সেবার ১৬ জুন থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ বিশ্বকাপে ২৬ খেলায় হয় ১৪০ গোল। নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বলেছিলেন, ফরাসি ভাষায় অসম্ভব শব্দটি নেই। নেপোলিয়নের মতো ১৯৫৪ বিশ্বকাপও বলতে পারে, অসম্ভব হয়তো নয়, তবে এই বিশ্বকাপে ম্যাচপ্রতি ৫.৩৮ গোলের রেকর্ড ভাঙা চাট্টিখানি কথা নয়!

প্রমাণ? রেকর্ডটি এখনো বিশ্বকাপের কোনো সংস্করণেই ভাঙা যায়নি। আর বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেরা দলের ফাইনালে হেরে যাওয়ার যে ইতিহাস, তার শুরুটাও এই আসর দিয়েই। হাঙ্গেরির ‘ম্যাজিক্যাল ম্যাগিয়ার্স’দের সেবার কাপ না জেতা ক্রীড়া ইতিহাসের সর্বকালের সেরা অঘটনগুলোর একটি।

বিশ্বকাপ শুরু হলো

ফরম্যাট ছিল বেশ অদ্ভুত। চার গ্রুপে ভাগ করা হয় ১৬ দলকে, যাদের মধ্যে আটটি বাছাই এবং অন্য আটটি অবাছাই। প্রতিটি গ্রুপের বাছাই দল দুটি শুধু অন্য দুটি অবাছাই দলের সঙ্গে খেলবে। আর কোনো খেলা ড্র হলে, ৩০ মিনিট সময় অতিরিক্ত খেলা হবে। গ্রুপে চারটি করে ম্যাচের পর দুটো সেরা দল পরের রাউন্ডে যাবে। শীর্ষ দুই দলের অবস্থান সমান হলে টস হবে।

তবে দুই আর তিনের বেলায় টস না রেখে প্লে-অফ খেলার নিয়ম করা হয়। এসব অদ্ভুত নিয়মের এখানেই শেষ নয়, চার গ্রুপ থেকে আটটি কোয়ালিফাই করা দল দুই গ্রুপে ভাগ হলো। অদ্ভুতভাবে, এক গ্রুপে চার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন অন্য গ্রুপে চার গ্রুপ রানার্সআপ।

এত কিছুর পরও লোকে ভেবেছিল, এই বিশ্বকাপ হাঙ্গেরি ছাড়া অন্য কারও জেতার সুযোগ নেই। তখন দুনিয়ার সেরা খেলোয়াড় বিবেচিত পুসকাস আর তাঁর সতীর্থ ককসিস, হিদেকুটি, চিবরদের নিয়ে দলটা ১৯৫০ থেকে ১৯৫৬ সালে হাঙ্গেরির গণ–আন্দোলন শুরুর আগপর্যন্ত ৫০ ম্যাচ খেলে ৪২টিতে জেতে, ৭ ড্র আর হার একটি।

ফুটবল র‍্যাঙ্কিংয়ের হিসাবে দেখা যায়, এযাবৎ যত জাতীয় দল খেলেছে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি (২২৩০) পয়েন্ট ম্যাগিয়ার্সদেরই। সবচেয়ে কাছাকাছি গিয়েছিল জার্মানি, ২০১৪ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালের দিন (২২২৩ পয়েন্ট)।

‘অপয়া’ সাদা বাদ দিয়ে হলুদ জার্সি পরে আসা ব্রাজিলকে ভাবা হচ্ছিল ম্যাগিয়ার্সদের প্রতিদ্বন্দ্বী। দিদি, জুলিনহোরা মেক্সিকোকে ৫-০ গোলে হারিয়ে শুভসূচনাও করে। হাঙ্গেরি অবশ্য ৯ গোল দেয় কোরিয়াকে আর জার্মানির সঙ্গে জেতে ৮-৩ গোলে, যার ৪টিই দেন আগের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা ককসিস।

গোলের মচ্ছবে তুরস্ক কোরিয়াকে হারায় ৭-০ গোলে আর জার্মানির সঙ্গে প্লে অফে হারে ২-৭ গোলে। অবশ্য সর্বোচ্চ গোলের ম্যাচ সেগুলোর একটাও ছিল না, সেটা ছিল কোয়ার্টার ফাইনালে।

প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে অস্ট্রিয়া ৭-৫ গোলে হারায় সুইজারল্যান্ডকে। প্রথমার্ধে ফল ছিল ৫-৪! বিশ্বকাপে এর আগে বা পরে আর কোনো দিন এক খেলায় আর এত গোল হয়নি। এত গোলের পরও সেবার যে খেলাটা সবচেয়ে সুন্দর, সবচেয়ে রোমাঞ্চকর হওয়ার কথা ছিল সেটাই হয়ে উঠল বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্ক!

