২০০৬ বিশ্বকাপ
জিদানের ঢুস, স্টেডিয়ামে বোমা এবং জাতীয় সংগীত বিভ্রাট
১৯৩০ সালে মন্টেভিডিওর সেই ধূসর বিকেলে বিশ্বকাপ নামে যে মহাযাত্রার শুরু হয়েছিল, তা আজ শতবর্ষের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। এই যাত্রার কোথাও পেলে-গারিঞ্চার সাম্বার ছন্দ, কোথাও ম্যারাডোনার ঈশ্বরপ্রদত্ত জাদুকরি ছোঁয়া, আবার কোথাও জিনেদিন জিদান কিংবা লিওনেল মেসির অমরত্বের পথে হেঁটে যাওয়া—সব মিলিয়েই তো এই ফুটবল-পুরাণ। ইতিহাসের ধুলো ঝেড়ে বিশ্বকাপের সব রোমাঞ্চকর স্মৃতি ফেরানোর আয়োজন—ফিরে দেখা বিশ্বকাপ।
২০০৬ বিশ্বকাপে জার্মানিতে যদি কোনো ট্যাঙ্গো গানের শিরোনাম সবচেয়ে মানানসই হয়ে থাকে, তবে তা হলো—‘পোর উনা কাবেসা’ (একটি মাথার আঘাতে)। ফাইনালে ফ্রান্স অধিনায়ক জিনেদিন জিদান ইতালিয়ান ডিফেন্ডার মার্কো মাতেরাজ্জির করা অপমান সহ্য করতে না পেরে মাথা দিয়ে করেছিলেন সেই আঘাত। মাতেরাজ্জির বুকে করা আঘাতে যেন আহত হয়েছিল যেন পুরো ফুটবল–দুনিয়া।
জিদান ও মাতেরাজ্জি দুজনই সেই ফাইনালে গোল করেছিলেন। এরপর ঢুস দিয়ে জিদানের লাল কার্ড দেখা এবং টাইব্রেকারে ইতালি জেতে চতুর্থ শিরোপা। কিন্তু ম্যাচের চেয়ে বেশি আলোচনা হয় জিদানের সেই ঢুস দেওয়ার ঘটনাটি। ম্যাচ শেষে জিদান অবশ্য বলেন, নিজের প্রতিক্রিয়ার জন্য তাঁর কোনো অনুশোচনা নেই। তবে নিজের দ্বিতীয় বিশ্বকাপটা এভাবে হাতছাড়া করার বেদনা নিশ্চয় জিদানের ছিল
ইউরোপের মাটিতে আয়োজিত সেই বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছিল ইউরোপেরই দুটি দল। তবু দক্ষিণ আমেরিকার জন্য সেখানে ছিল আলাদা একটি আনন্দের মুহূর্ত। আনন্দটি এনে দেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোনালদো নাজারিও। গ্রুপ পর্বে ২২ জুন জাপানের বিপক্ষে দুটি এবং পাঁচ দিন পর শেষ ষোলোতে ঘানার বিপক্ষে একটি গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা (১৫ গোল) হয়ে যান এই স্ট্রাইকার। এর মাধ্যমে তিনি ছাড়িয়ে যান জার্মান কিংবদন্তি জার্ড মুলারকে (১৪)। যদিও পরে তা জার্মানিরই মিরোস্লাভ ক্লোসা কেড়ে নেন
তবে ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপ কিছু নেতিবাচক রেকর্ডের কারণেও আলোচিত। এটি ছিল তখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে সহিংস আসর। পুরো টুর্নামেন্টে দেখানো হয়েছিল ২৮টি লাল কার্ড ও ৩০৭টি হলুদ কার্ড। সেই বিশ্বকাপে আরও কিছু মাইলফলকের দেখা মিলেছিল। যেমন পর্তুগিজ গোলরক্ষক রিকার্ডো পেরেইরা কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টাইব্রেকারে তিনটি শট ঠেকিয়ে ইতিহাস গড়েন। বিশ্বকাপের টাইব্রেকারে প্রথম গোলরক্ষক হিসেবে তিনি তিনটি শট সেভ করেছিলেন।
বোমা
বিশ্বকাপ শুরুর এক সপ্তাহ আগে বার্লিনের অলিম্পিক স্টেডিয়াম চত্বরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একটি বোমা পাওয়া যায়। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে থাকা প্রেসবক্স খালি করে দেওয়া হয়। স্টেডিয়ামে কাজ করা এক মালি বোমাটি খুঁজে পান। পরে পরীক্ষা করে দেখা যায়, বোমাটিতে কোনো বিস্ফোরক ছিল না।
ফিফা জানায়, সেখানে কাজ করা সাংবাদিকেরা কোনো সময়ই প্রকৃত ঝুঁকিতে ছিলেন না। ফিফার মুখপাত্র কিথ কোপার বলেন, ‘জার্মানিতে এ ধরনের ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। কারণ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রশক্তির অনেক বোমা হামলার শিকার হয়েছিল দেশটি।’
ধূমপান না করার জন্য ধন্যবাদ
১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে ফিফা জানিয়েছিল, ম্যাচ চলাকালে কোনো দলের কোচিং স্টাফ ধূমপান করলে তা ঠেকানোর ক্ষমতা তাদের নেই। ধূমপানবিরোধী একটি সংগঠন নিষেধাজ্ঞার দাবি জানালে ফিফার মুখপাত্র কোপার বলেছিলেন, ‘আপনি ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারেন না।’
কোপার আরও বলেন, ‘আমরা শুধু অনুরোধ করতে পারি, আর সেটাই করেছি—তাঁরা যেন ধূমপান না করেন, অথবা অন্তত টেলিভিশন ক্যামেরা দেখলে সিগারেটটি আড়াল করেন। ফুটবল স্টেডিয়াম ধূমপানমুক্ত এলাকা নয়, আর প্রত্যেকেরই নিজের অভ্যাস নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আছে।’ কুপার তখন আরও যুক্তি দিয়েছিলেন, ‘একজন ধূমপায়ীর জন্য অভ্যাস ছাড়াটা কঠিন। আর ফুটবল ম্যাচের মতো চাপের মুহূর্তে একজন কোচের জন্য সেটা আরও কঠিন।’
তবে ৮ বছর পর, ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে ফিফার অবস্থান পুরোপুরি বদলে যায়। ফিফা ঘোষণা দেয়, মাঠের আশপাশে, বিশেষ করে ‘টেকনিক্যাল এরিয়া ও বদলি বেঞ্চে’ ধূমপান নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে সতর্ক করা হয়, কোনো কোচ প্রথমবার নিয়ম ভাঙলে সতর্কবার্তা পাবেন, দ্বিতীয়বার শাস্তির মুখে পড়বেন। এই নিয়মে প্রথম সতর্ক হওয়া কোচ ছিলেন মেক্সিকোর আর্জেন্টাইন কোচ রিকার্ডো লা ভোলপে। ইরানের বিপক্ষে ম্যাচে তাঁকে ধূমপান করতে দেখা গেলে ফিফা ব্যবস্থা নেয়।
ফিফার যোগাযোগ পরিচালক মার্কুস সেইগলার জানান, লা ভোলপেকে লিখিত সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বলা হয়, ‘কোচ ও খেলোয়াড়দের আদর্শ হওয়া উচিত।’ শুধু কোচ বা খেলোয়াড় নয়, দর্শকদেরও বিশ্বকাপ চলাকালে ধূমপান না করার পরামর্শ দিয়েছিল ফিফা।
‘নিখট রাউখেন, বিট্টে’ (অনুগ্রহ করে ধূমপান করবেন না)—এই স্লোগান স্টেডিয়ামের লাউডস্পিকারে প্রচার করা হতো। পাশাপাশি সিগারেটের ক্ষতি নিয়ে তথ্যসমৃদ্ধ প্রচারপত্রও বিতরণ করা হয়েছিল। এই উদ্যোগে জার্মান সরকারের সমর্থন ছিল। যদিও দর্শকদের গ্যালারিতে তামাকজাত পণ্য আনা নিষিদ্ধ করা হয়নি, তবু ফিফা জানিয়েছিল, তারা চায় ‘জার্মানির বিশ্ব ফুটবল উৎসবকে নিকোটিনমুক্ত রাখতে।’
আমি বাবার সঙ্গে যেতে চাই না
সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর ডিফেন্ডার দুসান পেতকোভিচ অদ্ভুত কারণে বিশ্বকাপ দল থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। দুসানের ভাষায়, বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়াটা নিজের বাবার জন্য খুব বেশি চাপ হয়ে যাচ্ছিল। দুসানের বাবা অবশ্য সাধারণ কোনো দর্শক ছিলেন না। তিনি ছিলেন সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রো দলের কোচ ইলিজা পেতকোভিচ।
