তাস বাঁটার উদ্যাপন, হলুদ কার্ড ও শেষ মুহূর্তের গোল, ক্লাবে ফিরেই নেইমার-নাটক
ঠিক ২০ দিন পর আবারও ম্যাচের শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল করলেন নেইমার। জুলাইয়ের শুরুর দিকে নরওয়ের বিপক্ষে তাঁর গোলটি বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে ব্রাজিলের বিদায় ঠেকাতে পারেনি। তবে গতকাল রাতে সান্তোসের হয়ে শাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে বিব্রতকর হার এড়িয়েছেন তিনি।
ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামে নেইমার অবশ্য একটি নয়, দুটি গোল করেছেন। তাঁর জোড়া গোলে ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা শাপেকোয়েন্সের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে সান্তোস।
ফিফা বিশ্বকাপের পর এটিই ছিল সান্তোসের হয়ে নেইমারের প্রথম ম্যাচ। মাঝে ‘ব্রাজিলিয়ান পোকার চ্যাম্পিয়নশিপে’ তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে বেশ সমালোচনা হয়েছিল। নেইমার সেই সমালোচনার কথা ভুলে যাননি। ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে প্রথম গোলটি উদ্যাপনের সময় তাস বাঁটার অঙ্গভঙ্গি করে দেখান। পেনাল্টি বক্সের ভেতর এক সতীর্থের সঙ্গে এক-দুই পাসে বল দেওয়া-নেওয়া করে কোনাকুনি শটে বল জালে জড়ান তিনি।
সান্তোস প্রথমার্ধে নেইমারের গোলে এগিয়ে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে দলটি ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এর মধ্যে ৬২তম মিনিটের গোলটি ছিল সান্তোসের আত্মঘাতী।
এক কিছুক্ষণ পর শাপেকোয়েন্সের এক খেলোয়াড় ফাউল করলে নেইমার উঠে গিয়ে পেছন থেকে তাঁকে ধাক্কা দেন। রেফারি এসে ওই খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখালে সামনে এগিয়ে আসেন তাঁর শাপেকোয়েন্সের এক সতীর্থ। নেইমার তেড়ে গিয়ে তাঁকেও ধাক্কা মারেন।
এমন কাণ্ডের পর শাস্তি ছাড়া গতি ছিল না। রেফারি হলুদ কার্ড বের করেন নেইমারের জন্য। আগেই একটি হলুদ কার্ড থাকায় ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সান্তোসের পরবর্তী ম্যাচে তিনি খেলতে পারবেন না।
ম্যাচের শেষ দিকে নেইমারই ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান। ৯০তম মিনিটে কাবায়েরো ফাউলের শিকার হলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। নেইমার সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। ম্যাচ শেষ হয় ২–২ সমতায়।
এই ড্রয়ের ফলে সান্তোস ২২ পয়েন্ট নিয়ে সিরি ‘এ’ টেবিলের ১৪তম স্থানে উঠে এসেছে, যা এখনো অবনমন অঞ্চলের কাছাকাছি। অন্যদিকে মাত্র ১০ পয়েন্ট নিয়ে ২০তম স্থানে থাকা শাপেকোয়েন্সের দ্বিতীয় বিভাগে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়েছে।