ফিফা কাউন্সিলে ক্ষমা চাইলেন ইনফান্তিনো
ফিফার অংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে তুমুল বিতর্কের পর জুরিখে প্রথম কাউন্সিলের সভার দিকে দৃষ্টি ছিল পুরো ফুটবল–বিশ্বের।
আজ সাড়ে তিন ঘণ্টার সেই ফিফা কাউন্সিলে বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে ফিফাপ্রধানের ক্ষমা চাওয়াতেই সন্তুষ্ট নন ইউরোপীয় ফুটবল কর্তারা। পরিকল্পনাটি কেন করা হয়েছিল, এর সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন—এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে চান তাঁরা। ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) সভাপতি ও ফিফার সহসভাপতি ডেবি হিউইট বলেছেন, প্রয়োজনীয় নথি প্রকাশ করে প্রশ্নগুলোর জবাব না দিলে ইনফান্তিনো ফিফা সভাপতি থাকার যোগ্যতা হারাবেন।
২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার কয়েক দিন পরই ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নামের একটি প্রস্তাব সামনে আসে। প্রথমে সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়, এরপর ফিফা তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ফিফার ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। বিতর্কের মুখে কয়েক দিনের মধ্যেই প্রস্তাবটি বাতিল করেন ইনফান্তিনো।
কাউন্সিলের সদস্যদের আগে না জানিয়ে এমন পরিকল্পনা করার জন্য আজ দুঃখ প্রকাশ করেছেন ফিফা সভাপতি। তবে হিউইটের ভাষায়, ক্ষমা চাওয়ার পরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর উত্তর মেলেনি। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, তাঁর অভিজ্ঞতায় এটি ছিল কাউন্সিলের সবচেয়ে খোলামেলা ও স্পষ্ট আলোচনাগুলোর একটি। কিন্তু তাঁরা যেসব বিষয়ে নির্দিষ্ট উত্তর চেয়েছিলেন, সেগুলোর কোনো জবাব পাননি।
হিউইট বলেন, ‘কেন নথি দেওয়া হচ্ছে না, সে প্রশ্নও তুলেছি। আমাদের বলা হয়েছে প্রশ্নগুলো লিখিতভাবে জমা দিতে।’
ইনফান্তিনোর ক্ষমা চাওয়ার মধ্যে কিছুটা অনুশোচনা ছিল বলে স্বীকার করেছেন হিউইট। তবে তাঁর মতে, অনুশোচনা সত্যিই গভীর হলে কাউন্সিলের সদস্যদের কাছে পরিকল্পনাটি গোপন রাখার জন্য শুধু দুঃখ প্রকাশ করলেই চলবে না; কী ঘটেছিল, তার ব্যাখ্যাও দিতে হবে। হিউইটের ভাষায়, নথি না দেখা পর্যন্ত এফএফইতে জড়িত ব্যক্তিদের আচরণ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন।
ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবিতে আগে থেকেই সরব উয়েফা। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এফএফই-সংক্রান্ত সব নথি প্রকাশের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি আদালতে আবেদন করেছে। ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতিও নিয়েছে তারা।
কাউন্সিলের বৈঠকে এফএফই ছাড়াও বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের স্থগিত লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা, ফিফা শান্তি পুরস্কার এবং সদস্যদেশগুলোর জন্য অর্থায়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
তবে এফএফই-সংক্রান্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর না মেলায় ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক কাটেনি।