রোনালদো-মেসি-নেইমার—তিনজনের সঙ্গেই খেলেছেন যাঁরা

প্রথম আলো গ্রাফিকস

তালিকাটা লম্বা নয়, কিন্তু ক্রমেই বাড়ছে। ফুটবলের ইতিহাসে হাজারো খেলোয়াড় এসেছেন-গেছেন, অথচ তিন কিংবদন্তির সঙ্গে খেলার সৌভাগ্য হয়েছে গুটিকয়েকের। এবার সেই ছোট্ট, উজ্জ্বল বৃত্তে ঢুকে পড়লেন কাসেমিরো। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদে তিনটি চ্যাম্পিয়ন লিগ জেতা এই মিডফিল্ডার জাতীয় দলে খেলেছেন নেইমারের সঙ্গে। এবার ইন্টার মায়ামিতে যোগ দিয়ে হয়েছেন লিওনেল মেসির সতীর্থ।

কাসেমিরোর আগে কারা খেলেছেন মেসি-রোনালদো-নেইমার তিনজনের সঙ্গে, মনে করে দেখুন তো।

সের্হিও রামোস

কেউ যদি জিজ্ঞেস করে, ফুটবলে সবচেয়ে বিচিত্র ভ্রমণপথ কার—উত্তরটা অনায়াসে হতে পারে রামোসের। ২০০৫ থেকে ২০২১—রিয়াল মাদ্রিদে টানা ১৬ বছর কাটানো এই ডিফেন্ডার এল ক্লাসিকোর মাঠে বছরের পর বছর মেসির সবচেয়ে বড় কাঁটা হয়ে থেকেছেন, আবার ২০০৯-২০১৮ পর্বে রোনালদোদের ঢাল হয়েও ছিলেন। এরপর ২০২১ সালে রামোস গেলেন পিএসজিতে। যে মেসিকে বছরের পর বছর আটকে রেখেছেন, তাঁর সঙ্গেই ভাগাভাগি করলেন ড্রেসিংরুম। শুধু তা-ই নয়, পিএসজিতে ওই একই সময়ে নেইমারকেও সতীর্থ হিসেবে পেয়েছেন রামোস।

বেশির ভাগ সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে খেলা মেসি ও রামোস পিএসজিতে খেলেছেন একসঙ্গে
এএফপি

কেইলর নাভাস

গোলরক্ষকের চোখে ফুটবল অন্য রকম দেখায়—পুরো মাঠটা তাঁর সামনে খোলা বইয়ের মতো। কেইলর নাভাস সেই বইয়ের পাতায় পাতায় দেখেছেন তিন জাদুকরকে। ২০১৪ থেকে ২০১৯—রিয়াল মাদ্রিদে থাকাকালে হয়েছেন রোনালদোর উদ্‌যাপনের সঙ্গী (এ সময়েই জিতেছেন টানা তিনটি চ্যাম্পিয়নস লিগ), আবার ২০১৯ সালে পিএসজিতে গিয়ে প্রথমে নেইমার, এরপর ২০২১ থেকে মেসিকে পেয়েছেন সতীর্থ হিসেবে। কোস্টারিকার এই গোলরক্ষকের ক্যারিয়ারটা তাই এক অর্থে ফুটবলের তিন যুগের দলিল হয়ে থেকে যাবে।

আনহেল দি মারিয়া

আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০০৮ সাল থেকে মেসি-দি মারিয়ার যুগলবন্দী এখনো আলবিসেলেস্তেদের গর্বের অধ্যায়। ২০১০-২০১৪ সাল পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদে রোনালদোর সঙ্গে জিতেছেন লা দেসিমা (২০১৪)। আর ২০১৫ সালে প্যারিসে পাড়ি জমিয়ে ২০১৭ সাল থেকে সতীর্থ হিসেবে পেয়েছেন নেইমারকে, যে জুটি টিকে ছিল ২০২২ পর্যন্ত।

মেসি ও রোনালদো, দুজনের সতীর্থ হিসেবেই খেলেছেন আনহেল দি মারিয়া
প্রথম আলো গ্রাফিকস

জেরার্ড পিকে

গল্পটা শুরু হয় লা মাসিয়ায়—কিশোর মেসি আর কিশোর পিকে এই শতাব্দীর শুরুতে একসঙ্গে অনুশীলন করতেন বার্সেলোনা একাডেমিতে। এরপর ২০০৪ সালে পিকে পাড়ি জমান ম্যানচেস্টারে, যেখানে ২০০৮ পর্যন্ত তরুণ রোনালদোর সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম ভাগ করে নেন। আবার ২০০৮ সালে বার্সেলোনায় ফিরে মেসির সঙ্গে জেতেন একের পর এক শিরোপা। ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত নেইমারও ছিলেন তাঁর পাশে।

আশরাফ হাকিমি

ক্যারিয়ারের শুরুতে খেলেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে, জিতেছেন ২০১৭-১৮ মৌসুমে জিতেছিলেন চ্যাম্পিয়নস লিগও। এরপর রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ইন্টার মিলান হয়ে হাকিমি পাড়ি জমান পিএসজিতে। ২০২১ সাল থেকে সেখানে দুই মৌসুমে আবার সতীর্থ হিসেবে পেয়েছেন মেসি-নেইমারকে।

আর্থার মেলো ও আন্দ্রে গোমেজ

তালিকাটা শুধু পুরোনোদের নয়। আর্থার মেলো ২০১৮-২০২০ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনায় মেসির সঙ্গে খেলেছেন, ২০২০-২০২১ সাল পর্যন্ত জুভেন্টাসে পেয়েছেন রোনালদোকে। আর ব্রাজিলের জার্সিতে পেয়েছেন নেইমারকে। আন্দ্রে গোমেজও ২০১৬-২০১৭ মৌসুমে বার্সেলোনায় মেসি-নেইমার জুটির পাশে খেলেছেন, আর পর্তুগালের হয়ে খেলেছেন রোনালদোর সঙ্গে।

আরও পড়ুন

পিএসজি-পর্তুগাল চতুষ্টয়: দানিলো পেরেইরা, নুনো মেন্দেস, ভিতিনিয়া ও রেনাতো সানচেজ

দানিলো পেরেইরা ২০২০ সাল থেকে পিএসজিতে খেলে নেইমার-মেসিকে পেয়েছেন সতীর্থ হিসেবে । নুনো মেন্দেস ও রেনাতো সানচেজ প্যারিসের এই ক্লাবে আসেন ২০২১ সালে, এক বছর পর আসেন ভিতিনিয়া, তিনজনই পেয়েছেন মেসি-নেইমারকে। আর জাতীয় দলের জার্সিতে পর্তুগালের এই চারজনই রোনালদোর সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করেছেন।

পাবলো সারাবিয়া

সবচেয়ে অদ্ভুত সংযোগটা বোধ হয় সারাবিয়ার। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে রিয়াল মাদ্রিদের মূল দলের হয়ে একমাত্র ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন রোনালদোর বদলি হিসেবে। এরপর মাদ্রিদ ছেড়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন হেতাফে, সেভিয়ায়; শেষে ২০১৯ সালে পিএসজিতে গিয়ে পেয়েছেন নেইমার ও পরে মেসিকে।