হাঙ্গেরি আর ব্রাজিলের ২৭ জুনের সেই খেলাটিতে ব্রিটিশ রেফারি আর্থার এলিস ৪২টি ফ্রি কিক, দুটি পেনাল্টি, চারটি হলুদ কার্ড আর তিনজনকে লাল কার্ড দেখিয়েও মাঠের মারামারি থামাতে পারেননি। খেলা শেষেও ড্রেসিংরুমে গিয়েও দুই দল উদ্দাম মারপিট করে। হাঙ্গেরির কোচ গুস্তাভ সেবেসের গালে চারটা সেলাই লাগে। বার্নের ভাঙ্কডর্ফ স্টেডিয়ামে হাঙ্গেরির ৪-২ গোলে এই ম্যাচকে আখ্যা দেওয়া হয় ‘ব্যাটল অব বার্ন’ নামে।

এই ম্যাচের পর আরেক লাতিন দল উরুগুয়ের সঙ্গে এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ খেলতে হয় ককসিসদের। নির্ধারিত সময়ের খেলা ২-২ এ শেষ হলে অতিরিক্ত সময়ের ২ গোলে জেতে পুসকাসের দল। তবে এত গোলের হ্যাপা সামলাতে গিয়েই কি ম্যাগিয়ার্সদের দম শেষ হয়ে গিয়েছিল? সেই প্রশ্নের উত্তর আর জানার সুযোগ নেই। তবে একই আশাতেই ছিল হয়তো আরেক সেমিফাইনালে অস্ট্রিয়াকে ৬-১ গোলে হারানো পশ্চিম জার্মানি।

গ্রুপ পর্যায়ে হাঙ্গেরির কাছে নিদারুণ হেনস্তার পর জার্মানরা কিন্তু নিজেদের উদ্যম জমিয়ে রেখেছিল। এই বিশ্বকাপেই প্রথমবারের মতো দেখা যায় জার্মানদের নিখুঁত ‘যান্ত্রিক ফুটবল।’ জার্মানির সেই দারুণ লড়াইও উঠে আসে সেলুলয়েডে, প্রায় অর্ধশতক পর দ্য মিরাকল অব বার্ন (২০০৩) চলচ্চিত্রে।

সেই ফাইনালের গল্প বলার আগে হাঙ্গেরিকে নিয়ে দুটি কথা না বললেই নয়

অনিন্দ্যসুন্দর এক হতাশা

পুসকাস–ককসিসদের খেলা সেই যুগের চেয়ে এগোনো ছিল। মাথার মাঝে সিঁথি করা চুলের ফ্যাশন আর শক্তপোক্ত শরীরের ‘গ্যালোপিং মেজর’ পুসকাস ছিলেন হাঙ্গেরির অধিনায়ক। অবিশ্বাস্য দক্ষতাসম্পন্ন সর্বকালের অন্যতম সেরা পুসকাস পোস্ট থেকে প্রায় ৩০-৪০ গজ দূরে থাকলেও প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে প্রার্থনা করতে হতো। কারণ, গোলার মতো শট।

‘গোল্ডেন হেড’ নামে পরিচিত স্যান্দর ককসিস ছিলেন ছোটখাটো, কিন্তু শূন্যে থাকা বলের ওপর জাদুকরি দখল আর হেডে ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তার সঙ্গে নান্দনিক ফুটবলশৈলী। আর ন্যান্দর হিদেকুটি? আধুনিক পরিভাষায় বললে, একজন বুদ্ধিদীপ্ত ‘ফলস নাইন’। নিচে নেমে ডিফেন্ডারদের টেনে আনতেন আর ফাঁকা জায়গা পেয়ে তাঁর দুই ‘কমরেড’ পুসকাস আর ককসিস তাণ্ডব চালাতেন বিপক্ষ গোলসীমানায়।

তবে ফলস নাইন দূর অস্ত, সে যুগে মাঝমাঠের ধারণাই ছিল না। সেখানে উঠে আসতেন রাইট হাফ-ব্যাক জোসেফ বসজিক। বিপুল শক্তি, দম আর বলের ওপর দক্ষতার কারণে বসজিককে ডাকা হতো ‘ডায়নামো’ নামে। লেফট হাফ ব্যাক ছিলেন জাকারিয়াস, সেন্টার হাফে বজসিক ছিলেন এখনকার দিনের ‘নাম্বার সিক্স’, যিনি এই ওপরে উঠে যাওয়া খেলোয়াড়েরা বলের দখল হারালে নিচ থেকে বল কেড়ে আবারও আক্রমণে উঠতেন।

