ইউরোপীয় ফুটবলে মেরি-লুইসের নতুন ইতিহাস

মেরি-লুইস এতাইনস্টাগ্রাম/মেরি-লুইস এতা

ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে পুরুষ দলের কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন মেরি-লুইস এতা। জার্মানির বুন্দেসলিগার দল ইউনিয়ন বার্লিন তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। মেরি-লুইস এর আগে দলটির সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করেছিলেন।

শনিবার বুন্দেসলিগার তলানির দল এফসি হাইডেনহেইমের কাছে ইউনিয়ন বার্লিনের ৩-১ গোলে হারের পর বরখাস্ত হন স্টিফেন বাউমগার্ট। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে মৌসুমের শেষ পর্যন্ত কাজ করবেন মেরি-লুইস।

৩৪ বছর বয়সী মেরি-লুইস এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বরে ইউনিয়ন বার্লিনের সহকারী কোচ হয়েছিলেন, সেটি ছিল বুন্দেসলিগায় প্রথম নারী সহকারী কোচ হওয়ার ঘটনা। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তৎকালীন ম্যানেজার নেনাদ বিয়েলিকা তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়লে ডার্মস্ট্যাটের বিপক্ষে তিনি ডাগআউটে ছিলেন। সেটি ছিল বুন্দেসলিগায় প্রথম নারী কোচ হিসেবে টাচলাইনে দাঁড়ানোর কৃতিত্ব। ম্যাচটিতে ১-০ গোলে জিতেছিল মেরি-লুইসের দল।

জার্মানি নারী যুব দলের হয়ে খেলা মেরি-লুইস টারবাইন পটসডামের হয়ে নারী চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ইউনিয়ন বার্লিনের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন। আগামী গ্রীষ্মে ক্লাবটির নারী দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করার কথা রয়েছে তাঁর।

ইউনিয়ন বার্লিন পুরুষ দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন মেরি-লুইস এতা
ইনস্টাগ্রাম/মেরি-লুইস এতা

ইউনিয়ন বার্লিনের পুরুষ ফুটবল দলের পরিচালক হর্স্ট হেল্ট বলেন, ‘মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের পারফরম্যান্স হতাশাজনক। যে কারণে আমাদের মনে হচ্ছে না যে বর্তমান কাঠামো দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো যাবে। তাই আমরা নতুনভাবে শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

১৮ দলের বুন্দেসলিগায় ইউনিয়ন বার্লিন ১১ নম্বরে আছে। চলতি ২০২৬ সালে দলটি লিগে ১৪ ম্যাচের মাত্র দুটিতে জিতেছে।

অবনমন প্লে-অফ পজিশনে থাকা সেন্ট পাউলির চেয়ে মাত্র ৭ পয়েন্ট পেছনে থাকার দিকে ইঙ্গিত করে নতুন মেরি-লুইস বলেন, ‘বুন্দেসলিগায় আমাদের অবস্থান এখনো নিরাপদ নয়। ক্লাব এই চ্যালেঞ্জিং কাজের জন্য আমার ওপর আস্থা রাখায় আমি আনন্দিত। ইউনিয়নের অন্যতম শক্তি সব সময়ই ছিল এবং এখনো আছে, আর সেটা হচ্ছে এমন পরিস্থিতিতে সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ থাকা।’ অবনমন এড়াতে প্রয়োজনীয় পয়েন্ট তাঁর নেতৃত্বে দল তুলতে পারবে বলে আত্মবিশ্বাসী মেরি-লুইস।

অলিম্পিক ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, পেশাদার পুরুষ ফুটবল দলে বিশ্বের প্রথম নারী কোচ ইতালির ক্যারোলিনা মোরাসি। তিনি ১৯৯৯ সালে সিরি সিওয়ানের (ইতালিয়ান ফুটবলের তৃতীয় স্তর) দল ভিতারবেসেতে প্রধান কোচ হয়েছিলেন, যদিও দুই ম্যাচ পরই তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।

আরও পড়ুন