নেইমারকে নিয়ে আনচেলত্তির সিদ্ধান্ত ভুল, বলেছেন ব্রাজিলের সাবেক ফুটবলার

নরওয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায় নিশ্চিতের পর কেঁদে ফেলেন বদলি নামা নেইমারএএফপি

শেষ ষোলোয় নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। এ হারে দোষ কার? ফেলিপে মেলো সরাসরি বলেছেন, দোষটা ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তির।

ব্রাজিলের সাবেক এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার তাঁর দেশে ‘সেলেকাও স্পোরটিভি’ অনুষ্ঠানে এবার বিশ্বকাপের ধারাভাষ্য দিচ্ছেন। তাঁর মতে, ব্রাজিলের এই হারে আনচেলত্তি অন্যতম দোষীদের একজন।

কীভাবে, সেই ব্যাখ্যায় নেইমারের প্রসঙ্গ টেনেছেন ২০১০ বিশ্বকাপে খেলা মেলো। তবে তার আগে সরাসরি বলেছেন, ‘কোচের ঘাড়ে দোষ চাপানো খুব সহজ। কিন্তু কোচকেই দোষ দিতে হবে। ইতিহাসে অন্যতম সেরা কোচকে নিয়ে এসেছি আমরা। সবার আগে দোষটা তারই। তাকেই দোষ দিতে হবে।’

ব্রাজিলের হয়ে কনফেডারেশনস কাপজয়ী মেলো মনে করেন, লুকাস পাকেতার অনুপস্থিতিতে নেইমারকে শুরু থেকেই খেলানো উচিত ছিল আনচেলত্তির। চোট পাওয়ায় নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে ছিলেন না পাকেতা। গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে তাঁর জায়গায় খেলান ইতালিয়ান এই কোচ। নেইমার শুরু থেকে খেললে সম্ভবত ১৪ মিনিটে ব্রাজিলের পাওয়া পেনাল্টিটি তিনিই নিতেন।

ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি
এএফপি

ব্রুনো গিমারাইস সেই পেনাল্টি শট থেকে গোল করতে পারেননি। পরে ৬৭ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির বদলি হয়ে নামেন। ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে ব্রাজিলের একমাত্র গোলটি করেন নেইমার। আনচেলত্তি হারের পর নিজেই বলেছেন, ব্রাজিল দলে পেনাল্টি নেওয়ায় নেইমারই সবচেয়ে দক্ষ।

আরও পড়ুন

মেলো এ নিয়ে বলেন, ‘আমি বুঝি যে কোচের নিজস্ব কিছু ভাবনা-দর্শন থাকে, কিন্তু তাঁর তো পরিস্থিতিটাও একটু বোঝা উচিত, তাই না? আমি হলে শুরু থেকে নেইমারকে খেলাতাম, শুরুতে ওকে নামাতাম। প্রথমার্ধে ও মাঠে থাকলে হয়তো পেনাল্টি থেকে গোলটা পেয়ে যেত এবং ম্যাচের গল্পও অন্য রকম হতে পারত।’

আনচেলত্তি গত বছরের মে মাসে ব্রাজিল কোচের দায়িত্ব নেন। চলতি বছরের মে মাসে তাঁর মেয়াদ আরও চার বছর বাড়ায় ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। তখন অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, ব্রাজিলের লক্ষ্য তাহলে ২০২৬ বিশ্বকাপ, নাকি ২০৩০ বিশ্বকাপ?

ব্রাজিলের সাবেক ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ফেলিপে মেলো
ফেলিপে মেলোর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল

ব্রাজিলের ঘরোয়া ফুটবলে এমন এক গুঞ্জন তখন ছড়িয়ে পড়েছিল, ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য আনচেলত্তি দলকে পুরো প্রস্তুত করতে না পারায় তাঁর মেয়াদ আরও চার বছর বাড়িয়ে ২০৩০ বিশ্বকাপকে লক্ষ্য বানিয়েছে সিবিএফ। নরওয়ের কাছে হারের পর আনচেলত্তি নিজেও বলেছেন, ‘হার হলো নতুন এক অভিযানের শুরু।’

আরও পড়ুন

সেই অভিযানের লক্ষ্য যে ২০৩০ বিশ্বকাপ, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ নিয়ে সিবিএফের সমালোচনা করে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’তে লেখা কলামে বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি রোমারিও লেখেন, ‘আমি হলে বিশ্বকাপের আগে আনচেলত্তির চুক্তি নবায়ন করতাম না। কোচের কাজের মূল্যায়ন হওয়া উচিত সব সময় প্রতিযোগিতার পর। আর ফুটবল তো পারফরম্যান্সের চেয়েও বেশি ফলাফলের খেলা, এখানে ফলটাই শেষ কথা।’

ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোমারিও
এক্স/রোমারিও

নরওয়ের বিপক্ষে কাঙ্ক্ষিত সেই ফলটা না পাওয়ায় আনচেলত্তির সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী রোমারিও, ‘সত্যি বলতে, তাঁর কিছু পরিবর্তন আমি বুঝতে পারিনি, যেমন ব্রুনো গিমারাইসকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া। জানি না সে কোনো চোট পেয়েছিল কিংবা পেনাল্টি মিস করার কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল কি না। বাস্তবতা হলো, দ্বিতীয়ার্ধে এই পরিবর্তনের পর এমনিতেই ধুঁকতে থাকা দলটির খেলার ধার আরও কমে যায়। এতে প্রতিপক্ষ মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং হলান্ড অবাধ সুযোগ পেয়ে যায়।’

আরও পড়ুন