ইরান বিশ্বকাপে খেলবে কি না, জানেন না ফেডারেশন সভাপতি
ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে যাবে কি না, এ মুহূর্তে তিনি জানেন না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তাজ।
ক্রীড়া পোর্টাল ‘ভারজেশ থ্রি’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাজ বলেন, ‘এ হামলার পর বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আমাদের কাছ থেকে আশাবাদী হওয়ার প্রত্যাশা করা যায় না, এটুকু নিশ্চিত। যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা আমাদের মাতৃভূমিতে আঘাত হেনেছে। এ ঘটনা বিনা জবাবে পার পাবে না।’
একই বিষয়ে ইরানের সরকারি টেলিভিশনে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর আমরা বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে থাকতে পারব, এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা কম। ক্রীড়ার বিষয়টি যাঁরা দেখেন, তাঁরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’
এদিকে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো রোববারও ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত ছিল। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, অনুমান করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। এতে পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
খামেনি নিহত হওয়ায় বর্তমানে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে কোনো ম্যাচ হবে না। ফলে ঘরোয়া লিগ ও বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচগুলো স্থগিত থাকবে, যা দলের প্রস্তুতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে, যেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেখানেও হামলা চালিয়েছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কাতার।
মধ্যপ্রাচ্যের এ উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে ফুটবল, ক্রিকেট, ফর্মুলা ওয়ান, মোটোজিপিসহ বিভিন্ন খেলাতেও। ফলে আসন্ন বিশ্বকাপে ইরান শেষ পর্যন্ত অংশ নিতে পারবে কি না, সেই অনিশ্চয়তাও তৈরি হয়েছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘জি’–তে থাকা ইরান ১৫ জুন ক্যালিফোর্নিয়ায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে। ২১ জুন একই ভেন্যুতে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হওয়ার পর ২৬ জুন সিয়াটলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ মিসর। ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় এই বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা।