ইনফান্তিনোকে নিয়ে প্লাতিনি—‘জানতাম, টাকাপয়সা আর ক্ষমতা খুব ভালোবাসে সে’

মিশেল প্লাতিনি ও জিয়ান্নি ইনফান্তিনোপ্রথম আলো গ্রাফিকস

মিশেল প্লাতিনি যখন উয়েফা সভাপতি, তাঁর অধীনে সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সময়ের ফেরে সেই ইনফান্তিনো এক দশক ধরে ফিফা সভাপতি, আর প্লাতিনি ফুটবল দুনিয়ায় প্রায় বহিরাগত। সম্প্রতি ফিফার টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা প্রস্তাব করে ইনফান্তিনো যে তোপের মুখে পড়েছেন, এবার সেই মিছিলে যোগ দিয়েছেন ফরাসি তারকা প্লাতিনি।

৭১ বছর বয়সী এই সাবেক ফুটবলার ও প্রশাসক চান, ইনফান্তিনোকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হোক। উয়েফায় নিজের সাবেক সহকর্মী সম্পর্কে মূল্যায়ন—‘আমি জানতাম, সে টাকাপয়সা আর ক্ষমতা খুব ভালোবাসে।’

সেপ ব্লাটারের পর ফিফার পরবর্তী সভাপতি হওয়ার আলোচনায় ছিলেন প্লাতিনি। কিন্তু ২০১৫ সালে দুর্নীতির অভিযোগে ফুটবলীয় কার্যক্রম থেকেই সরে যেতে হয় তাঁকে। ২০২৫ সালে সব অভিযোগ থেকে খালাস পাওয়ার পর থেকে আবার ধীরে ধীরে সরব হচ্ছেন ফ্রান্সের সাবেক এই ফুটবলার। সম্প্রতি তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ার নিয়ে তৈরি একটি তিন পর্বের তথ্যচিত্র প্রচার করেছে কানাল প্লাস। রোববার ফরাসি টেলিভিশনটির কানাল ফুটবল ক্লাব অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্লাতিনি কথা বলেন এখনকার ফুটবল প্রশাসন নিয়েও।

উয়েফা থেকে চাপের মুখে রয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
রয়টার্স

বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলো আয়োজনের জন্য একটি কোম্পানি খুলে সেটির ২০ শতাংশ মালিকানা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা প্রস্তাব উত্থাপন করে তোপের মুখে পড়েন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো। উয়েফা তাঁর পদত্যাগ চায়। প্লাতিনি একই মত পোষণ করে বলেছেন, ‘তাকে চলে যেতেই হবে। অর্থনৈতিক বিষয় এক জিনিস, কিন্তু ইনফান্তিনো ব্যর্থ হয়েছে। কারণ, সে খেলার নিয়মকানুনের রক্ষক, অথচ সে নিজেই নিয়মগুলোকে সম্মান করেনি।’

আরও পড়ুন

সম্প্রতি শেষ হওয়া বিশ্বকাপে বেশ কয়েকটি বিতর্কে জড়িয়েছিলেন ইনফান্তিনো। ম্যাচের প্রতিটি অর্ধে প্রায় চার মিনিটের হাইড্রেশন ব্রেক এবং ফাইনালে অনুষ্ঠানের কারণে বিরতি ১৫ মিনিটের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোন করার পর যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা ফিফা তুলে নেওয়ায় বিতর্ক অন্য মাত্রা পায়।
প্লাতিনির চোখে এর মধ্যে শেষ ঘটনাটিই সবচেয়ে গুরুতর। তিনি বলেছেন, ‘বিজ্ঞাপন বিরতির নিয়ম নেই, ফাইনালের ৩০ মিনিটের হাফটাইমও নিয়মে নেই। আর লাল কার্ডের ব্যাপারটি সবচেয়ে খারাপ। সে নিয়মের রক্ষক। অথচ সে নিয়মগুলো মানে না। তাকে চলে যেতে হবে।’

উয়েফার পাশাপাশি কনক্যাকাফ ও এশিয়ার ফুটবল কর্মকর্তারাও ইনফান্তিনোর ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন। তবে প্লাতিনি মনে করেন, ইনফান্তিনোর পতন ঘটাতে আরও একটি উদ্যোগ দরকার, ‘খেলাধুলার প্রতিষ্ঠানগুলো এটা সমাধান করবে না বা তাকে নামাতে পারবে না। উয়েফা যদি ইনফান্তিনোকে নামাতে চায়, তাহলে আদালতের মাধ্যমেই তা করতে হবে।’

আরও পড়ুন

এরপরই প্লাতিনি বলেছেন, ‘আমি সব সময়ই জানতাম, সে টাকাপয়সা ও ক্ষমতা ভালোবাসে।’ প্লাতিনি দুর্নীতির অভিযোগ ফুটবল থেকে সরে যাওয়ার পর ২০১৬ সালে ফিফা সভাপতি হন ইনফান্তিনো। তবে তাঁর ভাষায়, ইনফান্তিনো তাঁকে ফিফার সভাপতি হওয়ার পথ থেকে সরাননি। তবে তাঁর পতনের সুযোগ নিয়েছেন, ‘সে আমাকে নামায়নি, সে এ থেকে লাভবান হয়েছে।’

ফ্রান্সের ফুটবল কিংবদন্তি মিশেল প্লাতিনি
রয়টার্স

তবে ইনফান্তিনোকে সন্দেহের ঊর্ধ্বেও রাখছেন না প্লাতিনি, ‘এখন তার বিরুদ্ধে সারা বিশ্বে অনেক তদন্ত হচ্ছে। নির্দিষ্ট কিছু বিষয় সম্পর্কে সে কী জানত, তা নিয়েও নানা কথা উঠছে। দেখা যাক এরপর কী হয়।’

ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আইনি পথেও এগিয়েছেন প্লাতিনি। ২০১৫ সালে ফিফা সভাপতি নির্বাচিত হওয়া ঠেকাতে তাঁর বিরুদ্ধে যেসব কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল, সেগুলোর কারণে ক্ষতিপূরণ চেয়ে ফ্রান্সে মামলা করেছেন তিনি। ইনফান্তিনোর পাশাপাশি সাবেক ফিফা কর্মকর্তা মার্কো ভিলিগার ও দোমেনিকো স্কালাকেও ওই মামলায় আসামি করা হয়েছে। মিথ্যা অভিযোগ আনার ষড়যন্ত্র, প্রভাব খাটানোর চেষ্টা এবং প্রভাব খাটাতে সহায়তার অভিযোগ তুলেছেন প্লাতিনি।

আরও পড়ুন