ইনফান্তিনো কথা বলবেন ‘সঠিক জায়গায়, সঠিক সময়ে’
জুলাইয়ের শেষ দিকে তাঁর বিতর্কিত পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই অনেকটা আড়ালে ছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্বকাপসহ ফিফা টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির সেই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত চার দিনের মধ্যেই গুটিয়ে নিতে হয়েছিল তাঁকে। এরপর তাঁর পদত্যাগের সম্ভাবনা, আগামী বছরের নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদে প্রার্থী হওয়া—সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু কোনো প্রশ্নেরই উত্তর দেননি ফিফা সভাপতি।
বিতর্কিত সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর ফিফা আয়োজিত প্রথম টুর্নামেন্ট অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ। শনিবার উদ্বোধনী দিনে স্বাগতিক পোল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার ম্যাচ দেখতে আরেনা কাতোভিৎসায় হাজির ছিলেন ইনফান্তিনো। সেখানেই ৫৬ বছর বয়সী এই সুইস-ইতালিয়ানকে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম স্কাই নিউজকে তিনি বলেন, ‘অনেক কিছু বলার আছে। তবে তা বলার সঠিক জায়গা ও সঠিক সময় আছে। আজ নয়, এখানে নয়। এখানে এবং আজ আমরা ফুটবল উপভোগ করছি।’
এরপর প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে ফিফার কর্মকাণ্ডের কথা বলেন ইনফান্তিনো। তাঁর নেতৃত্বাধীন সংস্থার কাজ তুলে ধরে বলেন, ‘ফিফায় আমরা অবিরাম কাজ করে যাচ্ছি যাতে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্ত সুযোগ, সম্ভাবনা ও মর্যাদা পায়। তারা যেন নিজেদের আরও উন্নত করার এবং আমাদের সবার প্রিয় এই ফুটবল উদ্যাপনে অংশ নেওয়ার পথ ও উপায় খুঁজে নিতে পারে।’
জুলাইয়ে বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার কিছুদিন পর ইনফান্তিনোর ২০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আসে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফিফার টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নামের প্রতিষ্ঠান খুলে সেটির ২০ শতাংশ মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির কথা ছিল। তহবিলটি তৈরি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতার ভাই জশুয়া কুশনার। ফিফার ২১১টি সদস্য ফেডারেশনকে প্রত্যেককে ২ কোটি ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাবও ছিল।
পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আসার পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফার পাশাপাশি এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন ও উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা কনকাকাফও এর বিরোধিতা করে। ফিফার কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাও পরিকল্পনাটির সমালোচনা করেন। শেষ পর্যন্ত মাত্র চার দিনের মাথায় প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করে নেন ইনফান্তিনো।
বিতর্ক অবশ্য সেখানেই থামেনি। পরিকল্পনাটি ঘিরে আইনি লড়াইও চলছে। বৃহস্পতিবার আদালতে দেওয়া এক নথিতে ফিফা উয়েফার বিরুদ্ধে ‘ফিফা ও এর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর’ অভিযোগ করেছে। অন্যদিকে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় কী ধরনের তথ্যপ্রমাণ আদান-প্রদান হয়েছিল, তা জানতে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে উয়েফাও।
এর মধ্যে গত সপ্তাহে ইউরোপের দেশগুলো অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি থেকে সরে এসেছে। ফিফা তাদের আশ্বস্ত করেছে, বিতর্কিত বাণিজ্যিক পরিকল্পনাটি আর ফিরিয়ে আনা হবে না।
আগামী বছরের মার্চে ফিফা সভাপতি পদে নির্বাচন হওয়ার কথা। উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন, ইনফান্তিনোকে সরে যেতে হবে নয়তো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে।