আল নাসরে সবচেয়ে বড় হারে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি রোনালদোর
ঝামেলা তাঁদের মধ্যে আগেও হয়েছে। এবার তারই নতুন পর্ব দেখা গেল আল আইনের মাঠে।
প্রথম ঝামেলাটি ২০২৪ সালের নভেম্বরে। এই এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগেই আল নাসরের মুখোমুখি হয়েছিল আল আইন। কর্নার থেকে বল দখলের লড়াইয়ে ধস্তাধস্তি করেন দুজন।
একপর্যায়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো মাঠে পড়ে যান এবং মাতিয়াস প্যালাসিওসের গলা চেপে ধরেন। পরে রেফারির কাছে রোনালদোর বিরুদ্ধে কনুই দিয়ে আঘাতের অভিযোগ করেও ফাউল পাননি। উল্টো আর্জেন্টাইন এ মিডফিল্ডারকেই হলুদ কার্ড দেখতে হয়। সেই ম্যাচে রোনালদো গোল পেয়েছিলেন, আল নাসরও জিতেছিল ৫-১ গোলে।
কিন্তু গতকাল রাতের পরিস্থিতি ছিল একদমই ভিন্ন। এই মহাদেশীয় ক্লাব প্রতিযোগিতারই গ্রুপ পর্বে আল আইনের মাঠে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে আল নাসর। সৌদি ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার পর এটা রোনালদোর ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় হার। আর সে হারের ম্যাচেই দেখা গেল রোনালদো-প্যালাসিওস ঝামেলার নতুন পর্ব।
আল আইন ২-০ গোলে এগিয়ে থাকতে বাঁ প্রান্ত থেকে ক্রস আসার অপেক্ষায় স্বাগতিকদের বক্সে ঢুকছিলেন রোনালদো। তখন আল আইন মিডফিল্ডার প্যালাসিওস পর্তুগিজ কিংবদন্তিকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
প্রতিক্রিয়ায় আল নাসর অধিনায়ক রোনালদোও কনুইয়ের চাপে প্যালাসিওসকে ফেলে দেন মাঠে। রোনালদো নিজেও পড়ে যান। এরপর দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটিও হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যালাসিওস পরে দাবি করেন, ৪১ বছর বয়সী রোনালদোকে তিনি শুধু বয়সের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, বলের দখল তিনিই আগে পাবেন। এরপরই কথা-কাটাকাটির তীব্রতা বাড়ে দুজনের।
ম্যাচে রোনালদো ফ্রি–কিক থেকে গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। শট নিতে পেরেছেন মাত্র তিনটি। গোল না পাওয়ায় তাঁর ৯৭৯ গোলের পরিসংখ্যানও সমৃদ্ধ হয়নি।
২০২২ সালে ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ৪-০ গোলের হারের পর গতকাল রাতেই ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের হার দেখলেন রোনালদো। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আল নাসরে অভিষেক হয় তাঁর।
ট্রান্সফারমার্কেট জানাচ্ছে, ক্লাব ক্যারিয়ারে রোনালদোর সবচেয়ে বড় হার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে। ২০২১ সালে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুলের কাছে ৫-০ গোলে হেরেছিল ইউনাইটেড। ২০১০ সালে লা লিগায় বার্সেলোনার কাছে একই ব্যবধানে হেরেছিল রিয়াল।