ম্যারাডোনার ‘মস্তিষ্ক’, মেসির ‘দক্ষতা’, এমবাপ্পের গতি: কেমন হবে বিশ্বকাপের ‘সুপার হিরো’

বিশ্বকাপের কিংবদন্তিদের বিশেষ সব দক্ষতা নিয়ে বানানো হয়েছে এই টুর্নামেন্টের ‘সুপারহিরো’ খেলোয়াড়অপ্টা অ্যানালিস্ট

বিটিভিতে একসময় ‘ক্যাপ্টেন প্ল্যানেট’ নামে একটি কার্টুন প্রচারিত হতো। পরিবেশবাদী সেই কার্টুনে পাঁচজন প্ল্যানেটিয়ার্স তাঁদের আংটির বিভিন্ন শক্তি ব্যবহার করে পরিবেশ সুরক্ষায় ‘ক্যাপ্টেন প্ল্যানেট’ নামের এক সুপার হিরো তৈরি করতেন। প্ল্যানেটিয়ার্সদের আংটি থেকে বের হতো পৃথিবী, আগুন, বাতাস, পানি ও হৃদয়ের শক্তি। এই পাঁচটি বস্তুর সমন্বয়ে তৈরি হতেন ক্যাপ্টেন প্ল্যানেট।

আচ্ছা, বিশ্বকাপেও তো এমন হতে পারে? মানে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের বিভিন্ন দক্ষতার মিশ্রণে একজন ‘সুপার হিরো’ তো বানানোই যায়। ফুটবলে তথ্য-উপাত্তভিত্তিক সাইট অপ্টা অ্যানালিস্ট ঠিক এ কাজটাই করেছে। গত ৬০ বছরে বিশ্বকাপের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বানিয়েছে এমন এক কল্পিত ফুটবলার। ১৯৬৬ বিশ্বকাপ থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে সব পরিসংখ্যানের নিরিখে বানানো হয়েছে সেই ‘সেরা খেলোয়াড়’।

বিশ্বকাপে কোনো তারকার প্রখর ফুটবল-মস্তিষ্ক, কারও ডান পা কিংবা বাঁ পা, কার আবারও মাথা, ভিশন, গতি—এসব দক্ষতার মিশেলে বানানো হয়েছে এই কল্পিত ফুটবলার। বিশ্বকাপ মাতানো কিংবদন্তিদের যেসব প্রতিভাকে সেরা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে, তার পেছনেও অকাট্য যুক্তি দিচ্ছে পরিসংখ্যান।

জার্মানির সাবেক স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসা
উয়েফা ওয়েবসাইট

হেড: মিরোস্লাভ ক্লোসা

বিশ্বকাপে ম্যাচ: ২৪

ট্রফি: ১

বক্সের ভেতরে চতুর শিকারি। বাতাসে ভাসমান বলে তাঁর দক্ষতা ছিল জাদুকরী। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ডের মালিক ক্লোসা; যার মধ্যে সাতটিই এসেছে হেডে। গত ৬০ বছরে বিশ্বকাপে আর কোনো ফুটবলার হেডে এত গোল করতে পারেননি। চার বিশ্বকাপ মিলিয়ে তাঁর নেওয়া ২৬টি হেড আজও এক অনন্য রেকর্ড।

বাতাসে ক্লোসার আধিপত্যের পেছনে বড় কারিগর ছিলেন মাইকেল বালাক। হেডে ক্লোসার সেই সাতটি গোলের চারটিই এসেছে বালাকের পাস থেকে। বলের লাইনে ক্লোসার ক্ষিপ্র মুভমেন্ট, টাইমিং ও নিখুঁত ফিনিশিং সাধারণ ক্রসগুলোকেও শৈল্পিক রূপ দিয়েছে। ২০০২ বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে তাঁর হ্যাটট্রিকটি ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসে হেডে সর্বশেষ হ্যাটট্রিক। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ এই গোলদাতা আক্ষরিক অর্থেই ‘হেডমাস্টার’।

ফুটবল-মস্তিষ্ক: ডিয়েগো ম্যারাডোনা

বিশ্বকাপে ম্যাচ: ২১

ট্রফি: ১

বিশ্বকাপে যুগে যুগে অনেক প্রতিভাবান প্লেমেকার দেখা গেছে। তবে ডিয়েগো ম্যারাডোনার মতো সৃষ্টিশীল ফুটবল-মস্তিষ্কের সম্ভবত দ্বিতীয়টি নেই।

১৯৬৬ বিশ্বকাপ থেকে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, ৭.৪ ‘এক্সপেক্টেড অ্যাসিস্ট’ (গোল করানোর সম্ভাবনা) নিয়ে শীর্ষে এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের কড়া পাহারায় থেকেও সতীর্থদের জন্য গোল করার নিখুঁত সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার যে অতুলনীয় ক্ষমতা তাঁর ছিল, এই পরিসংখ্যানে তারই প্রতিফলন।

