ইরান ইস্যুতে ফিফার বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ৮৬ বছর বয়সী ব্ল্যাটার, ‘বুঝতে পারছি না, কেন সে (ইনফান্তিনো) ইরানের ব্যাপারে তার অবস্থান পরিষ্কার করছে না।’

মারা যাওয়া নির্মাণশ্রমিকদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া নিয়েও ইনফান্তিনো চাপে আছেন বলে মনে করেন ব্ল্যাটার, ‘অবকাঠামো ও স্টেডিয়াম নির্মাণ করতে গিয়ে যে সব শ্রমিক মারা গেছে, তাদের জন্য তহবিল গঠন করতে গিয়ে সে বেশ ঝামেলায় পড়েছে। ফিফায় কোনো সাহসী ব্যক্তি থেকে থাকলে তার এসব নিয়ে কাজ করা উচিত। ইনফান্তিনোর তো সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মতোও সাহস নেই।’

কাতার বিশ্বকাপ থেকে ইরানকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে গত মাসে ফিফাকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়েছেন খোদ ইরানের ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরা। স্পেনের আইনজীবী ফার্ম রুইজ-হুয়ের্তা অ্যান্ড ক্রেসপোর মাধ্যমে এই চিঠি পেয়েছে ফিফা।

ইরানের বেশ কয়েকজন ফুটবলার এবং অন্য অ্যাথলেটরা তাঁদের দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে নিষিদ্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছেন ফিফার কাছে। তবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এখনো সে চিঠির জবাব না দেওয়ার অর্থ হলো, কাতার বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে ইরান।

বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে কাতারকে বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ আছে সেপ ব্ল্যাটারের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে মামলা চলেছে দীর্ঘদিন। গত জুনে ব্ল্যাটার অভিযোগ থেকে মুক্তি পেলেও এখনো তিনি সব ধরনের ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ।

কাতারকে ২০২২ বিশ্বকাপের স্বাগতিক হওয়ার সুযোগ দিয়ে ভুল করেছেন বলে কদিন আগে অনুশোচনা ধরেছে ব্ল্যাটারের কণ্ঠে, ‘এটা (কাতার) খুবই ছোট দেশ। ফুটবল এবং বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য উপযুক্ত নয়। খুব বাজে সিদ্ধান্ত ছিল। সেই সময়ের সভাপতি হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আমিই দায়ী।’

টুর্নামেন্ট শুরুর সপ্তাহখানেক আগেও এতটা জলঘোলা দেখেই বোঝা যায়, কাতার বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত ক্রীড়া আসর। এখন বিশ্বকাপটা ভালোয় ভালোয় হলেই হয়!