কুনিয়ার এই অদ্ভুত উদ্যাপনের কারণ কী
গোল করে তিনি ছুটে যান কর্নার ফ্ল্যাগের দিকে। দুই হাত নাচিয়ে, কোমর দুলিয়ে মেতে ওঠেন অদ্ভুত এক উদ্যাপনে—ঠিক যেন সমুদ্রে ঢেউয়ের সঙ্গে নাচছেন কোনো সার্ফার! ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে ব্রাজিল—সবখানেই এখন ‘ট্রেডমার্ক’ হয়ে গেছে মাতেউস কুনিয়ার এই অনন্য উদ্যাপন।
আজ হাইতির ম্যাচেও দেখা গেছে তা। নিজেই শুধু নাচেননি, পুরো ব্রাজিল দলকেও এর সঙ্গী করে ফেলেছেন। কিন্তু কুনিয়ার এই অদ্ভুত নাচের সঙ্গে সার্ফিংয়ের সম্পর্ক কী? কেন সবুজ মাঠকে নিজের ব্যক্তিগত সমুদ্রসৈকত বানিয়ে ফেলছেন ব্রাজিলের এই ফরোয়ার্ড?
ব্রাজিলের উত্তর–পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রতীরের এক শহর জোয়াও পেসোসা। এই শহরেই জন্ম কুনিয়ার, বেড়ে ওঠা এখানেই। ক্লাব ক্যারিয়ারে জার্মানি, স্পেন হয়ে পাড়ি জমিয়েছেন ইংল্যান্ডে।
উলভস থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দিয়েছেন গত মৌসুমেই। ইউনাইটেডের লাল জার্সিতে গত মৌসুমে গোল করার পর কুনিয়ার এই নাচ নিয়মিত হয়ে গেছে। সেটি এবার নিয়ে এসেছেন নিজের প্রথম বিশ্বকাপে।
হাইতির সঙ্গে প্রথম গোলের পর এই নাচ নেচেছেন। দ্বিতীয় গোলে অবশ্য নাচার আগে একটু ডাইভ দিয়েছেন মাঠে, সার্ফ বোর্ডে ভেসে থাকার জন্য একজন ডাইভার যেমন করেন!
কুনিয়ার এই নাচের উৎস ওই সার্ফ বোর্ডই। সাগরপারের ছেলে, অবসরে তাই সুযোগ পেলেই ছুট সমুদ্রসৈকতে। কয়েক বছর ধরেই মজেছেন সার্ফিংয়ে। ইংল্যান্ডে এসে একটু মুশকিল হয়েছে অবশ্য। এখানে সূর্য ওঠে না তেমন, পানিও ঠান্ডা।
কুনিয়া তাই ছুটি পেলেই চলে যান নিজের দেশে। সেখানে বন্ধুদের সঙ্গে নেশা হয়ে গেছে এই সার্ফিং। বন্ধুরাই তাঁকে বলেছেন, যেন গোল করার পর সার্ফিংয়ের এই উদ্যাপন করেন।
গত বছর প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুলের বিপক্ষে গোল করার পর কুনিয়া ব্যাখ্যা করছিলেন, ‘ব্রাজিলে গেলেই আমার বন্ধুরা বলে, “তুই তো সার্ফ করতে পারিস না। আগে তোকে প্যাডল আপ করে সার্ফ বোর্ডে দাঁড়িয়ে থাকা শিখতে হবে।” আমি বলেছি, ঠিক আছে, আরও ভালো করতে হবে। আমি ফুটবল আর সার্ফিং—দুটিই ভালোবাসি। এই দুটিই আমার জীবনের অংশ।’
ব্রাজিল তো চাইবেই, কুনিয়ার এই উদ্যাপন চলতেই থাকুক, আর পুরো ব্রাজিল দল এমন সার্ফিং করতেই থাকুক!