আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী খেলোয়াড়কে কেনার বকেয়া শোধ করতে না পেরে নিষিদ্ধ ব্রাজিলের ক্লাব
ফিফার নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে ব্রাজিলের ক্লাব বোতাফোগো। আর্জেন্টাইন তারকা থিয়াগো আলমাদাকে দলে নেওয়া–সংক্রান্ত বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করায় ক্লাবটির ওপর টানা তিনটি দলবদলের মৌসুমে খেলোয়াড় নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বিশ্ব ফুটবলের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বুধবার ফিফা জানায়, মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ক্লাব আটলান্টা ইউনাইটেডের অভিযোগের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার আলমাদাকে ২০২৪ সালে বোতাফোগোর কাছে বিক্রির সময় চুক্তি অনুযায়ী ২ কোটি ১০ লাখ ডলার ট্রান্সফার ফি এখনো পরিশোধ করা হয়নি। ফিফার ‘রেজিস্ট্রেশন ব্যান’ তালিকায় এই শাস্তি যুক্ত করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে।
২৪ বছর বয়সী আলমাদা বোতাফোগোর হয়ে ব্রাজিলিয়ান লিগ শিরোপা ও কোপা লিবার্তাদোরেস জিতেছেন। এরপর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে ধারে ফরাসি ক্লাব লিওঁতে পাঠানো হয়। চলতি বছর জুলাইয়ে আলমাদাকে স্প্যানিশ জায়ান্ট আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে বিক্রি করে দেয় বোতাফোগো।
২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী জন টেক্সটর বোতাফোগো ক্লাবটি কিনে নেন। ক্লাবটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা আটলান্টা ইউনাইটেডের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।
বিবৃতিতে ক্লাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘ছুটির মৌসুমের কারণে আলোচনা সাময়িকভাবে স্থগিত আছে। খুব শিগগির আবার আলোচনা শুরু হবে। জানুয়ারির ট্রান্সফার উইন্ডো শুরুর আগেই বা শুরুর সময় আমরা সমাধানে পৌঁছাতে আশাবাদী।’
জন টেক্সটর তাঁর ‘ইগল ফুটবল হোল্ডিংস’-এর মাধ্যমে বোতাফোগো ও লিওঁ—দুই ক্লাবেরই মালিক। এ ছাড়া চলতি বছরের শুরুর দিক পর্যন্ত ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ক্রিস্টাল প্যালেসেও তাঁর অল্প কিছু শেয়ার ছিল।
বর্তমানে ঋণসংক্রান্ত নানা আইনি জটিলতায় রয়েছে বোতাফোগো ও লিওঁ। টেক্সটরের এই মালিকানাজনিত দ্বন্দ্বের কারণেই ইউরোপা লিগে জায়গা পাওয়ার পরও চলতি মৌসুমে ক্রিস্টাল প্যালেসকে ইউরোপা কনফারেন্স লিগে নামিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে লিওঁ ইউরোপার দ্বিতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় (ইউরোপা লিগ) খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। তবে গত মৌসুমে নিজেদের ঘরোয়া লিগে ক্রিস্টাল প্যালেসের চেয়ে ভালো অবস্থানে থাকায় তারা সেই জায়গা ধরে রাখতে পেরেছে।