দলে দুসানের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। অনেকেই এটিকে স্বজনপ্রীতির উদাহরণ বলে আখ্যা দেন। সেই চাপের মুখেই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন দুসান। তিনি বলেছিলেন, ‘এটা আমার জন্য, আমার বাবার জন্য এবং আমার সতীর্থদের জন্যও অতিরিক্ত চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
ফলে সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রো এক খেলোয়াড় কম নিয়েই জার্মানিতে বিশ্বকাপ খেলতে যায়। কারণ, ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, অসুস্থতা বা চোটের মতো ‘ফোর্স মেজর’ পরিস্থিতি ছাড়া নতুন কোনো খেলোয়াড়কে দলে নেওয়ার সুযোগ ছিল না।
চুরি করে কীভাবে ধরা পড়তে হয়
১৮ জুন দুপুরে ৪২ বছর বয়সী ইভা স্ট্যান্ডমান আতঙ্কিত হয়ে তাঁর স্বামীকে ফোন করেছিলেন। একটু আগেই এক চোর তাঁর মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়েছে। সেই ব্যাগে ছিল আরও অনেক কিছুর সঙ্গে সেদিন বিকেলে মিউনিখের অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়ার টিকিটও। ইভার পরিকল্পনা ছিল স্টেডিয়ামের ভেতরে গিয়ে স্বামী বের্ন্ডটের সঙ্গে দেখা করার। কারণ, বের্ন্ডট সরাসরি অফিস থেকে মাঠে যাওয়ার কথা ছিল।
ঘটনার পর ইভা স্বামীকে বলেন, তিনি ঠিক আছেন। এমনকি এই অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার পরও বের্ন্ডটকে ম্যাচটি উপভোগ করতে যেতে রাজি করান। স্টেডিয়ামে পৌঁছে বের্ন্ডট হঠাৎ লক্ষ্য করলেন, যে আসনে তাঁর স্ত্রীর বসার কথা ছিল, সেখানে এক তরুণ বসে আছে। তিনি চুপচাপ দুই পুলিশ কর্মকর্তার কাছে গিয়ে পুরো ঘটনা খুলে বলেন।
পুলিশ ওই যুবককে আটক করে। তার কাছেই পাওয়া যায় ইভার চুরি যাওয়া জিনিসপত্র, এমনকি ম্যাচের টিকিটটিও। মিউনিখ পুলিশের এক মুখপাত্র পরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘চোরটি মানিব্যাগে টিকিটটি পেয়ে ম্যাচ দেখতে চলে এসেছিল। সে কল্পনাও করেনি যে তাঁর পাশের আসনেই বসবেন সেই নারীর স্বামী, যার কাছ থেকে সে চুরি করেছে।’ শেষ পর্যন্ত হাজতের ভেতরে বসে সেই বোকা চোর নিজের ফুটবলপ্রীতিকেই হয়তো দুষেছেন।
অধিনায়করা
২০০৬ বিশ্বকাপে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড নিয়েও কম আলোচনা হয়নি। সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক ঘটনা ঘটেছিল অ্যাঙ্গোলা দলকে ঘিরে। ১১ জুন পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচে অ্যাঙ্গোলার অধিনায়ক ছিলেন ফাব্রিক আকওয়া। কিন্তু ৬০ মিনিটে তিনি বদলি হয়ে মাঠ ছাড়লে আর্মব্যান্ড যায় পাউলো ফিগেরেডোর হাতে। পরে তিনিও ৮০ মিনিটে বদলি হয়ে গেলে অধিনায়কত্ব পান আন্দ্রে মাকাংগা। মাঝখানে অল্প সময়ের জন্য আর্মব্যান্ড গিয়েছিল মার্কোস মিলয়ের হাতেও।
১০ দিন পর প্রায় একই ঘটনা আবার ঘটে। আকওয়া ৫১ মিনিটে জায়গা ছাড়েন ফালভিও আমাদোকে। এরপর ৭৩ মিনিটে ফিগেইরেদো বদলি হন রুই মার্কেসের। তবে এবার শেষ পর্যন্ত অধিনায়কত্ব ছিল জোয়াও পেরেইরা জাম্বার হাতে।
