশে ছিলেন সিটির সাবেক মিডফিল্ডার রদ্রি, যিনি সাত বছর ক্লাবটিতে কাটিয়ে চলতি মৌসুমে বার্সেলোনায় যোগ দেন। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, ওয়েম্বলিতে খেলা এই চারজনের মধ্যে তিনজনই এমন ভুল করেছেন, যা ম্যাচের গতিপথে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।

কী কী ভুল

লামিনে ইয়ামালের করা দ্বিতীয় মিনিটের গোলের পেছনে ভূমিকা রেখেছে গুয়েহির ভুল। তাঁকে ট্যাকল করেই ম্যাচের শুরুতে বল কেড়ে নিয়ে গোল করেন ইয়ামাল। দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ড যে পেনাল্টি পায়, সেটি ছিল জুড বেলিংহামকে করা রদ্রির চ্যালেঞ্জে। অবশ্য ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি।

দ্বিতীয়ার্ধেই নিকো ও'রাইলির নিজেদের অর্ধে দেওয়া একটি পাস প্রতিপক্ষের কাছে চলে যায়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অ্যালেক্স বায়েনা স্পেনকে আবার সমতায় ফেরান। শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জয় পায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

এতগুলো অস্বাভাবিক ভুলই প্রশ্ন তুলেছে, ম্যানচেস্টার সিটির আর্থিক মামলার রায়ের খবর কি খেলোয়াড়দের মনোযোগে কোনো প্রভাব ফেলেছিল?

সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অধিনায়ক রয় কিনের ধারণা, সম্ভবত ফেলেছে। আইটিভি স্পোর্টসকে কিন বলেন, সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলে খেলোয়াড়দের পুরোপুরি মনোযোগী থাকা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, সিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের ওপর রায়ের খবরের প্রভাব পড়তে পারে এবং একই ম্যাচে এতজন শীর্ষ খেলোয়াড়ের এতগুলো ভুল সেই সম্ভাবনাকে সামনে নিয়ে আসে।

ম্যাচ হেরে হতাশ ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল ও অধিনায়ক হ্যারি কেইন
এএফপি

ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল অবশ্য বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কোনো প্রভাবের কথা বলেননি। তিনি বলেছেন, ‘আমার ক্ষেত্রে বিষয়টি কোনো বিভ্রান্তি তৈরি করেনি। তবে আমার চেয়ে খেলোয়াড়দের হাতে বেশি সময় ছিল, তাই তারা বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে কথা বলে থাকতেই পারে।’

আরও পড়ুন

তবে ইংল্যান্ড অধিনায়ক কেইনের ব্যাখ্যাটা ভিন্ন। তাঁর মতে, সিটির রায়ের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতে নামার সময় খেলোয়াড়েরা ক্লাব ফুটবলকে এক পাশে সরিয়ে রাখেন এবং এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তিনি বলেছেন এভাবে, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। কিন্তু ইংল্যান্ডের হয়ে মাঠে নামার পর আমরা ক্লাব ফুটবলকে এক পাশে রেখে দিই। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।’
সিটির মামলায় আসলে কী হয়েছে?

দ্য অ্যাথলেটিক ও বিসিবি জানিয়েছে, ম্যানচেস্টার সিটি ১১৫টি অভিযোগের ১১৪টিতেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছে।
এএফপি

শুক্রবার দ্য অ্যাথলেটিক ও বিসিবি জানায়, ম্যানচেস্টার সিটি ১১৫টি অভিযোগের ১১৪টিতেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। তবে শাস্তি এখনো ঘোষণা হয়নি। সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে প্রিমিয়ার লিগে পয়েন্ট কাটা, প্রতিযোগিতা থেকে বহিষ্কার কিংবা বড় অঙ্কের জরিমানার মতো পদক্ষেপ থাকতে পারে। পাশাপাশি সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণ নিয়ে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো আইনি পরামর্শ নিচ্ছে বলেও জানা গেছে।

আর্থিক অভিযোগগুলোর সময়কাল ২০০৯ থেকে ২০১৮। ওই সময়ের মধ্যে সিটি তিনটি প্রিমিয়ার লিগ জিতেছে।

আরও পড়ুন