সতীর্থরাও ম্যারাডোনার বাড়ানো পাসের সদ্ব্যবহার করতে ভুল করেননি। বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার মোট গোল করানোর সংখ্যা আট। তাঁরই উত্তরসূরি আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি ছাড়া এই কীর্তি আর কারও নেই। তবে ম্যারাডোনার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘অ্যাসিস্ট’ (গোল করানো) কোনটি? নিশ্চিতভাবেই ১৯৮৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল। পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে হোর্হে বুরুচাগার জয়সূচক গোলের জন্য বাড়ানো সেই মাপা থ্রু-পাস ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক মুহূর্ত।

১৯৮৬ বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে ডিয়েগো ম্যারাডোনা
এএফপি

ভিশন: লুকা মদরিচ

বিশ্বকাপ ম্যাচ: ১৯

ট্রফি: ০

এই তালিকায় লুকা মদরিচই একমাত্র কিংবদন্তি, যাঁর হাতে কখনো বিশ্বকাপ ট্রফি ওঠেনি। সর্বশেষ দুটি আসরেই ক্রোয়েশিয়াকে শেষ তিনে নিয়ে যাওয়ার পেছনে তাঁর ভূমিকা ছিল অসামান্য। মাত্র ৪০ লাখ জনসংখ্যার একটি দেশ হয়েও ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে ক্রোয়েশিয়া যেভাবে দাপট দেখিয়েছে, তা এক বিস্ময়।

মাঠে ফাঁকফোকরগুলো মদরিচ যেভাবে খুঁজে পান, তার তুলনা পাওয়া ভার। গত দুই বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষের রক্ষণচেরা সর্বোচ্চ পাস (১৭৫) দেওয়ার রেকর্ড এই মিডফিল্ডারের। এই তালিকায় মদরিচ পেছনে ফেলেছেন মেসি, ডি ব্রুইনা ও নেইমারের মতো সৃজনশীল প্রতিভাদের। গোল করানোর পরিসংখ্যানে (১৭ ম্যাচে ১টি) তাঁর প্রভাব পুরো বোঝা যায় না। তবে এটাই তো তাঁর বিশেষত্ব; আক্রমণ গড়ে তোলার সময় মাঝমাঠের খেলা যেভাবে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখেন, সেটিই তাঁকে দলের জন্য অমূল্য সম্পদ করে তুলেছে।

আরও পড়ুন

স্ট্যামিনা: দুঙ্গা

বিশ্বকাপে ম্যাচ: ১৮

ট্রফি: ১

কল্পিত এই ‘সেরা ফুটবলার’ তৈরিতে যদি কোনো ইঞ্জিনের প্রয়োজন হয়, তবে কার্লোস দুঙ্গাই হবেন সেই আদর্শ। গত ৬০ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাসে কোনো আউটফিল্ড খেলোয়াড় তাঁর চেয়ে বেশি বল স্পর্শ (১,৯৫১ বার) করতে পারেননি। দিতে পারেননি তাঁর চেয়ে বেশি নিখুঁত পাস (১,৩০৬টি)। এমনকি সবচেয়ে বেশি ট্যাকল (৭৩টি) জেতার রেকর্ডটিও এই ব্রাজিলিয়ানের দখলে।

তবে দুঙ্গার এই দাপট কেবল সংখ্যার হিসাবে সীমাবদ্ধ ছিল না। তাঁর মুভমেন্টের মানও ছিল দেখার মতো। ব্রাজিলের অন্য সব মিডফিল্ডারের মতো হয়তো তাঁর খেলায় ‘সাম্বা’র ছন্দ বা শৈল্পিক ছোঁয়া ছিল না, কিন্তু বিনিময়ে তিনি যা দিয়েছিলেন, তা–ও ছিল সমান গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো মিডফিল্ডারের চেয়ে তাঁর ইন্টারসেপশন বা প্রতিপক্ষের বল কেড়ে নেওয়ার সংখ্যা (৪১টি) বেশি। ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ সালে ব্রাজিলকে টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন দুঙ্গা—স্রেফ এই গুণগুলোর কারণেই।

জার্মানির সাবেক ফরোয়ার্ড টমাস মুলার
মুলারের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল

ওয়ার্ক রেট: টমাস মুলার

বিশ্বকাপে ম্যাচ: ১৯

ট্রফি: ১

রাইট উইং কিংবা স্ট্রাইকারের পজিশন—টমাস মুলারের ফুটবলীয় বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে তাঁর ক্লান্তিহীন রক্ষণাত্মক প্রচেষ্টাও পাল্লা দিতে পারে।