১৪ জুন তিউনিসিয়া ও সৌদি আরবের ২-২ ড্রয়ের ম্যাচেও অধিনায়কের আর্মব্যান্ড নিয়ে ঘটেছিল আবেগঘন এক মুহূর্ত। সৌদি অধিনায়ক হুসেইন সোলিমানি নিজের সতীর্থ সামি আল জাবেরকে সম্মান জানাতে চেয়েছিলেন। আল জাবের ছিলেন সৌদি আরবের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার। তিনি ১৬৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলেন এবং টানা চারটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিলেন। ম্যাচের ৮২ মিনিটে আল জাবের মাঠে নামলে সুলিমানি মাঠ না ছেড়েই নিজের আর্মব্যান্ড তুলে দেন তাঁর হাতে। আল জাবের ২০০২ সালে জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়েছিলেন। কিন্তু ২০০৫ সালে আবার দলে ফেরেন।
এই সম্মান আরেকবার দেখা যায় ১৯ জুন ইউক্রেনের বিপক্ষে ম্যাচে। সেদিনও আল জাবের ৮২ মিনিটে মাঠে নামেন, তখনো অধিনায়কের আর্মব্যান্ড তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবে স্পেনের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে আর এমন কিছু করার প্রয়োজন হয়নি। কারণ, সেদিন আল জাবের শুরু থেকেই খেলেছিলেন এবং পুরো ৯০ মিনিট মাঠে ছিলেন। অন্যদিকে তিউনিসিয়ার রিয়াদ বোয়াজিজি ছিলেন সেই বিশ্বকাপের একমাত্র অধিনায়ক, যিনি নিজের দলের প্রতিটি ম্যাচেই বদলি হয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন।
জাতীয় সংগীত ছাড়াই
১৩ জুন ফ্রাঙ্কফুর্টে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ২-১ গোলে হারের পর টোগো দলের খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তারা খুবই ক্ষুব্ধ ছিলেন। তবে শুধু হার নয়, তাঁদের রাগের আরও একটি কারণ ছিল। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে টোগোর খেলোয়াড়রা জাতীয় সংগীতই গাইতে পারেননি। কারণ, স্টেডিয়ামের সাউন্ড অপারেটর ভুল করে টোগোর বদলে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় সংগীতই দুবার বাজিয়ে দেন। এই ভুলের ঘটনায় টোগোর কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদও জানান।
আরেকজন খেলোয়াড়ও জাতীয় সংগীত গাইতে পারেননি, তবে ভিন্ন কারণে। তিনি ছিলেন ইতালির মাউরো কামোরানেসি। ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় তাঁর ঠোঁট নড়ছিল না। সাংবাদিকেরা পরে কারণ জানতে চাইলে আর্জেন্টিনায় জন্ম নেওয়া কামোরানেসি খুব সহজভাবে বলেন, ‘আমি জাতীয় সংগীত গাই না; কারণ, আমি এটা জানিই না।’
একটি শিল্পকর্ম
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে টাইব্রেকারে জার্মান গোলরক্ষক জেনস লেহমানের দুটি সেভকে অনেক সমর্থকই ‘শিল্পকর্ম’ বলে আখ্যা দেন। তবে জার্মানির সেই জয়ের কৃতিত্ব শুধু গোলরক্ষকের একার নয়। শুটআউট শুরুর আগেই লেহমান একটি কাগজ মনোযোগ দিয়ে পড়ে নিয়েছিলেন, যা তাকে দিয়েছিলেন কোচ ইয়ুর্গেন ক্লিন্সম্যানের এক সহকারী।
সেই কাগজে লেখা ছিল আর্জেন্টিনার নির্ধারিত শুটারদের নাম এবং চাপের মুহূর্তে তাদের শট নেওয়ার ধরন ও প্রবণতা। লেহমান সেই কাগজটি খুব যত্ন করে নিজের মোজার ভেতর শিনগার্ডের সঙ্গে লুকিয়ে রাখেন, যাতে প্রয়োজনের সময় দ্রুত দেখে নিতে পারেন। এই ম্যাচ শেষে সেই কাগজ তিনি দান করেন জার্মানির বন শহরের মিউজিয়াম অব কনটেম্পোরারি হিস্টোরিতে, যেখানে এটি এখন স্থায়ী প্রদর্শনীতে সংরক্ষিত।