ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে শেষ দিনে কোন দলের সামনে কী হিসাব–নিকাশ
২২ বছর পর গত মঙ্গলবার প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা নিশ্চিত করেছে আর্সেনাল। এরপরও অবশ্য কমেনি লিগের উত্তাপ। আজ রোববার রাতে প্রিমিয়ার লিগের শেষ রাউন্ডের ম্যাচগুলোতে ঠিক হবে কয়েকটি ক্লাবের ভাগ্য।
যেখানে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতার বাকি জায়গাগুলো এবং অবনমন হতে যাওয়া শেষ দলটির ভাগ্য নির্ধারণ হবে। শীর্ষে থাকা আর্সেনাল, ম্যানচেস্টার সিটি ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ইতিমধ্যেই চ্যাম্পিয়নস লিগ নিশ্চিত করেছে এবং তারা শীর্ষ তিনে শেষ করবে, সেটাও নিশ্চিত।
ইউরোপা লিগ ফাইনাল জয়ের পর এরই মধ্যে অ্যাস্টন ভিলাও চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা নিশ্চিত করে ফেলেছে। তবে উনাই এমেরির দলের লিগে চূড়ান্ত অবস্থানই ঠিক করে দেবে আগামী মৌসুমে ইংল্যান্ড থেকে আরও একটি, নাকি দুটি অতিরিক্ত দল চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলবে।
অন্যদিকে তলানিতে থাকা উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্স ও বার্নলির অবনমন ইতিমধ্যেই নিশ্চিত হয়েছে। তাদের সঙ্গে চ্যাম্পিয়নশিপে নামবে টটেনহাম কিংবা ওয়েস্ট হাম—এই দুই দলের একটি। চলুন দেখে নেওয়া যাক, মৌসুমের শেষ দিনে আর কী কী হিসাব–নিকাশ আছে।
চ্যাম্পিয়নস লিগে কারা যাবে
বিষয়টা একটু জটিল মনে হতে পারে, তবে ইউরোপা লিগের ফাইনালে অ্যাস্টন ভিলার জয়ে ছবিটা অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে। ইংল্যান্ড আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগের জন্য দুটি ইউরোপিয়ান পারফরম্যান্স স্পটের (ইপিএস) একটি পাওয়ায় এবার চারটির বদলে পাঁচটি প্রিমিয়ার লিগ দল খেলবে চ্যাম্পিয়নস লিগে। ইংল্যান্ডের মতো স্পেনও পাঁচটি জায়গা নিশ্চিত করেছে। আর্সেনাল, সিটি, ইউনাইটেড ও ভিলা—এই চার দল ইতিমধ্যেই নিশ্চিত।
তবে ভিলা ইউরোপা লিগ জেতায় এমন এক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যেখানে আগামী মৌসুমে ছয়টি ইংলিশ ক্লাব চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলতে পারে। সেটা হতে হলে ভিলাকে লিগে পঞ্চম স্থানে শেষ করতে হবে।
এখন তারা চতুর্থ স্থানে, পঞ্চম স্থানে থাকা লিভারপুলের চেয়ে তিন পয়েন্ট এগিয়ে। তাই আজ লিভারপুলকে ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে জিততে হবে এবং একই সঙ্গে আশা করতে হবে, ভিলা যেন ম্যানচেস্টার সিটির কাছে হেরে যায়। তাহলেই এমেরির দলকে টপকে চারে যেতে পারবে তারা।
বোর্নমাউথ ও ব্রাইটনের সমর্থকেরাও এমনটাই চাইবেন। কারণ, সেটি হলে লিভারপুলের সঙ্গে তাদের মধ্যে কোনো একটি দল ষষ্ঠ ইংলিশ ক্লাব হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা পাবে। শীর্ষ ছয়ে থাকা নিশ্চিত করতে বোর্নমাউথের শুধু নটিংহাম ফরেস্টের মাঠে এক পয়েন্ট পেলেই চলবে। অন্যদিকে ব্রাইটনকে ষষ্ঠ হতে হলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারাতে হবে, আর একই সঙ্গে বোর্নমাউথকে হারতে হবে।
ভিলা যদি চতুর্থ স্থান ধরে রাখে, তাহলে লিভারপুলের শীর্ষ পাঁচ নিশ্চিত করতে এক পয়েন্টই যথেষ্ট। তবে তারা যদি নিজেদের মাঠে ব্রেন্টফোর্ডের কাছে হেরে যায়, তাহলে বোর্নমাউথ ফরেস্টকে হারিয়ে এবং গোল ব্যবধানের ছয় গোলের ঘাটতি পুষিয়ে ফেলতে পারলেই কেবল লিভারপুল পঞ্চমের বাইরে চলে যাবে, যা একরকম অসম্ভবই বলা যায়।
ইউরোপা লিগে কারা যাবে
বোর্নমাউথ ইতিমধ্যেই অন্তত শীর্ষ সাতের মধ্যে থাকা নিশ্চিত করেছে। অর্থাৎ, তারা আগামী মৌসুমে হয় চ্যাম্পিয়নস লিগে, নয়তো ইউরোপা লিগে খেলবে। এই মুহূর্তে ষষ্ঠ ও সপ্তম স্থান পাওয়া দল ইউরোপার দ্বিতীয় সারির প্রতিযোগিতা ইউরোপা লিগে জায়গা পাবে। এর কারণ ম্যানচেস্টার সিটির এফএ কাপ জয় এবং ইংল্যান্ডের অতিরিক্ত একটি ইপিএস পাওয়া।
তবে যদি ইংল্যান্ডের ছয়টি ক্লাব চ্যাম্পিয়নস লিগে যায়, তাহলে বদলে একটি ইউরোপা লিগের জায়গা কমে যাবে। সে ক্ষেত্রে শুধু সপ্তম স্থান পাওয়া দলই ইউরোপা লিগে খেলবে। যদি বোর্নমাউথ টেবিলে লিভারপুলকে টপকে যায় এবং ইংল্যান্ড ছয়টি চ্যাম্পিয়নস লিগ স্পট না পায়, তাহলে লিভারপুল আগামী মৌসুমে ইউরোপা লিগে খেলা দুই দলের একটি হবে।
বর্তমানে ব্রাইটন সপ্তম স্থানে আছে এবং তাদের নিচে থাকা চেলসি ও ব্রেন্টফোর্ডের চেয়ে তারা এক পয়েন্ট এগিয়ে। এ পরিস্থিতিতে ব্রাইটন জিতলেই অন্তত ইউরোপা লিগ নিশ্চিত করবে। কিন্তু ব্রাইটন যদি জিততে না পারে এবং চেলসি সান্ডারল্যান্ডকে হারায়, তাহলে চেলসি তাদের টপকে যাবে। এমনকি ড্র করেও চেলসি ব্রাইটনকে ছাড়িয়ে যেতে পারে—যদি ব্রাইটন দুই গোলের ব্যবধানে হারে এবং ব্রেন্টফোর্ড অ্যানফিল্ডে জিততে না পারে। অন্যদিকে সান্ডারল্যান্ডেরও শীর্ষ সাতের মধ্যে শেষ করার সুযোগ আছে। এ জন্য তাদের দরকার ব্রাইটনের হার এবং ব্রেন্টফোর্ডের পয়েন্ট খোয়ানো।
কনফারেন্স লিগের কী হিসাব
আগামী মৌসুমের কনফারেন্স লিগের প্লে-অফ বাছাইপর্বের জন্য যে একটি জায়গা আছে, সেটির লড়াইটাও প্রায় একই রকম জটিল। বর্তমানে অষ্টম স্থানে থাকা চেলসিই সেই জায়গা ধরে রেখেছে। ম্যানচেস্টার সিটির ইএফএল কাপ জয় এবং ইংলিশ ক্লাবের অতিরিক্ত ইপিএস পাওয়ার কারণে এবার অষ্টম স্থান থেকেও কনফারেন্স লিগে খেলার সুযোগ মিলছে। সান্ডারল্যান্ডকে হারাতে পারলে চেলসি অন্তত কনফারেন্স লিগে খেলা নিশ্চিত করবে।
অন্যদিকে ব্রেন্টফোর্ড যদি চেলসির চেয়ে ভালো ফল করে, তাহলে তারাই শীর্ষ আটে থাকা নিশ্চিত করবে। বর্তমানে দশম স্থানে থাকা সান্ডারল্যান্ডও সুযোগের বাইরে নয়। তারা যদি চেলসিকে হারাতে পারে এবং একই সঙ্গে ব্রেন্টফোর্ড পয়েন্ট হারায়, তাহলে দুই দলকেই টপকে যেতে পারবে।
অবনমনের হিসাব–নিকাশ
আগামী মৌসুমে উলভস ও বার্নলির সঙ্গে চ্যাম্পিয়নশিপে নামতে হবে টটেনহাম কিংবা ওয়েস্ট হাম—এই দুই দলের একটিকে। ১৭তম স্থানে থাকা টটেনহাম অবশ্য শেষ দিনের আগে বেশ সুবিধাজনক অবস্থায় আছে। তারা লন্ডনের প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়েস্ট হামের চেয়ে দুই পয়েন্ট এগিয়ে, আর গোল ব্যবধানেও ১২ গোল এগিয়ে রয়েছে।
গাণিতিকভাবে এখনো নিশ্চিত না হলেও এভারটনের বিপক্ষে ড্র করলেই প্রায় নিশ্চিতভাবে প্রিমিয়ার লিগে টিকে যাবে স্পার্সরা। একমাত্র অসম্ভবের কাছাকাছি এক পরিস্থিতিতেই সেটা বদলাতে পারে। যদি টটেনহাম ড্র করে আর ওয়েস্ট হাম লিডসকে ১২ গোল বা তার বেশি ব্যবধানে হারায়। প্রিমিয়ার লিগের ৩৪ বছরের ইতিহাসে এমন ব্যবধানের জয় কখনো হয়নি।
রবার্তো দে জারবির দলের জন্য (ওয়েস্ট হাম) জয় মানেই নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়, তবে বেঁচে থাকার আশা ধরে রাখতে হলে তাদের লিডসকে হারাতেই হবে। যদি ওয়েস্ট হাম লিডসকে হারায় এবং একই সঙ্গে টটেনহাম এভারটনের কাছে হেরে যায়, তাহলে হ্যামার্সরাই প্রিমিয়ার লিগে টিকে যাবে।