গত চারটি বিশ্বকাপের পরিসংখ্যান বলছে, মুলারের চেয়ে বেশি ‘হাই-ইনটেনসিটি প্রেশার’ (৬৯০ বার) বা প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার কাজ আর কোনো ফুটবলার করতে পারেননি। জার্মান ফুটবলের চিরচেনা দর্শন—ডিফেন্ডারদের ব্যতিব্যস্ত রাখা, পাস দেওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া এবং রক্ষণভাগ থেকে প্রতি-আক্রমণের সুযোগ তৈরি করা—এসবের এক মূর্ত প্রতীক হলেন মুলার।

গতি: কিলিয়ান এমবাপ্পে

বিশ্বকাপে ম্যাচ: ১৪

ট্রফি: ১

‘সেরা ফুটবলার’ তৈরিতে গতির জোগান দেবেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ২০২২ বিশ্বকাপে সবচেয়ে দ্রুতগতির পাঁচটি দৌড়ের মধ্যে তিনটিই এই ফরাসি তারকার দখলে। ২০২২ বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে একটা দৌড়ে তাঁর গতি ছিল ঘণ্টায় রেকর্ড ৩৪.৭৪ কিলোমিটার।

২০১৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ তছনছ করে বিশ্ব ফুটবলে নিজের আগমনী বার্তা ঘোষণা করেন এমবাপ্পে। সেই গতি ও সোজাসুজি আক্রমণে ওঠার দক্ষতা ফুটবল–বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল। ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পে কেবল গতিতেই সেরা নন, তাঁর ফুটবলীয় চিন্তাভাবনাও দারুণ।

আর্জেন্টিনা দলের অনুশীলনে লিওনেল মেসি
মেসির ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল

দক্ষতা: লিওনেল মেসি

বিশ্বকাপে ম্যাচ: ২৬

ট্রফি: ১

কল্পিত এই ‘সেরা ফুটবলারে’র ড্রিবলিংয়ের জন্য চাই লিওনেল মেসির দক্ষতা। এই কাজে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির চেয়ে ভালো আর কেউ নেই।

অপ্টা তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণ শুরুর পর থেকে বিশ্বকাপে মেসির চেয়ে বেশি ড্রিবলিং (১১২টি) আর কেউ করতে পারেননি।

তবে মদরিচের মতো মেসির ড্রিবলিংয়ের পরিসংখ্যানও কেবল গল্পের একটি অংশ মাত্র। বিশ্বকাপে তাঁর রেকর্ড ৩৩৪টি ‘প্রগ্রেসিভ ক্যারি’ বা বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পরিসংখ্যানই তার প্রমাণ। প্রতিটি দৌড় ছিল সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে, গোলের উদ্দেশ্যে।

বাঁ পা: রিভালদো

বিশ্বকাপে ম্যাচ: ১৪

ট্রফি: ১

বিশ্বকাপে রিভালদোর করা ৮টি গোলের প্রতিটিই এসেছে বাঁ পায়ে। গত ৬০ বছরের ইতিহাসে ১০০ শতাংশ বাঁ পায়ের গোলদাতার তালিকায় তাঁর রেকর্ডই সেরা। এই ৮টি গোলও বৈচিত্র্যে ভরপুর—গোলপোস্টের কাছ থেকে সহজ ট্যাপ-ইন বা নিখুঁত ভলি, তেমনি চিপ শট আর দূরপাল্লার বুলেট গতির শট।

২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ফাইনাল জয়ে মূল নায়কদের একজন রিভালদো। তবে তাঁর এই জাদুকরী বাঁ পা কেবল গোল করার জন্যই ছিল না; বিশ্বকাপে সতীর্থ রোনালদোর তিনটি গোলেও অবদান ছিল রিভালদোর।

২০০২ বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্রাজিলের প্রথম গোলের নেপথ্যেও ছিল রিভালদোর সেই বাঁ পা। তাঁর জোরালো শট জার্মানি গোলকিপার অলিভার কান ঠিকমতো সামলাতে না পারায় হাত থেকে ফসকে যায়। ফিরতি বলে সুযোগসন্ধানী গোল করেন রোনালদো।

ব্রাজিলের হয়ে ২০০২ বিশ্বকাপ জেতেন রোনালদো
রয়টার্স

ডান পা: রোনালদো নাজারিও

বিশ্বকাপ ম্যাচ: ১৯

ট্রফি: ১

বিশ্বকাপে ডান পায়ের রাজত্ব রোনালদোর। ‘ও ফেনোমেনো’ আজও ফুটবল–বিশ্বে নিখুঁত ফিনিশিংয়ের এক অনন্য মানদণ্ড—পরিসংখ্যানও সে সাক্ষ্যই দেয়। অপ্টার তথ্যমতে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে ডান পায়ে রোনালদোর চেয়ে বেশি গোল (১১টি) আর কেউ করতে পারেননি।

