মেক্সিকোয় বিশ্বকাপ আয়োজক শহরের কাছে সহিংসতা, স্থগিত লিগের চার ম্যাচ
মেক্সিকোর সেনাবাহিনীর অভিযানে কুখ্যাত মাদক চক্রের প্রধান নিহত হওয়ার পর রোববার দেশটির লিগের চারটি গুরুত্বপূর্ণ ফুটবল ম্যাচ স্থগিত করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ফিফা বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক শহর গুয়াদালাহারার কাছাকাছি।
ইএসপিএন জানিয়েছে, মেক্সিকোর শীর্ষ লিগে ছেলেদের কেরেতারো–জুয়ারেজ এফসি এবং মেয়েদের চিভাস–আমেরিকার ম্যাচ স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি দ্বিতীয় বিভাগের আরও দুটি ম্যাচও বাতিল করা হয়েছে।
আগামী বুধবার কেরেতারোর কোরেগিদোরা স্টেডিয়ামে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে মেক্সিকো জাতীয় দলের একটি প্রীতি ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে প্রীতি ম্যাচটি স্থগিত হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো ঘোষণা দেয়নি মেক্সিকান ফুটবল ফেডারেশন।
মেক্সিকোভিত্তিক একটি শক্তিশালী মাদক চক্র বা অপরাধী সংগঠন হচ্ছে জালিস্কো নিউ জেনারেশন (সিজেএনজি)। এই সংগঠনের প্রধান নেমেসিও ওসেগুয়েরা সারভান্তেস, যিনি ‘এল মেনচো’ নামে পরিচিত। রোববার জালিস্কো অঙ্গরাজ্যের তাপালপা শহরে সেনাবাহিনী ও এল মেনচোর সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।
শহরটি গুয়াদালাহারা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টার পথ। এই সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন এল মেনচো। পরে তাঁকে মেক্সিকো সিটিতে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। নেতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই মেক্সিকোর অন্তত আটটি রাজ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।
বিভিন্ন স্থানে প্রায় এক ডজন গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়, সড়ক অবরোধে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সহিংস পরিস্থিতির কারণে জালিস্কোর গভর্নর পাবলো লেমুস নাভারো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজ্যজুড়ে বিশেষ সতর্কতা জারির ঘোষণা দেন এবং বাসিন্দাদের ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। পরিস্থিতির অবনতির কারণে রাজ্যজুড়ে সাময়িকভাবে গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে।
ধারণা করা হয়, সিজেএনজির সদস্যসংখ্যা প্রায় ১৯ হাজার। সংগঠনটি মেক্সিকোর ৩২ অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ২১টিতে সক্রিয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন একে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। এল মেনচোর মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছিল ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
এদিকে গুয়েরেরো অঙ্গরাজ্যের আকাপুলকো শহরের জিএনপি অ্যারেনায় সোমবার শুরু হচ্ছে এটিপি টেনিস টুর্নামেন্ট ‘মেক্সিকান ওপেন’। আয়োজকেরা রোববার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘টুর্নামেন্টের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলছে।’ জালিস্কোর রাজধানী গুয়াদালাহারায় আগামী জুনে বিশ্বকাপের চারটি ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার দুটি ম্যাচ রয়েছে। স্পেন, উরুগুয়ে ও কলম্বিয়াও সেখানে খেলবে। বিশ্বকাপের আগে এমন সহিংসতা স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াবে।