আর রক্ষণে দুই পাহাড়ের মতো দানো বুজানস্কি আর লান্তোস কেবল প্রহরীই ছিলেন না, হাই লাইন ডিফেন্সের শর্ত মেনে মাঠ ছোট করে ওপরে এসে আক্রমণে সাহায্য করতেন। আর গোলকিপার গিওলা গ্রোসিকস? আধুনিক যুগের সুইপার গোলকিপারদের দাদাঠাকুর। যে যুগে গোলকিপার মানে ছিল তে–কাঠির মাঝের জায়গাটুকু পাহারা দেওয়া, কিন্তু গ্রোসিকস বারবার পেনাল্টি বক্সের বাইরে এসে বল ‘ক্লিয়ার’ করতেন।

এসব বিশ্লেষণে বলা যায়, হাঙ্গেরি আসলে আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে জনপ্রিয় ৪-৪-২ ফর্মেশন এবং প্রেসিং ফুটবলের জন্মদাতা। সেই অর্থে ‘টোটাল ফুটবল’–এর আগেই ‘আলটিমেট টোটাল ফুটবল’ খেলার পসরা সাজিয়েছিল এই সমাজতান্ত্রিক দেশ। কীভাবে সম্ভব হলো এতটা অগ্রসর চিন্তাভাবনার?

এর বড় কৃতিত্ব একজন পাঁড় কমিউনিস্ট গুজতাভ সেবেসের। সেবেস মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন মানুষের ইতিহাসের মতো ফুটবলের ইতিহাসেরও সেরা উপায় হচ্ছে সমাজতন্ত্র—সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে মোরা পরের তরে। জনপ্রিয় শ্রমিকনেতা সেবেস ফুটবলকে ভাবতেন জনতার লড়াইয়ের হাতিয়ার হিসেবে আর সেই দর্শন প্রয়োগ করে তিনি খেলাটাকে এগিয়ে নেন।

ফুটবলকে এক ধাক্কায় আধুনিক করে ফেললেও সেবেস ট্র্যাজেডির নায়ক হয়ে যান। কেবল বিশ্বকাপের ফাইনালে হেরে দলটার পতন হয়নি, বছর দুয়েক পর পতন হয় সে দেশের কমিউনিস্ট সরকারেরও। সেবেস বিশ্বাস করতেন, ১৯৫৪ সালে ফাইনালটা জিতলে ইতিহাসের চাকা অন্যদিকে ঘুরত। জয়ের আত্মবিশ্বাসে হাঙ্গেরির সমাজতন্ত্র আরও শক্তিশালী হতো, হাঙ্গেরিসহ গোটা বিশ্বের ইতিহাসও অন্যভাবে লেখা হতো।
কিন্তু হাঙ্গেরির বদলে বিশ্বকাপ জিতল যুদ্ধবিধ্বস্ত জার্মানি। সেই জয়ের নায়ক আরেক কোচ।

জার্মান কোচ সেপ হারবেরগার জন্মেছিলেন এক গরিব ক্যাথলিক পরিবারে। আহামরি রকমের ভালো খেলোয়াড় না হলেও ফুটবলের কৌশল আর তাত্ত্বিক দিক উন্নয়নে তাঁর আগ্রহ ছিল নেশার মতো। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ায়, জীবন আর জীবিকার জন্য নেশা বাদ দিয়ে তিনি যোগ দেন নাৎসি বাহিনীতে।

তবে ১৯৪২ সালের ফিল্ম ‘দাস গ্রস স্পিয়েল’ অনুসারে এর মূল কারণ ছিল তদ্দিনে কোচ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করা হারবেরগার খেলোয়াড়দের যুদ্ধক্ষেত্রে থেকে সরিয়ে এনে অনুশীলনে ব্যস্ত রাখতে পারবেন। যুদ্ধের শত ডামাডোলে দুনিয়া উল্টে গেলেও হারবেরগার তাঁর খেলোয়াড় আর তাঁর সবচেয়ে দামি সম্পদগুলো রক্ষা করেছিলেন। তাঁর সবচেয়ে দামি সম্পদ কি ছিল?

নোটবুক। সেই খাতাগুলোতে ছিল ফুটবলে ভরপুর—নানা তত্ত্ব, উপাত্ত আর অগণিত খেলা দেখার পর নিজের মতামত লিখতেন। মোট কয়টা নোটবুক ছিল? ৩৬১!