২০০২ বিশ্বকাপ ছিল রোনালদোর ক্যারিয়ারের সেরা অধ্যায়। সেবার প্রতিটি ম্যাচ জিতে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শিরোপা ঘরে তুলেছিল ব্রাজিল। সর্বোচ্চ ৮ গোল করে ‘গোল্ডেন বুট’ জিতেছিলেন রোনালদো। জার্মানির বিপক্ষে ফাইনালে তাঁর ডান পায়ের জাদুকরী দুই ফিনিশিংয়ে করা গোলেই নিশ্চিত হয়েছিল ব্রাজিলের শিরোপা।

আরও পড়ুন

হাত: গর্ডন ব্যাঙ্কস

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ: ৯ ম্যাচ

ট্রফি: ১টি

ডিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হাত’ বেছে নেওয়া যেত। কারণটা বুঝতেই পারছেন, ১৯৮৬ বিশ্বকাপে তাঁর সেই ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল। তবে সেটা নেহাত রসিকতা। কারণ, প্রখর ফুটবল-মস্তিস্ক হিসেবে ম্যারাডোনার মাথাটা যে আগেই নেওয়া হয়েছে!

সময়ের সঙ্গে গোলকিপারদের ভূমিকা বদলে গেলেও প্রতিটি দলেরই পোস্টের নিচে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে এক জোড়া নিরাপদ হাত আর বিদ্যুৎগতিসম্পন্ন রিফ্লেক্স প্রয়োজন। গর্ডন ব্যাঙ্কসের মধ্যে এই দুই গুণেরই এক দারুণ সমন্বয় দেখা যায়।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্তত ৩০টি সেভ করেছেন, এমন গোলকিপারদের মধ্যে সাফল্যের হারে সবার ওপরে ব্যাঙ্কস। ৩৭টি শটের মধ্যে ৩৩টিই রুখে দিয়েছেন, সাফল্যের হার অবিশ্বাস্য—৮৯ শতাংশ। অপ্টার ‘এক্সপেক্টেড গোলস অন টার্গেট’ মডেল অনুযায়ী, ইংল্যান্ড কিংবদন্তি নিশ্চিত ৭.১টি গোল ঠেকিয়েছেন; যা রেকর্ড বই অনুসারে বিশ্বকাপজয়ী অন্য যেকোনো গোলকিপারের চেয়ে বেশি।

ইংল্যান্ড কিংবদন্তি গর্ডন ব্যাঙ্কস
রয়টার্স

ব্যাঙ্কসকে অমর করে রেখেছে ১৯৭০ মেক্সিকো বিশ্বকাপে পেলের হেড ঠেকিয়ে দেওয়ার অতিমানবিক মুহূর্ত। সেভটি এতটাই অবিশ্বাস্য ছিল যে, স্বয়ং পেলেরও বিশ্বাস হয়নি বলটি জালে জড়ায়নি!

আরও পড়ুন

অপ্টার ব্যাখ্যা

প্রত্যাশিতভাবেই তালিকায় ব্রাজিল, জার্মানি ও আর্জেন্টিনার মতো বিশ্বকাপ পরাশক্তি দেশের খেলোয়াড়দের জয়জয়কার। তবে আরও অনেকেই জায়গা পাওয়ার জোরালো দাবিদার। যেমন—ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, তেওফিলো কুবিলাস, ইয়োহান ক্রুইফ, রজার মিলা, দিনো জফ।

তবে তথ্য-উপাত্তের সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও স্বীকার করে নেওয়া প্রয়োজন। অপ্টার রেকর্ড মূলত ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত। এর আগের ম্যাচগুলোর নির্ভরযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ ভিডিও ফুটেজ পাওয়া দুষ্কর। ফলে বিশ্বকাপে অনেক কিংবদন্তি ফুটবলারই এই হিসাবের বাইরেই রয়ে গেছেন। যেমন—১৯৩০-এর দশকে ইতালির জিউসেপ্পে মিয়াজ্জা, ১৯৫০–এর দশকে উরুগুয়ের অস্কার মিগুয়েজ, ১৯৫৮ বিশ্বকাপের পেলে কিংবা একই আসরে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন ও রেমন্ড কোপা।

অপ্টার এই আয়োজনের উদ্দেশ্য খুব সুনির্দিষ্ট। ভিন্ন ভিন্ন যুগ ও প্রেক্ষাপটকে বিবেচনায় রেখে পরিসংখ্যানের বিচারে বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলারদের খুঁজে বের করা এবং তাঁদের অনন্য বৈশিষ্ট্যগুলোর সমন্বয়ে একটি ‘হাইব্রিড’ বা আদর্শ খেলোয়াড় তৈরি করা। ক্যাপ্টেন প্ল্যানেটের মতো তাঁকে আপনি বলতে পারেন বিশ্বকাপের ‘সুপার হিরো খেলোয়াড়’।

আরও পড়ুন