শক্তিতে এগিয়ে ফ্রান্স

আধুনিক ফুটবলে পরপর দুবার বিশ্বকাপ জেতা সহজ নয় জানি। কিন্তু আমার মনে হয়েছে, ফ্রান্স এই অসাধ্য সাধন করতে পারবে। তাই কাতার বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই ফ্রান্সকে শীর্ষ ফেবারিট বলে আসছি। বিশ্বসেরার মুকুট ধরে রাখার খুব কাছাকাছি ওরা পৌঁছে গেছে। ফাইনালেও আমি ফ্রান্সকেই এগিয়ে রাখছি। কারণ, আর্জেন্টিনার চেয়ে ফরাসিদের দলীয় শক্তি বেশি। পরিপূর্ণ এক আক্রমণভাগ আছে দিদিয়ের দেশমের হাতে।

করিম বেনজেমার মতো স্ট্রাইকার বিশ্বকাপের আগেই ছিটকে গেছে। তবু ফাইনালে আসতে ফ্রান্সের খুব বড় কোনো সমস্যা হয়নি। ভালো লেগেছে স্ট্রাইকার অলিভিয়ের জিরুকে, যে কিনা এখন ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। মাঝমাঠে ফ্রান্সের বড় ভরসা পল পগবা ও কান্তে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই চোটে পড়েছে। তাদের অনুপস্থিতিও বোঝা যায়নি বিশ্বকাপজুড়ে। আরেকজনের কথা আলাদাভাবেই বলতে হচ্ছে, আঁতোয়ান গ্রিজমান। কোচ মাঝমাঠে খেলালেও সে আসলে সারা মাঠ চষে বেড়ায়। কখনো লেফটব্যাক, কখনো রাইটব্যাক, কখনোবা সেন্টার ফরোয়ার্ডে।

আর্জেন্টিনার সঙ্গে ফ্রান্সের পার্থক্য হলো ফ্রান্স পরিপূর্ণ পেশাদার ফুটবল খেলে। যেটাকে আপনি বলতে পারেন, আধুনিক ফুটবলের ব্যাকরণ মেনে বিশুদ্ধ ফুটবল। কোনো গ্যালারি শো নেই, নাটক নেই, কোনো হাঁকডাক নেই। মাঠে যা করার দরকার, ঠিক সেটাই করে। জিততে নামে এবং জিতে মাঠ ছাড়ে।

আরও পড়ুন

আর্জেন্টিনার খেলায় দেখার মতো অনেক কিছুই আছে, যেটা ফ্রান্সের খেলায় থাকে না। অপ্রয়োজনে বল চালাচালি করবে না ফ্রান্স। তবে তাদের খেলায় বৈচিত্র্য দেখছি। কোনো একক খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভর করে না দলটি। যার প্রমাণ কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনাল। এই দুটি ম্যাচে ফ্রান্সের আক্রমণের প্রাণ কিলিয়ান এমবাপ্পে গোল পায়নি। কিন্তু ম্যাচ দুটিতে একবারও মনে হয়নি ফ্রান্স হারতে পারে। অন্য খেলোয়াড়েরা পার করে নিয়েছে। এটাই বড় শক্তি ফ্রান্সের। সম্মিলিত চেষ্টাতেই ওরা আজকের অবস্থানে।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনা অনেকটাই মেসিনির্ভর। ফুটবল সমর্থকদের আবেগ আর ভালোবাসা রয়েছে আর্জেন্টিনার সঙ্গে। আজ সত্তর-আশি ভাগ সমর্থনও আর্জেন্টিনার দিকেই থাকবে। বিশ্বকাপে আজ মেসির শেষ ম্যাচ বলে ওর প্রতি জনতার ভালোবাসা উপচে পড়ছে। যতগুলো বিশ্বকাপ সে খেলেছে, এবারই সবচেয়ে ভালো নৈপুণ্য দেখিয়েছে। দোহায় বসে টিভিতে দেখছি, মেসির ওপর নানা প্রতিবেদন দেখানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মেসির কথা বলছেন।

আরও পড়ুন

এটা ঠিক, মেসি একাই প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করে দিতে পারে। শক্তিতে এগিয়ে থাকলেও ফ্রান্সের জন্য তাই ফাইনালটা কঠিনই হবে। তবে মেসি বাড়তি কিছু করতে না পারলে আর্জেন্টিনা ধুঁকবে এবং তখন ফ্রান্সের জেতার সম্ভাবনাই বেশি থাকবে। অবশ্য আজ যুক্তি এবং দলীয় শক্তিতে ফ্রান্সকে এগিয়ে রেখেও বলব, আমার মন চাইছে আমজনতার পছন্দের আর্জেন্টিনাই জিতুক। মেসির হাতে বিশ্বকাপ দেখতে চাই আমিও।