মেসি ও আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে মামলা আমেরিকায়
বিশ্বকাপের আগে নতুন এক ঝামেলায় জড়িয়ে গেলেন লিওনেল মেসি, জড়িয়ে গেল আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও (এএফএ)। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার একটি আদালতে প্রতারণা ও চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে মেসি ও এএফএর বিরুদ্ধে। আমেরিকান সংবাদমাধ্যম টিএমজেড আজ এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
মামলাটি করেছে ভিআইডি নামের একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, যারা সাধারণত খেলাধুলা ও সংগীত অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে।
ঘটনার পেছনে আছে গত অক্টোবরে ভেনেজুয়েলা ও পুয়ের্তো রিকোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দুটি প্রীতি ম্যাচ। গত আগস্টে মায়ামিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ভিআইডি এই দুটি ম্যাচ আয়োজনের একক স্বত্ব কিনে নেয় ৭০ লাখ ডলারে। চুক্তির শর্ত ছিল, চোট না থাকলে মেসি প্রতিটি ম্যাচে অন্তত ৩০ মিনিট মাঠে থাকবেন।
কিন্তু ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ম্যাচে মেসিকে দেখা যায় দর্শক হিসেবে, মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামের একটি বিশেষ সুইটে পরিবার নিয়ে তিনি বসেছিলেন। ভিআইডির দাবি, সেই সুইটের খরচও তারাই বহন করেছিল। ঠিক পরদিনই অবশ্য মেসি মাঠে নেমেছিলেন। ইন্টার মায়ামির হয়ে আটলান্টা ইউনাইটেডের বিপক্ষে এমএলএসের ম্যাচে দুই গোল করে ৪-০ জয়ে ভূমিকাও রাখেন। এরপর অবশ্য আর্জেন্টিনার জার্সিতে পুয়ের্তো রিকোর বিপক্ষে মাঠে নামেন মেসি, সে ম্যাচে আর্জেন্টিনা জেতে ৬-০ গোলে।
মামলায় আরও একটি অভিযোগ আছে। পুয়ের্তো রিকোর বিপক্ষে ম্যাচটি মূলত শিকাগোর সোলজার ফিল্ডে হওয়ার কথা ছিল, যার ধারণক্ষমতা ৬১ হাজার ৫০০। কিন্তু শেষমেশ সেটি সরিয়ে নেওয়া হয় ফোর্ট লডারডেলের চেজ স্টেডিয়ামে, যেটির ধারণক্ষমতা মাত্র ২১ হাজার ৫৫০। ভিআইডির দাবি, এতে তাদের ১০ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতি হয়েছে।
মাঠ বদলের কারণ নিয়ে দুপক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। এএফএর এক কর্মকর্তার মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির কারণে শিকাগোতে নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। অন্যদিকে শিকাগো কর্তৃপক্ষ বলছে, টিকিট বিক্রি কম হওয়াই ছিল আসল কারণ। ভিআইডির অভিযোগ, এ বছর চীনে ম্যাচ আয়োজনের মাধ্যমে ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল এএফএ। কিন্তু গ্রীষ্মে বিশ্বকাপসহ ব্যস্ত আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারের মাঝে সেই ম্যাচ আর হচ্ছে না। ফলে সব হারানো অর্থ ফেরত পেতেই মামলার পথ বেছে নিয়েছে ভিআইডি।
এএফএ এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।