২৫ বছর পর রোমানিয়ার দায়িত্বে ফিরলেন ‘কার্পেথিয়ান্সের ম্যারাডোনা’ হ্যাজি

গিওর্গি হ্যাজিএএফপি

২৫ বছর পর রোমানিয়া জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্বে ফিরলেন কিংবদন্তি ফুটবলার গিওর্গি হ্যাজি। রোমানিয়া ফুটবল ফেডারেশন আজ তাঁর নিয়োগের খবরটি নিশ্চিত করেছে।

আশি ও নব্বইয়ের দশকের বিশ্বসেরা ফুটবলারদের একজন হিসেবে বিবেচিত হ্যাজি রোমানিয়া জাতীয় দলে মিরচা লুচেস্কুর স্থলাভিষিক্ত হলেন। তুরস্কের কাছে প্লে-অফ হেরে রোমানিয়া ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাই থেকে ছিটকে যাওয়ার পর চলতি মাসের শুরুর দিকে কোচের দায়িত্ব ছেড়ে দেন লুচেস্কু। দায়িত্ব ছাড়ার মাত্র পাঁচ দিন পর ৮০ বছর বয়সে মারা যান।

রোমানিয়া জাতীয় দলের সঙ্গে চার বছরের চুক্তি করেছেন হ্যাজি। দেশটির ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, ২০২৮ ইউরো এবং ২০৩০ বিশ্বকাপ—এই দুটি টুর্নামেন্টের বাছাইপর্বের চক্রের জন্য হ্যাজির সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরে নেশনস লিগের ‘বি’ গ্রুপে অভিযান শুরুর আগে জুনে জর্জিয়া ও ওয়েলসের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে রোমানিয়া।

রোমানিয়ান ফুটবলে কিংবদন্তি মর্যাদা পেয়েছেন হ্যাজি
এএফপি

এই নিয়োগের মাধ্যমে দুই দশকের বেশি সময় পর আবারও রোমানিয়া জাতীয় দলের ডাগআউটে ফিরলেন হ্যাজি। এর আগে ২০০১ সালে প্রথম দফায় দলটির কোচের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তবে সেই যাত্রা স্থায়ী হয়েছিল তিন মাসের কম সময়।

‘কার্পেথিয়ান্সের ম্যারাডোনা’ খ্যাত সাবেক এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার রোমানিয়ার হয়ে ১২৪ ম্যাচ খেলেছেন। দেশের হয়ে তিনটি বিশ্বকাপ ও তিনটি ইউরোতে অংশ নিয়েছেন। ৩৫ গোল করে আদ্রিয়ান মুতুর সঙ্গে যৌথভাবে রোমানিয়ার ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাও হ্যাজি।

আরও পড়ুন

দেশের জাতীয় দলের দায়িত্বে ফেরার পর বুখারেস্টে সংবাদ সম্মেলনে হ্যাজি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো প্রতিটি ম্যাচ জেতা। আমাদের লক্ষ্য নেশনস লিগ জেতা এবং (২০২৮) ইউরোতে কোয়ালিফাই করা।’ নিজের লড়াকু মানসিকতার তুলে ধরে হ্যাজি যোগ করেন, ‘আমি জন্মেছি জেতার জন্য, কেবল টিকে থাকার জন্য নয়। আপনারা কি আমার মূলমন্ত্র জানেন না?’

লুচেস্কুর হাত ধরেই ১৮ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল হ্যাজির। পরে হ্যাজির বয়স যখন মাত্র ২০, তখন তাঁকে অধিনায়কের দায়িত্বও দিয়েছিলেন লুচেস্কু। সংবাদ সম্মেলনে প্রয়াত এ কোচকে নিয়ে হ্যাজি বলেন, ‘তিনি (লুচেস্কু) চেয়েছিলেন আমিই যেন কোচের দায়িত্ব নিই।’

খেলোয়াড়ি জীবনে জাদুকরি বাঁ পায়ের জন্য বিখ্যাত ছিলেন স্টুয়া বুখারেস্ট, বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদে খেলা এই কিংবদন্তি। তুর্কি ক্লাব গালাতাসারাইয়েও দীর্ঘদিন খেলেছেন। পপেস্কু-হ্যাজিদের সোনালি প্রজন্মে ভর করে ১৯৯৪ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল রোমানিয়া। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের পর রোমানিয়া আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি।

আরও পড়ুন