ফাইনালের আগেই পিছিয়ে নেই তো আর্জেন্টিনা
আগামীকাল নিউইয়র্কে স্পেন আর আর্জেন্টিনা মাঠে নামবে আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের লড়াইয়ে। কিন্তু মাঠে নামার আগেই হেরে গেল আর্জেন্টিনা! কারণ ইতিহাস বলছে, নারী-পুরুষ মিলিয়ে শেষ ১৪টি বিশ্বকাপ ও ইউরো ফাইনালের ১৩টিতেই জিতেছে প্রথম সেমি ফাইনাল খেলা দল।
বিশ্বকাপে প্রথম সেমি ফাইনাল খেলাটার একটা সুবিধা আছে। প্রথম সেমি ফাইনালে যারা খেলে, স্বাভাবিকভাবেই তারা এক দিন বেশি সময় পায়। ইউরোতে অবশ্য দিনের পার্থক্য থাকে না। এক দিনে দুই সেমি ফাইনাল হওয়াতে কয়েক ঘণ্টা বেশি বিশ্রাম পায় প্রথম সেমিফাইনাল খেলা দল।
তবে সেমিফাইনাল থেকে ফাইনালের পথে স্পেনের চেয়ে কম ভ্রমণ করতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলে স্পেন দল ডালাস থেকে রওনা দিয়েছিল নিউইয়র্কে। ২৫০০ কিলোমিটার পথ তারা পাড়ি দিয়েছিল সাড়ে ৩ ঘণ্টায়। অন্যদিকে আর্জেন্টিনাকে ভ্রমণ করতে হয়েছে ১২০০ কিলোমিটার পথ, বিমানে সময় লেগেছে আড়াই ঘণ্টা।
নিউইয়র্কে খেলাটা শুরু হবে স্থানীয় সময় বেলা ৩টায়। কড়া রোদের মধ্যে খেলতে হবে দুই দলকে। বিশ্রামে ঘাটতি থাকলে তার প্রভাব দেখা যাবে মাঠে। গত ১৪ ফাইনালের ইতিহাস অন্তত তা–ই বলছে।
২০১২ ইউরো থেকে শুরু। সেবার প্রথম সেমি ফাইনালে জিতে শিরোপা জিতেছিল স্পেন। ২০১৩ নারী ইউরোতে প্রথম সেমিতে জেতা জার্মানি নরওয়েকে হারিয়েছিল ১-০ গোলে। ২০১৪ বিশ্বকাপে এক দিন বেশি বিশ্রাম পেয়েছিল জার্মানি। টাইব্রেকারে জিতে ফাইনাল নিশ্চিত করতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে সেটাই হয়ে উঠেছিল বড় প্রভাবক।
২০১৫ নারী বিশ্বকাপে এক দিন বেশি বিশ্রাম পেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। জাপানের সঙ্গে ১৬ মিনিটেই ৪ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল তারা। ২০১৬ ইউরোতে প্রথম সেমি ফাইনালে জিতেছিল পর্তুগাল, তুলনামূলক শক্তিশালী দল হয়েও ফাইনালে পরাস্ত হয়েছিল ফ্রান্স। ২০১৭ নারী ইউরোতে পাল্টে গিয়েছিল স্ক্রিপ্ট।
স্বাগতিক নেদারল্যান্ডস দ্বিতীয় সেমি ফাইনাল খেলে উঠলেও ডেনমার্ককে পরাস্ত করেছিল ফাইনালে। দুই সেমি ফাইনাল এক দিনে হলেও ডেনমার্কের ম্যাচ গড়িয়েছিল টাইব্রেকারে। অন্যদিকে ডাচরা জিতেছিল ৯০ মিনিটেই। ফলে সময়ের পার্থক্য খুব একটা ছিল না।
২০১৮ বিশ্বকাপ থেকে আবারও পুরোনো গল্পের ধারাই চলেছে। প্রথম সেমিফাইনাল জিতে ফ্রান্স জিতে নিয়েছিল বিশ্বকাপ। ২০১৯ নারী বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র এক দিন বেশি বিশ্রাম পেয়ে হারিয়েছিল ডাচদের। ২০২০ ইউরোতে এক দিন বেশি বিশ্রাম পেয়ে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দিয়েছিল ইতালি। ইংল্যান্ডের স্বাগতিক হওয়ার সুযোগ পরাস্ত হয়েছিল ইতালির পাওয়া বিশ্রামের কাছে।
২০২১ নারী ইউরোতেও হোম অ্যাডভান্টেজ ছিল ইংল্যান্ডের। কিন্তু সেবার এক দিন বেশি বিশ্রামও পেয়েছিল তারা। সব মিলিয়ে জার্মানিকে হারাতে বেগ পেতে হয়নি তাদের। ২০২২ বিশ্বকাপেও একই গল্প। প্রথম সেমিফাইনাল জিতে আর্জেন্টিনা উঠে যায় ফাইনালে। যদিও কাতারে সময়টাকে বড় বিষয় হিসেবে ধরা বেশ কঠিন।
শীতকালের বিশ্বকাপে বেশির ভাগ মাঠই ছিল শীতাতপনিয়ন্ত্রিত। তবুও ফাইনালে প্রথম সেমিতে জেতা দলই শিরোপা তুলেছে।
২০২৩ নারী বিশ্বকাপে প্রথমে সেমিফাইনাল খেলে শিরোপা নিজেদের করে নেয় স্পেন। ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে ১-০ গোলে। ২০২৪ ইউরোতে হয় স্পেন-ইংল্যান্ড মহারণ। সেখানে ২-১ গোলে জিতে চতুর্থবারের মতো ইউরো জিতেছিল স্পেন।
এবার পালা ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের। এক দিন বেশি বিশ্রাম নাকি কম ভ্রমণ—জয় হবে কাদের?