বায়ার্নের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়াতে রিয়ালকে কী করতে হবে, জানালেন ফিগো
খাদের কিনারা থেকে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়, সেটা তাদের চেয়ে ভালো কে আর জানে! লড়াইটা যদি আবার চ্যাম্পিয়নস লিগে হয়, তবে তো কথাটি আরও বেশি সত্য। চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদই যখন শেষ কথা, তখন আগেভাগে রায় দেওয়াটা নিশ্চিতভাবে বোকামি! কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে ২–১ গোলে জেতার পরও তাই নিজের দলকে সতর্ক থাকার কথা বলেছিলেন খোদ বায়ার্ন মিউনিখ কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি। ফিরতি ম্যাচ কাল মিউনিখে।
সতর্ক থাকার পরও নিজেদের দিনে রিয়ালকে থামানো যে মোটেই সহজ নয়, তা জানা আছে পর্তুগিজ কিংবদন্তি লুইস ফিগোরও। রিয়ালের সাবেক এই তারকা মনে করেন, অন্য কোনো দলের জন্য এমন প্রত্যাবর্তন প্রায় অসম্ভব হলেও রিয়ালের ক্ষেত্রে তা সম্ভব। কারণ, দলটির আছে অসাধারণ প্রতিভা এবং তাদের ঐতিহ্য।
ঘুরে দাঁড়িয়ে রিয়ালের সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ফিগো বলেন, ‘এটা অবশ্যই কঠিন লড়াই, আর ২-১ ব্যবধান কাটিয়ে ওঠাও সহজ নয়। কিন্তু যদি কোনো দল সেটা করতে পারে, সেটি রিয়াল মাদ্রিদ। তাই বার্নাব্যুতে প্রতিকূল ফল এবং এই প্রতিযোগিতার ইতিহাস বিবেচনায় নিয়েও আমি মনে করি, তারা সেমিফাইনালে উঠতে পারে।’
মূলত নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই এমন মন্তব্য করেছেন ফিগো। ক্যারিয়ারে বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ ও ইন্টার মিলানের হয়ে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ১১টি ম্যাচ খেলেছেন ফিগো, যার মধ্যে ৯টিই ছিল চ্যাম্পিয়নস লিগে।
ফিগোর মতে, বায়ার্ন এমন এক প্রতিপক্ষ, যারা তাঁকে ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে ফেলেছিল। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে ফিগো এই বলে সতর্ক করেছেন, বার্নাব্যুতে ভিনিসিয়ুস ও কিলিয়ান এমবাপ্পের খেলায় যে কার্যকারিতার ঘাটতি ছিল, তা ফিরিয়ে আনা গুরুত্বপূর্ণ। তবে ফিগোর মতে, এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় আছে।
ফিগো বলেছেন, ‘নিশ্চিতভাবেই কার্যকারিতা খুব গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে এমন ম্যাচে। তার ওপর প্রথম লেগে পিছিয়ে থেকে এবার অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই, ভিনিসিয়ুস ও এমবাপ্পে যদি সুযোগ কাজে লাগাতে পারে, তাহলে ইতিবাচক ফল পাওয়া অনেক সহজ হবে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বায়ার্নের আক্রমণ শক্তিকে সামলানো। অযথা ভোগান্তিতে না পড়ে যত দ্রুত সম্ভব ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে।’
গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে রিয়ালকে খেলতে হবে বড় এক ঘাটতি নিয়ে। নিষেধাজ্ঞার কারণে দলে থাকছেন না মিডফিল্ডার অরেলিঁয়ে চুয়েমেনি। ফিগো অবশ্য এটা নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত নন, ‘হ্যাঁ, এটা চোখে পড়ার মতো অনুপস্থিতি। দলের ভারসাম্য রক্ষায় চুয়েমেনি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। তবে আমি মনে করি, তাকে বদলি করার মতো বিকল্প রিয়াল মাদ্রিদের আছে।’
সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে এ সময় জুড বেলিংহামের নামও উল্লেখ করেন ফিগো, ‘বেলিংহাম কি তার জায়গায় খেলতে পারে? আমার মনে হয় পারে। বার্নাব্যুতে প্রথম লেগে সে বদলি হিসেবে নেমে দারুণ খেলেছিল। ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার সামর্থ্য আছে তার। আমার মতে, বেলিংহামের সব সময়ই মাঠে থাকা উচিত—এটাই স্বাভাবিক।’
বায়ার্নের একজন খেলোয়াড়ের আলাদা করে প্রশংসা করেছেন ফিগো। মাইকেল ওলিসে। তাঁর সম্পর্কে ফিগো বলেছেন, ‘দুর্দান্ত খেলছে সে। খেলোয়াড় হিসেবে তাকে আমি খুব পছন্দ করি। সে যদি এই উন্নতির ধারাটা ধরে রাখতে পারে, তাহলে সে ব্যালন ডি’অরের দাবিদার হবে। এ মুহূর্তে সে বায়ার্ন মিউনিখের মতো শীর্ষ দলে খেলছে। সে কি রিয়াল মাদ্রিদে খেলতে পারে? বিশ্বের যেকোনো দলে খেলার মতো যোগ্যতা তার আছে—হোক সেটা মাদ্রিদ বা অন্য কোনো ক্লাব।’