পার্থক্য গড়বে মেসিই

সৌদি আরবের সঙ্গে প্রথম ম্যাচটা হেরে আর্জেন্টিনা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। সতর্ক হয়ে খেলেছে পরের ম্যাচগুলো। সময়মতো সেরা ফুটবলই খেলেছে সাদা–নীল জার্সিধারীরা। নিজেদের নিয়েছে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে। ফাইনালেও আমি এগিয়ে রাখছি আর্জেন্টিনাকেই।

ফুটবলে আমরা সব সমই বলি, সুযোগ বেশি তৈরি করতে পারবে যে দল, জয় তাদেরই। আর সেই সুযোগ তৈরিতে লিওনেল মেসির জুড়ি নেই। পার্থক্যটা যে আজ মেসিই গড়ে দেবে, তাতে সংশয় কমই। মেসিকে আটকাতে বাড়তি পাহারা বসাবে ফ্রান্স। তাতে আর্জেন্টিনার অন্য ফরোয়ার্ডরা জায়গা পেয়ে যাবে বক্সের আশপাশে। সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে তরুণ আলভারেজ যেমন জায়গা পেয়ে গোল করে দলকে জিতিয়েছে। আর্জেন্টিনার তরুণ প্রজন্ম নিজেদের মেলে ধরেছে এই বিশ্বকাপে। ফাইনালে ওরা ফ্রান্সকেও চাপে ফেলতে পারে। লিওনেল স্কালোনির দলের শক্তির দিক, মাঝমাঠ থেকে আক্রমণভাগে এমন কিছু মেধাবী তরুণ আছে, যারা যেকোনো কিছু করতে পারে।

ধরুন, ফরাসি রক্ষণ আর্জেন্টিনার তরুণ ব্রিগেড আটকে দিল। কিন্তু মেসিকে আটকাকে পারবে কি? বলা কঠিন। আসলে মেসি এমন এক ফুটবলার, যাকে রোখা সব সময় সম্ভব নয়। ক্রোয়েশিয়া চেষ্টা করেছিল, শেষ পর্যন্ত পারেনি। সেমিফাইনালের শেষ দিকে মেসি একক নৈপুণ্যে বক্সে ঢুকে আরেকবার দেখিয়েছে তার সামর্থ্য। কাতার বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় মুহূর্ত জন্ম দিয়েছে আর্জেন্টিনার ‘নাম্বার টেন’।

ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে মেসি
রয়টার্স

মেসির কারণেই আমি আজ আর্জেন্টিনাকে ফেবারিট মানছি। তাদের দুটি উইং প্লে বেশ কার্যকর। ফরোয়ার্ডদের সঙ্গে ওরা যোগ দিলে আর্জেন্টিনার আক্রমণে খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ বেড়ে যায়। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের কাজটা কঠিন হয়ে পড়ে তখন। ডিফেন্ডাররা ধাঁধায় পড়ে কাকে রেখে কাকে আটকাবে। আর্জেন্টিনা এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলেই ওদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি। ৩৬ বছর পর আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ খরা আজ দূর হতে পারে বলে আমার বিশ্বাস।

ফ্রান্স অনেক শক্তিশালী কোনো সন্দেহ নেই। বিশ্বকাপ ধরে রাখার সামর্থ্য নিয়েই ওরা কাতার এসেছে। তবে সেমিফাইনালে দলটা যেভাবে মরক্কোর কড়া চ্যালেঞ্জে পড়েছে, ফাইনালে হয়তো মানসিকভাবে একটু পিছিয়ে থাকবে। সেমিফাইনালে দেখেছি, চাপের মধ্যে নিজেদের গোললাইন থেকে বল ফেরাচ্ছে ফরাসি মিডফিল্ডার গ্রিজমান।

আরও পড়ুন

মরক্বো কৌশলী ফুটবল খেলে বিপাকে ফেলতে পেরেছে ফ্রান্সকে। ফ্রান্সের মাঝমাঠ থেকে গ্রিজমান যখন বল নিয়ে যায়, আক্রমণ তখনই বেশি কার্যকর হয়। আর ওদের আক্রমণ মূলত এমবাপ্পেকেন্দ্রিক। সেই এমবাপ্পে গতির ঝড়ে বেরিয়ে গোল করলে ভিন্ন কথা। তবে আর্জেন্টিনার রক্ষণ তাকে আটকাতে পারলে সমস্যা হতে পারে দেশমের দলের।

আরও পড়ুন

হ্যাঁ, বলতে পারেন কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালে এমবাপ্পে গোল পায়নি। ফ্রান্স তো জিতেছে। ফ্রান্স আজ ফাইনালও জিততে পারে। তবে এবার আর্জেন্টিনার রক্ষণ তুলনামূলক বেশ ভালো। ভুলভ্রান্তি কম। পোস্টের নিচে গোলকিপার মার্তিনেজকে বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছে। কাজেই গোল পেতে ঘাম ঝরাতে হতে পারে ফ্রান্সকে। মেসি–নৈপুণ্যে শেষ হাসি হাসতে পারে আর্জেন্টিনা।