আফকন ফাইনালে যা ঘটেছিল, সেনেগাল–মরক্কোর ১২ কোটি টাকা জরিমানা

আফ্রিকান কাপ নেশনসের ফাইনালে এমন দৃশ্য অনেকবারই দেখা গেছেএএফপি

আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের (আফকন) ফাইনালে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা, মাঠ থেকে দল তুলে নেওয়ার প্রতিবাদ এবং হাতাহাতির ঘটনায় সেনেগাল ও মরক্কোর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি ঘোষণা করেছে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ)। বুধবার সংস্থাটি মোট ১০ লাখ ডলারের (প্রায় ১২ কোটি ২৩ লাখ টাকা) বেশি জরিমানা এবং সেনেগালের কোচসহ দুই দলের চার ফুটবলারকে নিষিদ্ধ করেছে।

তবে সিএএফ জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধু আফ্রিকান টুর্নামেন্টের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। আগামী জুনে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে এর কোনো প্রভাব পড়বে না। শাস্তি পাওয়া সেনেগাল ও মরক্কো দুই দলই বিশ্বকাপে আছে। ১৮ জানুয়ারি রাবাতে অনুষ্ঠিত মরক্কো–সেনেগাল ফাইনালে যে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছিল, তা আফ্রিকান ফুটবলের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

যাদের ওপর খড়্গ নেমে এল

খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সমর্থকদের অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের দায়ে সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশনকে ৬ লাখ ১৫ হাজার ডলার (প্রায় ৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা) এবং মরক্কো ফেডারেশনকে ৩ লাখ ১৫ হাজার ডলার (প্রায় ৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা) জরিমানা করা হয়েছে।

পাঁচ ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছেন সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও
এএফপি

ম্যাচের মূল ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে স্বাগতিক মরক্কোর পক্ষে পেনাল্টি দেওয়ার প্রতিবাদে তিনি সেনেগাল খেলোয়াড়দের মাঠ থেকে তুলে নেন। খেলাটিকে ‘কলঙ্কিত’ করার দায়ে থিয়াওকে আফ্রিকান টুর্নামেন্টে পাঁচ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ এবং ব্যক্তিগতভাবে ১ লাখ ডলার (প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ টাকা) জরিমানা করা হয়েছে।

খেলোয়াড়দের মধ্যে সেনেগালের ইলিমান এনদিয়ায়ে ও ইসমাইলা সার এবং মরক্কোর তারকা ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমিকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের জন্য মরক্কোর ইসমায়েল সাইবারিকে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ১ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

মাঠে কী ঘটেছিল

রাবাতের সেই উত্তপ্ত ফাইনালে বিশৃঙ্খলা চরমে পৌঁছায়। সেনেগালের ওয়াকআউটের কারণে প্রায় ১৫ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। খেলা আবার শুরুর পর মরক্কো সেই পেনাল্টি মিস করে এবং অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলের জয়ে আফ্রিকান শিরোপা ঘরে তোলে সেনেগাল।

মারামারিতে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে
এএফপি

ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারি থেকে সমর্থকদের মাঠে ঢুকে পড়ার চেষ্টা, সাইডলাইনে খেলোয়াড়দের হাতাহাতি ও প্রেস বক্সে দুই দেশের সাংবাদিকদের মারামারির ঘটনাও ঘটে। এমনকি একটি অদ্ভুত ঘটনায় মরক্কোর বল বয়রা সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্দির মনোযোগ নষ্ট করতে তার তোয়ালে কেড়ে নেওয়ার চেষ্টাও চালান। বল বয়দের এই আচরণের জন্য মরক্কো ফেডারেশনকে আলাদাভাবে ২ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিশ্বকাপ আয়োজকের ভাবমূর্তিতে আঘাত

২০৩০ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হিসেবে স্পেন ও পর্তুগালের সঙ্গে থাকছে মরক্কো। কিন্তু ঘরের মাঠে আফ্রিকা কাপের এই ‘লজ্জাজনক’ ফাইনাল মরক্কোর ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। মরক্কোর কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুই মেনে নিয়েছেন যে এই ম্যাচ আফ্রিকান ফুটবলের জন্য একটি ‘লজ্জাজনক’ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

এদিকে সেনেগালের ওয়াকআউটের কারণে ম্যাচের ফলাফল বাতিল করে মরক্কোকে বিজয়ী ঘোষণার যে আপিল করা হয়েছিল, তা খারিজ করে দিয়েছে আফ্রিকান ফুটবল সংস্থা।

সাদিও মানের সেনেগাল জিতেছে আফ্রিকান কাপ অব নেশনস
এএফপি

কূটনৈতিক সম্পর্কেও আঁচ

খেলার মাঠের এই উত্তেজনা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও টানাপোড়েন সৃষ্টি করে। মরক্কোতে সাব-সাহারান আফ্রিকানদের লক্ষ্য করে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের অভিযোগ তোলে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো। তবে পরিস্থিতি শান্ত করতে দুই দেশের রাজনৈতিক নেতারা এগিয়ে এসেছেন। সেনেগালের প্রধানমন্ত্রী উসমানে সলকো মরক্কো সফরে গিয়ে এই ঘটনাকে রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক ফাটল হিসেবে না দেখে ‘আবেগের বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন