স্পেনের বিশ্বজয়ের আসরে ভুভুজেলা আর জ্যোতিষ অক্টোপাসের দাপট

১৯৩০ সালে মন্টেভিডিওর সেই ধূসর বিকেলে বিশ্বকাপ নামে যে মহাযাত্রার শুরু হয়েছিল, তা আজ শতবর্ষের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। এই যাত্রার কোথাও পেলে-গারিঞ্চার সাম্বার ছন্দ, কোথাও ম্যারাডোনার ঈশ্বরপ্রদত্ত জাদুকরি ছোঁয়া, আবার কোথাও জিনেদিন জিদান কিংবা লিওনেল মেসির অমরত্বের পথে হেঁটে যাওয়া—সব মিলিয়েই তো এই ফুটবল-পুরাণ। ইতিহাসের ধুলো ঝেড়ে বিশ্বকাপের সব রোমাঞ্চকর স্মৃতি ফেরানোর আয়োজন—ফিরে দেখা বিশ্বকাপ।

আফ্রিকার মাটিতে প্রথম বিশ্বকাপ, এখন পর্যন্ত একমাত্রও। এই বিশ্বকাপই পেয়েছিল সর্বশেষ নতুন চ্যাম্পিয়ন—স্পেন। ২০১০ ফিফা বিশ্বকাপকে মনে রাখতে হবে আরও কিছু কারণে। যেমন কান ঝালাপালা করা ভুভুজেলা বাঁশি আর জার্মানির একটি অ্যাকুয়ারিয়াম থেকে শতভাগ সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী করা একটি অক্টোপাস।

এই বিশ্বকাপ কোনো লাতিন আমেরিকান দলই জিতবে বলে মনে হয়েছিল গ্রুপ পর্বের পর। কারণ, দ্বিতীয় রাউন্ডে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলসহ পাঁচটি দল ছিল এই মহাদেশের, যাদের মধ্যে কোয়ার্টার ফাইনালেও উঠে যায় চারটি। কিন্তু টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের কাছে ১–০ গোলে হেরে যাওয়া ইউরোপের স্পেনই ফাইনালে একই ব্যবধানে একই মহাদেশের নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে প্রথম শিরোপা জিতে নেয়। পুরো টুর্নামেন্টে সবচেয়ে কম গোল (৮টি) করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ঘটনা ছিল এটি।

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই আসরেই টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল জিতেছিলেন এমন একজন, যাঁর দল প্রথম তিনেই থাকতে পারেনি। সেই ফুটবলার ছিলেন উরুগুয়ের দিয়েগো ফোরলান। মহাদেশীয় প্লে–অফ জিতে বিশ্বকাপে জায়গা করা উরুগুয়ে ফোরলানের নৈপুণ্যে (যৌথভাবে সর্বোচ্চ ৫ গোল) চতুর্থ হয়।

আবার টানা এগারো ম্যাচ অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপ খেলতে নামা দক্ষিণ আফ্রিকা বিদায় নেয় প্রথম রাউন্ড থেকেই, যে অভিজ্ঞতা স্বাগতিক হিসেবে অন্য কোনো দলের ছিল না। অবশ্য আয়োজক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা নতুন অনেক কিছুই করার চেষ্টা করেছে। যেমন সেবারই প্রথম কিছু ম্যাচ কৃত্রিম ঘাসের ওপর খেলা হয়েছিল। এমবোম্বেলা (নেলস্প্রুটে) ও পিটার মোখাবা (পোলোকওয়ানে) স্টেডিয়ামে হাইব্রিড কার্পেট ব্যবহার করা হয়েছিল, যা প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম ঘাসের সমন্বয়ে তৈরি।

২০১০ বিশ্বকাপেই যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন চারজন। জার্মানির টমাস মুলার, স্পেনের ডেভিড ভিয়া, নেদারল্যান্ডসের ওয়েসলি স্নাইডার এবং উরুগুয়ের দিয়েগো ফোরলানরা ৫টি করে গোল করেন।
এই বিশ্বকাপেই প্রথম আগের বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্ট (চ্যাম্পিয়ন ইতালি ও রানার্সআপ ফ্রান্স) প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেয়।

২০১০ বিশ্বকাপ নিয়ে উচ্ছ্বসিত এক দক্ষিণ আফ্রিকান
রয়টার্স

হারিয়ে যাওয়া স্ট্রাইকার

বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ঘটনা এটি। ২০০৯ সালের জুনে ১-০ গোলে হেরে কলম্বিয়ার মেদেলিনের হোটেলে ফিরেছিল পেরু দল। বিশ্বকাপের আশা তাদের আগেই শেষ, দলের পরিবেশও বিষণ্ন। পরিকল্পনা ছিল পরদিন সকালে লিমায় ফেরার। কিন্তু মাঝরাতে হঠাৎ বদলে যায় সূচি। পেরুর প্রেসিডেন্ট অ্যালান গার্সিয়ার অনুরোধে বিমানবাহিনীর চার্টার্ড ফ্লাইট আগেভাগেই ছাড়বে—এই খবর পেয়ে তড়িঘড়ি বিমানবন্দরের পথে রওনা হয় পুরো দল। খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা—সবাই উঠে পড়েন বিমানে। ক্লান্ত শরীর নিয়ে কেউ খেয়ালই করেননি, একজন নেই।

সেই একজন ছিলেন ফরোয়ার্ড হেরনান রেনগিফো। কলম্বিয়ার বিপক্ষে শেষ তিন মিনিটে নামা স্ট্রাইকারটি নতুন সূচির খবরই শোনেননি। তিনি নির্ভার মনে হোটেলের কক্ষে ঘুমাতে চলে গিয়েছিলেন। সকালে ঘুম ভেঙে রেনগিফো দেখলেন, পুরো দল তাঁকে ফেলে চলে গেছে। ফাঁকা হোটেলে একা দাঁড়িয়ে আবিষ্কার করেন, তিনি এক হারিয়ে যাওয়া স্ট্রাইকার।

পরে অবশ্য কর্মকর্তারা তাঁর জন্য আলাদা টিকিটের ব্যবস্থা করেন।

আরও পড়ুন

পরিবার–১: দুই ভাই, দুই দেশ, এক বিশ্বকাপ

পরিবারকেন্দ্রিক গল্পের এক অদ্ভুত ভান্ডার ছিল এই বিশ্বকাপ। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি তৈরি করেছিলেন বোয়াটেং ভাইরা। বার্লিনে জন্ম নেওয়া কেভিন-প্রিন্স ও জেরোম বোয়াটেংয়ের বাবা ছিলেন ঘানার, কিন্তু মা আলাদা। জাতীয় দল বেছে নেওয়ার সময় কেভিন ঘানাকে, জেরোম জার্মানিকে বেছে নেন। ভাগ্যের পরিহাসে দুই দলই পড়ে একই গ্রুপে।

২০ জুন জোহানেসবার্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দুই সৎভাই মুখোমুখি হন দুই দেশের জার্সিতে। ম্যাচের আগে উত্তেজনাও কম ছিল না। কেভিন-প্রিন্স তখন জার্মান সমর্থকদের কাছে রীতিমতো ঘৃণার পাত্র। একে তো জার্মানিতে জন্ম নিয়ে ঘানার হয়ে খেলছেন, তার ওপর ইংলিশ এফএ কাপ ফাইনালে ট্যাকলে চোটে ফেলেছিলেন জার্মান অধিনায়ক মাইকেল বালাককে। সেই চোটেই বিশ্বকাপ মিস করেন বালাক।

তবে মাঠে কোনো ঝামেলা হয়নি। জার্মানি ১-০ গোলে জেতে।

জার্মানি ও ঘানার হয়ে মুখোমুখি দুই ভাই কেভিন–প্রিন্স ও জেরোম বোয়াটেং
এএফপি

হন্ডুরাস অবশ্য বিশ্বকাপে আরও বিরল পারিবারিক কীর্তি গড়েছিল। উইলসন, জনি ও জেরি পালাসিওস—তিন ভাই একসঙ্গে একই বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নেন; যা ইতিহাসে প্রথম। ব্যাপারটা কিন্তু আরও বড় কিছু হতে পারত। কারণ, পালাসিওস পরিবারে ফুটবলার ভাই ছিলেন মোট পাঁচজন। কিন্তু একজন বাদ পড়েন, আর সবচেয়ে ছোট ভাই এডউইন ২০০৭ সালে অপহরণের পর খুন হন। ফলে বিশ্বকাপের মঞ্চে তিন ভাইয়ের উপস্থিতির মধ্যেও ছিল এক পারিবারিক ট্র্যাজেডির ছায়া।

পরিবার–২: জামাই–শ্বশুর

আর্জেন্টিনা কোচ দিয়েগো ম্যারাডোনার জন্য বিশ্বকাপ ছিল এক অর্থে পারিবারিক পরীক্ষাও। কারণ, তাঁর দলের স্ট্রাইকার সের্হিও ‘কুন’ আগুয়েরো ছিলেন তাঁর মেয়ের প্রেমিক এবং নাতি বেঞ্জামিনের বাবা। তবে ম্যারাডোনা খুব স্পষ্ট করেই বলেছিলেন, ‘কুন তখনই খেলবে, যখন আমি মনে করব তার খেলা উচিত। তবে বেঞ্জা (ম্যারাডোনার নাতি বেঞ্জামিন) অনুরোধ করলেও আমি তাকে দলে রাখব না।’ পরে অবশ্য রসিকতা করে বলেন, ‘বেঞ্জা এখনো কথা বলতে পারে না, তাই সে আমাকে অনুরোধও করতে পারবে না।’ সেবার আর্জেন্টিনার পাঁচ ম্যাচের তিনটিতে মাঠে নেমেছিলেন আগুয়েরো।

আরও পড়ুন

পরিবার–৩: হরিষে বিষাদ

বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেদনাদায়ক পারিবারিক ঘটনাগুলোর একটিতে জড়িয়ে ছিলেন নেলসন ম্যান্ডেলা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ঠিক আগের দিন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তাঁর ১৩ বছর বয়সী নাতনি জেনানি ম্যান্ডেলা। সেই শোকের কারণেই দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি নেতা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি।

ভুভুজেলা: উচ্চ স্বরের ‘তারকা’

২০১০ বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের মতো আলোচনায় ছিল ভুভুজেলাও। দক্ষিণ আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী এই প্লাস্টিকের লম্বা ট্রাম্পেট মাঠের চেয়ে বেশি জায়গা দখল করেছিল সংবাদপত্র, টেলিভিশন আর দর্শকদের আলোচনায়। ভুভুজেলার শব্দকে অনেকে তুলনা করেছিলেন মৌমাছির ঝাঁকের সঙ্গে।

২০১০ বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল ভুভুজেলা
রয়টার্স

খেলোয়াড় ও কোচদের অভিযোগ ছিল, এই অবিরাম শব্দের মধ্যে মাঠে যোগাযোগ করাই কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। দর্শকদের অবস্থাও খুব একটা ভালো ছিল না। শব্দের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে পুরো বিশ্বকাপে ইয়ারপ্লাগের বিক্রি হঠাৎ বেড়ে যায়। কেপটাউনের এক ব্যবসায়ী দাবি করেছিলেন, মাত্র দুই দিনেই তাঁর পুরো স্টক শেষ হয়ে গিয়েছিল।

তবে সমালোচনা ভুভুজেলাকে থামাতে পারেনি; বরং সেটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ডাচ ডিজাইনাররা আইফোনের জন্য ভুভুজেলার রিংটোন বানান, যা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লাখ লাখ মানুষ ডাউনলোড করে। সবচেয়ে বেশি লাভবান হয় চীন। কারণ, বিশ্বে ব্যবহৃত ভুভুজেলার প্রায় ৯০ শতাংশই তৈরি হতো সেখানে।

উদ্বৃত্ত ও ঘাটতি

চিলি দল বিশ্বকাপ খেলতে এসেছিল অতিরিক্ত মালপত্র নিয়ে, যার মধ্যে অফিশিয়াল জার্সিই ছিল ১,০০০টি। কিন্তু এত জার্সির কোনো দরকারই ছিল না। চিলি ফাইনালে গেলেও ২৩ জনের দলের প্রত্যেকের জন্য ম্যাচপ্রতি গড়ে ৬টি করে জার্সি থাকত। অথচ চিলি বাদ পড়ে মাত্র চার ম্যাচ খেলেই।

উল্টো ঘটনা হন্ডুরাস দলে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে ২৬ মে বেলারুশের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ শেষে হন্ডুরাসের খেলোয়াড়েরা প্রতিপক্ষের সঙ্গে জার্সি বিনিময় করেননি। পরে দলের ম্যানেজার এর কারণ হিসেবে জানান, বেশি জার্সি আনেনি তাঁর দল।  

আরও পড়ুন

ঈশ্বরের নিতম্ব

ম্যারাডোনার এক অদ্ভুত ‘প্রভাব’ দেখা গিয়েছিল ব্যবসার দুনিয়ায়। দক্ষিণ আফ্রিকায় আর্জেন্টিনা দলের ক্যাম্প ছিল প্রিটোরিয়া ইউনিভার্সিটির হাই পারফরম্যান্স সেন্টারে। সেখানে গিয়ে ম্যারাডোনা টয়লেট দেখে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তাঁর মতে, কমোডগুলো যথেষ্ট আরামদায়ক নয়, আধুনিকও নয়। ফলে তিনি সেগুলো বদলে নতুন মডেল বসানোর অনুরোধ জানান।

এরপর আনা হয় ‘বাথরুম বিজার’ নামের এক আধুনিক কমোড। তিন স্তরের ফ্লাশ স্পিড, বিল্ট-ইন গরম পানির বিদে—সব মিলিয়ে বিলাসবহুল কমোড। এ নিয়ে খবর দেয় স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। জানায়, ম্যারাডোনা নিজের দলের জন্য বিশেষ কমোড চেয়েছেন, সেই কমোড ‘বাথরুম বিজার’। কয়েক দিনের মধ্যে ওই কমোডের বিক্রি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। দোকানগুলোতে মানুষ ভিড় করতে শুরু করে ‘ম্যারাডোনার টয়লেট’ দেখতে। শোরুমের জানালায় আর্জেন্টিনার পতাকার পাশেই জায়গা পায় সেই কমোড।

ম্যারাডোনার ‘ঈশ্বরের হাত’ বহু আগেই কিংবদন্তি হয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকায় এসে যেন প্রমাণ করলেন, তার ছোঁয়ায় শুধু ফুটবল নয়, একটি কমোডও বেস্টসেলার হয়ে যেতে পারে। অনেকেই বলতে থাকেন, এই কমোড পেয়েছে ‘ঈশ্বরের নিতম্বের’ আশীর্বাদ!

সব সময়ের মতো ২০১০ বিশ্বকাপেও মাঠের বাইরের ঘটনার জন্য আলোচিত ছিলেন ম্যারাডোনা। ছবিটি সে আসরে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার গোলের পর
রয়টার্স

কত বড় ধার্মিক!

১৩ জুনের বিকেল। দক্ষিণ আফ্রিকার লিম্পোপো প্রদেশের ৬১ বছর বয়সী ডেভিড মাকোইয়া জার্মানির খেলা দেখতে বসেছিলেন। কিন্তু সমস্যা হলো, বাড়ির একমাত্র টেলিভিশনে তখন চলছিল পরিবারের প্রিয় গসপেল (খ্রিষ্টধর্মীয় সংগীত) অনুষ্ঠান। স্ত্রী ও সন্তানদের অনুরোধ করেও লাভ হয়নি। শেষ পর্যন্ত রিমোট নিয়ে টানাটানি গড়ায় ভয়াবহ মারামারিতে।

এক পাশে মাকোইয়া, অন্য পাশে ৬৮ বছর বয়সী স্ত্রী এবং ৩৬ বছর বয়সী বড় ছেলে। আর দর্শক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাঁদের ২৩ বছর বয়সী মেয়ে। সদস্যসংখ্যার দিক থেকে এগিয়ে থাকায় মা ও ছেলে সহজেই তাঁদের প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে ফেলেন। মাথার গুরুতর আঘাতের কারণে মাকোইয়াকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। সেখানে তিনি মারা যান। পুলিশ পরিবারের সদস্যদের আটক করে তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনে।

আরও পড়ুন

ফাইনালের টিকিটের জন্য পাগলামি

বিশ্বকাপ ফাইনাল মাঠে বসে দেখতে মানুষ কত দূর যেতে পারে? দক্ষিণ আফ্রিকার মরিস ও নিকোল মেয়ার দম্পতি সেই প্রশ্নের এক অবিশ্বাস্য উত্তর দিয়েছিলেন। একটি রেডিও প্রতিযোগিতায় ঘোষণা আসে সবচেয়ে অদ্ভুত ও ঝুঁকিপূর্ণ কাণ্ড ঘটাতে পারলেই মিলবে ফাইনালের ভিআইপি টিকিট। তখন মরিস সিদ্ধান্ত নেন, তিনি কুমিরে ভরা ‘ক্রোকোডাইল রিভার’ সাঁতরে পার হবেন। স্ত্রী প্রথমে এটিকে পাগলামি ভাবলেও শেষ পর্যন্ত তিনিও রাজি হন।

সাঁতারের দিন তাঁদের সঙ্গে যান মরিসের ভাই। হাতে রাইফেল, যদি সত্যিই কোনো কুমির আক্রমণ করে! সৌভাগ্যক্রমে কুমির আক্রমণ করেনি। ভিডিওটি ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়ে, আর কয়েক দিন পর ঘোষণাও আসে। এই পাগলাটে দম্পতিই জিতেছেন বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট।

আট পায়ের এক তারকা

পল অক্টোপাস
রয়টার্স

২০১০ বিশ্বকাপের সবচেয়ে নির্ভুল বিশ্লেষক ছিল জার্মানির এক অ্যাকুয়ারিয়ামে থাকা অক্টোপাস, নাম পল। প্রতিটি ম্যাচের আগে তার সামনে রাখা হতো দুটি বাক্স। একটিতে জার্মানির পতাকা, অন্যটিতে প্রতিপক্ষের। প্রতিটির ভেতরে থাকত একটি সুস্বাদু ঝিনুক। অক্টোপাসটি নিচে নেমে এসে তার শুঁড় দিয়ে দুটি বাক্সের একটিকে জড়িয়ে ধরত, যা তার ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে গণ্য করা হতো। পল একটিও ভুল করেনি। এমনকি সার্বিয়ার বিপক্ষে (প্রথম রাউন্ডে) এবং স্পেনের বিপক্ষে (সেমিফাইনালে) জার্মানির দুটি হারের কথাও আগে থেকে জানিয়ে দিয়েছিল।

জার্মানি বাদ পড়ার পর পলকে জিজ্ঞেস করা হয়, কে চ্যাম্পিয়ন হবে। অক্টোপাসটি কোনো দ্বিধা ছাড়াই স্প্যানিশ পতাকা বহনকারী পাত্রটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তার ঝিনুকটি গিলে ফেলে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে ভবিষ্যদ্বক্তা হিসেবে নিজের জায়গা পাকা করে ফেলে পল। তবে পলের এই সাফল্যে যারা ক্ষুব্ধ হওয়ার কথা, তাদের মধ্যে চিতা বাঘ জাকুমিও থাকার কথা। এটি ছিল ২০১০ বিশ্বকাপের অফিশিয়াল মাসকট।

বেচারা বন্য বিড়ালটি পলের দাপটে দৃশ্যপট থেকে হারিয়েই গিয়েছিল। বিশ্বকাপে চোখ রাখা সব মানুষ মাসকটের নাম না জানলেও পলকে বিলক্ষণ চিনত।

আরও পড়ুন