‘সবচেয়ে ভালো’ খেলেও হার, কাবরেরা বললেন—‘মেনে নেওয়া কঠিন’
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচটাও বাংলাদেশ সমর্থকদের হারের হতাশায় পুড়িয়েছে। আজ সিঙ্গাপুরের জাতীয় স্টেডিয়ামে তাদের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরেছেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
এমন হার মেনে নিতেই যেন কষ্ট হচ্ছে বাংলাদেশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরার। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে কাবরেরা বলেন, ‘এই ফলাফল মেনে নেওয়া খুব কঠিন। সম্ভবত পুরো গ্রুপ পর্বে এটাই ছিল আমাদের সেরা পারফরম্যান্স। আমার মনে হয়, দল জয় পাওয়ার যোগ্য ছিল, অন্তত একটি পয়েন্ট তো বটেই। আমি আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্বিত, এটাই এখন সবচেয়ে বড় কথা।’
এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার সুযোগ আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের। বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচটিতেও হার সঙ্গী হলো। সব মিলিয়ে ৬ ম্যাচে বাংলাদেশের জয় একটি—গত নভেম্বরে ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে। বাকি ৫ ম্যাচের তিনটিতে হার ও দুটিতে ড্র। ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে থেকে বাছাইপর্ব শেষ করল বাংলাদেশ।
পয়েন্ট টেবিলে পিছিয়ে থাকলেও দলের খেলায় উন্নতির ছাপ দেখছেন কাবরেরা। তাঁর মতে, ‘আমাদের ইতিবাচক থাকতে হবে। অনেক কিছুই পাল্টাচ্ছে। মাঠের খেলায় আমাদের মান নিশ্চিতভাবেই উন্নত হচ্ছে। আমরা এখন অনেক বেশি অভিজ্ঞ ও পেশাদার। খেলোয়াড়েরা এখন জানে, কীভাবে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, আমরা অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ছি না। অনেকগুলো ভালো দিক উঠে এসেছে।’
তবে দলের পুরোনো রোগ ‘ফিনিশিং’ নিয়ে আক্ষেপ ঝরেছে কোচের কণ্ঠে। আজ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বেশ কিছু সহজ সুযোগ নষ্ট করেছে বাংলাদেশ। কাবরেরা মনে করেন, এই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা জরুরি। তিনি আরও বলেন, ‘সিঙ্গাপুরের মতো দল আজ একটি সুযোগ পেয়েই গোল করে দিল। এই জায়গাতেই আমাদের ঘাটতি। যদি আমরা এ জায়গায় উন্নতি করতে পারি, তবে আগামী কয়েক বছরে বাংলাদেশ র্যাঙ্কিংয়ে ২০-৩০ ধাপ এগিয়ে যাবে।’
২০২২ সালে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নেওয়া কাবরেরার চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৩০ এপ্রিল। চুক্তি নবায়ন হবে কি না, তা নিয়ে এখনই পরিষ্কার করে কিছু বলেননি তিনি। তবে দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর পরামর্শ, ‘দেখা যাক কী হয়, হাতে এখনো এক মাস সময় আছে। তবে আমার পরামর্শ হলো, আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। কে কোচ থাকল, সেটা বড় কথা নয়; বড় হলো সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং দূরদর্শিতা নিয়ে দলটিকে গড়ে তোলা।’
কাবরেরার অধীন এখন পর্যন্ত ৩৯ ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ, যেখানে ১৯ হারের বিপরীতে জয় ১০টি, বাকি ১০টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। পরিসংখ্যানের এই হার-জিতের খতিয়ান নিয়ে খুব একটা তৃপ্ত নন এই স্প্যানিশ কোচ। তাঁর সংক্ষিপ্ত মূল্যায়ন, ‘আমার সময়ে যা একটু কম ছিল, তা হলো ইতিবাচক ফলাফল।’