ইরানের বিশ্বকাপের ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রেই হবে: ফিফা সভাপতি

ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সহ–সভাপতি মেহদি মোহাম্মদ নবির সঙ্গে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোরয়টার্স

ইরান জাতীয় ফুটবল দলের সঙ্গে দেখা করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। গতকাল তুরস্কের আন্টালিয়াতে কোস্টারিকার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয় ইরান ফুটবল দল। ফিফা প্রেসিডেন্ট আকস্মিক সফরে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে তুরস্কে গিয়ে দলটির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলা চালানোর পর এই প্রথম তিনি ইরান জাতীয় দলের সঙ্গে দেখা করলেন।

সেখানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সূচি অনুযায়ী ইরান তাদের বিশ্বকাপের ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রেই খেলবে। ফেডারেশন অব ফুটবল ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান (এফএফআইআরআই) মার্চের শুরুর দিকে জানিয়েছিল, ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়ে তারা ফিফার সঙ্গে আলোচনা করছে। এদিকে ইরানের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যেসব দেশকে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ মনে করে, সেখানে জাতীয় ও ক্লাব দলগুলোর সফর নিষিদ্ধ করেছে।

তবে তুরস্ক সফরে গিয়ে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ভেন্যু পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেন ইনফান্তিনো। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘না, না। ড্র অনুযায়ী যেখানে খেলার কথা, সেখানেই ম্যাচগুলো হবে।’

আরও পড়ুন

তিনি এ সময় আরও বলেন, ‘মনে হচ্ছে, আমরা সঠিক ভেন্যুতেই থাকছি। আমরা খুব খুশি। কারণ, আজ যেমন দেখলাম, তারা খুবই শক্তিশালী দল। আমি দারুণ খুশি। দলটিকে দেখেছি, খেলোয়াড় ও কোচদের সঙ্গে কথা বলেছি।’ কোস্টারিকার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচটিতে ইরান ৫–০ গোলে জেতে।

পরে ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ইনফান্তিনো ইরানের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে ‘সমর্থন অব্যাহত রাখার’ কথা বলেন। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে ইনফান্তিনো লিখেছেন, বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে দলটি যেন সর্বোত্তম পরিবেশ পায়, তা নিশ্চিত করতে ফিফা তাদের পাশে থাকবে।

কোস্টারিকার বিপক্ষে ৫–০ গোলে জিতেছে ইরান
এএফপি

কোস্টারিকার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় কোচ আমির গালেনোই, ফেডারেশনের সহসভাপতি মেহদি মোহাম্মদ নাবিসহ খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা এমন শিশুদের ছবি হাতে নিয়ে দাঁড়ান, যাদের গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত বলে দাবি করা হয়েছে।

এই যুদ্ধের কারণে বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরান সরকারের কর্মকর্তা, ফুটবল ফেডারেশন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প—সবার পক্ষ থেকেই গত এক মাসে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য এসেছে।

আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। ইরানের গ্রুপ পর্বের দুটি ম্যাচ হওয়ার কথা ক্যালিফোর্নিয়াতে, অন্যটি সিয়াটলে। নিরাপত্তা–উদ্বেগের কথা বলে ডোনাল্ড ট্রাম্প দলটিকে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে নিরুৎসাহিত করার পর ইরানের কর্মকর্তারা গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেন।

আরও পড়ুন

তবে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো বারবারই বলেছেন, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই খেলবে ইরান। গত সপ্তাহান্তে মেক্সিকো সিটিতে সম্প্রচারমাধ্যম এন+ইউনিভিশিনকে তিনি বলেন, বিশ্বকাপের ড্র হওয়ার পর ডিসেম্বরে যে সূচি নির্ধারিত হয়েছে, সেটিই চূড়ান্ত। এর বাইরে কোনো বিকল্প পরিকল্পনা নেই।

ইনফান্তিনো বলেন, ‘আমরা চাই, তারা খেলুক এবং তারা বিশ্বকাপে খেলবেই। কোনো প্ল্যান বি, সি বা ডি নেই—শুধু প্ল্যান এ-ই আছে। আমরা জটিল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে আছি, কিন্তু আমাদের কাজ মানুষকে একত্র করা। পরিস্থিতি কঠিন, আমরা জানি; তবু আমরা কাজ করব, যাতে ইরান সর্বোত্তম পরিবেশে এই বিশ্বকাপে খেলতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইরান তার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে, দেশে থাকা এবং প্রবাসে থাকা সবার। তারা ক্রীড়ানৈপুণ্যের ভিত্তিতেই বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে এবং অনেক আগেই যোগ্যতা অর্জন করেছে। এটি একটি ফুটবলপ্রেমী দেশ। আমরা শান্তির চেতনায় দেশগুলোকে একত্র করব। বিশ্বে বিভাজন আছে, কিন্তু আমাদের কাজ সেই বিভাজন দূর করে সেতুবন্ধ তৈরি করা।’

ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সহ–সভাপতি মেহদি মোহাম্মদ নবি (মাঝে) এবং প্রধান কোচ আমির গালেনোইকে (ডানে) কোস্টারিকার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের আগে এমন শিশুদের ছবি হাতে এভাবে দাঁড়াতে দেখা যায়, যারা যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছেন
এএফপি

এশিয়ার শক্তিশালী ফুটবল দল হিসেবে পরিচিত ইরান। গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম ও মিসরের বিপক্ষে খেলে নকআউট পর্বে ওঠার মতো সামর্থ্য আছে বলেই মনে করা হয় দলটির। তেমনটা হলে শেষ ৩২-এ সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

এর আগে গত শুক্রবার নাইজেরিয়ার বিপক্ষে আরেকটি প্রস্তুতি ম্যাচের আগে ইরানের খেলোয়াড়েরা ছোট ব্যাকপ্যাক হাতে দাঁড়িয়েছিলেন। দক্ষিণ ইরানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত শিশুদের স্মরণে এই প্রতীকী উদ্যোগ নেন তাঁরা। ২৮ ফেব্রুয়ারির ওই হামলায় ১৬৫ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়, যাদের বেশির ভাগই ছিল শিশু। ধারণা করা হয়, হামলাটি যুক্তরাষ্ট্র চালিয়েছিল।

তবে এই হামলার দায় যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল এখনো স্বীকার করেনি। ঘটনাটি জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার সমালোচনার মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা বিষয়টি তদন্ত করছে।

আরও পড়ুন