এবার বিশ্বকাপের ফাইনালের গল্পে যাওয়া যাক।

বার্নের বিস্ময়

ম্যাগিয়ার্সদের থামাতে জুলাইয়ের ৪ তারিখে জার্মানদের অলৌকিক কিছু করা ছাড়া গতি ছিল না। আহত, প্রায় এক পায়ে খেলা পুসকাস এদিন মাঠে নেমে, ৬ মিনিটেই দলকে এগিয়ে নেন। গোল দিলেও চোটগ্রস্ত পুসকাসের খেলাটা ভালোর বদলে মন্দই ডেকে আনে। ব্যক্তি পুসকাসের মোহগ্রস্ত না হয়ে দল যদি সেদিন সমাজতন্ত্রের আদর্শে সেমিফাইনালে দারুণ খেলা বুদাইকে রাখত, হয়তো ফল অন্য রকম হতো।
পুসকাসের গোলের ২ মিনিট পর চিবর ব্যবধান বাড়িয়ে ২-০ করেন। কিন্তু এরপরেই খেলায় জার্মানরা ফিরে আসা শুরু করল।

একে তো বিখ্যাত জার্মান মানসিকতা, পাশাপাশি বৃষ্টিতে একেবারে চুপচুপে মাঠে জার্মানসুলভ যান্ত্রিক ফুটবল—নাৎসিদের জন্য জুতা বানিয়ে বড় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়া অ্যাডিডাস এদিন জার্মান খেলোয়াড়দের জুতায় বিশেষ ধরনের পেরেক মেরে জুতার গ্রিপ বাড়িয়ে দেয়। সেই সঙ্গে ছিল হারবারগের কৌশল, প্রতিপক্ষকে দুর্বল ও হতোদ্যম করে ফেলা।

মাঠের ৬০ হাজার দর্শকের বেশির ভাগ ছিলেন জার্মান সমর্থক। ম্যাক্সিমিলিয়ান মরলোক ১০ মিনিটের মাথায় করলেন ২-১ আর ১৮ মিনিটে জার্মান স্ট্রাইকারদের বস বা ‘দি বস’ নামে পরিচিত হেলমুট রাহন সমতায় ফেরান জার্মানিকে।

পরের এক ঘণ্টা কোনো গোলের দেখা নেই। খেলা শেষ হওয়ার ঠিক ৬ মিনিট আগে হেলমুট হাঙ্গেরির ডিফেন্স থেকে আসা একটি বল রিসিভ করেন, লান্টোসকে কাটিয়ে গোলার মতো শটে গোলকিপার গ্রোসিকসকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান। ৪ মিনিট পর পুসকাসের গোল অফসাইডের অজুহাতে বাতিল হয়। হাঙ্গেরির আর খেলায় ফেরা হয় না। ‘ম্যাজিক্যাল ম্যাগিয়ার্স’দের সেটাই এক মাত্র হার। যে হার, তাদের বিশ্বকাপ নিতে দেয়নি। রাহনের গোলের পর ধারাভাষ্যকার হ্যারিবার্ট জিমারম্যান চিৎকার করে ওঠেন, গোওওওল!

জার্মানির সেটাই যুদ্ধের পর প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া। সেই গোলটি আর সেই চিৎকারটা গোটা জার্মান জাতিকে আবারও উজ্জীবিত করে তোলে। এরপর থেকে জার্মানরা যখনই পতনের সম্ভাবনা দেখত, তারা জিমারম্যানের মতোই ফুসফুসের বাতাস বের করে চিৎকার দিয়েছে, গোওওওল, গোওওওল! তাই এই দেশের ফুটবল দলটা পরের দশকগুলোতে হয়ে ওঠে হার না মানার প্রতিশব্দ। বিশ্বখ্যাত জার্মান পরিচালক রাইনার ভেরনার ফাসিব্যন্দার ২০০৩ সালে নির্মিত ‘দ্য ম্যারেজ অব মারিয়া ব্রুইনে’র সাউন্ডট্র্যাক হিসেবে ব্যবহার করেন এই গোলের চিৎকারকে। সেখানে বিধ্বস্ত এক রমণী জীবনযুদ্ধে আর টিকে থাকার উপায় না দেখেও বাঁচার স্বপ্ন দেখা ছাড়েনি।

ম্যাগিয়ার্সদের হার, সমাজতান্ত্রিক ফুটবলের চ্যাম্পিয়ন হতে না পারা ‘ট্র্যাজেডি’ হলেও, দিন শেষে গোলের এই বিশ্বকাপ আশার গল্পই বলে। সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেয়। খুব কঠিন সময়েও বুক ভরে শ্বাস নিয়ে ‘গোওওওল’ বলে এগিয়ে যাওয়াটাই জীবন।