চ্যাম্পিয়নস লিগের এ মৌসুমে যে নতুন নিয়মগুলো চালু হচ্ছে
চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুমের লিগ পর্ব শুরু হচ্ছে আজ। ইউরোপের এই সেরা ক্লাব প্রতিযোগিতায় এবার যুক্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি নতুন নিয়ম। এর অনেকগুলোই অবশ্য ইউরোপের শীর্ষ ঘরোয়া লিগগুলোতে এরই মধ্যে চালু হয়ে গেছে। দেখা গেছে সর্বশেষ বিশ্বকাপেও। তবে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে এই নিয়মগুলো চালু হচ্ছে এবারই প্রথম।
* ম্যাচে অহেতুক সময়ক্ষেপণের বিষয়ে একেবারেই ছাড় দেবে না চ্যাম্পিয়নস লিগ কর্তৃপক্ষ। চলতি মৌসুমে ইউরোপের শীর্ষ ঘরোয়া লিগগুলোতে চালু হওয়া কঠোর নিয়মগুলো এবার প্রয়োগ করা হবে ইউরোপ–সেরার মঞ্চেও।
* বদলি হওয়া কোনো খেলোয়াড়কে মাঠ ছাড়তে হবে মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি মাঠ ছাড়তে না পারলে, বদলি খেলোয়াড়কে বাইরে অপেক্ষা করতে হবে। প্রথমবার খেলা থামার পর অন্তত এক মিনিট অতিবাহিত হলে তবেই মাঠে নামতে পারবেন সেই বদলি খেলোয়াড়।
* একইভাবে থ্রো-ইন কিংবা গোলকিক নেওয়ার সময় খেলোয়াড়দের দ্রুত খেলা শুরুর জন্য রেফারি পাঁচ সেকেন্ডের কাউন্টডাউন দিতে পারবেন। যদি কোনো দল কাউন্টডাউনের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে প্রতিপক্ষ থ্রো-ইন পেয়ে যাবে। আর গোলকিকের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে কিক নিতে না পারলে প্রতিপক্ষ দল সরাসরি কর্নার কিক পেয়ে যাবে।
* মাঠে কোনো খেলোয়াড় চোট পেয়ে চিকিৎসার জন্য ফিজিওর সাহায্য নিলে, তাকে অন্তত এক মিনিটের জন্য মাঠের বাইরে অবস্থান করতে হবে। তবে গোলকিপারদের ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রযোজ্য নয়। এ ছাড়া ফাউলের শিকার হয়ে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে যদি লাল বা হলুদ কার্ড দেখতে হয়, তবে সেই চোট পাওয়া ফুটবলারকে বাইরে থাকতে হবে না।
* ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআরের কার্যক্ষেত্র বাড়িয়ে নতুন কিছু ক্ষেত্র যুক্ত করেছে উয়েফা। এখন থেকে ভুল ফুটবলারকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে ভিএআরের সরাসরি হস্তক্ষেপ করার সুযোগ রয়েছে। যদি মূল রেফারি কোনো অপরাধের জন্য ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখান, তবে ভিএআর তা সংশোধন করে দিতে পারবে। তবে অপরাধটির ওপর পুনর্মূল্যায়ন করা যাবে না।
* পাশাপাশি ভুলবশত কাউকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেওয়া হলে, সে ক্ষেত্রেও ভিএআর বুথ থেকে রেফারিকে পিচসাইড মনিটরে গিয়ে দৃশ্যটি আবার দেখার পরামর্শ দেওয়া যাবে।
* কর্নার বা ফ্রি-কিক নেওয়ার ঠিক মুহূর্তে আক্রমণকারী দলের ফাউল এবং গোলকিক থেকে তৈরি হওয়া সম্ভাব্য হ্যান্ডবল–সংক্রান্ত বিভ্রান্তি দূর করতেও ভূমিকা রাখবে ভিএআর।
* প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বলার সময় হাত বা জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে রাখলে সরাসরি লাল কার্ড দেখানোর নিয়ম করেছে ফিফা। তবে উয়েফা জানিয়েছে, তারা ফিফার মতো সরাসরি লাল কার্ডের পথে হাঁটবে না। কোনো খেলোয়াড় যদি অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের উদ্দেশ্যে মুখ ঢাকেন, তবে রেফারি তাকে হলুদ কার্ড দেখাতে পারবেন। ম্যাচ শেষে তদন্তের পর শাস্তির সুযোগ তো থাকছেই।
* আগের নিয়ম অনুযায়ী গ্রুপ পর্বে তিন হলুদ কার্ড দেখলে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পোহাতে হতো। নতুন নিয়মে ফুটবলারদের কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে চারটি হলুদ কার্ড পাওয়ার পর প্রথম এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা আসবে। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব শেষ হওয়ার পরপরই সব হলুদ কার্ডের হিসাব মুছে যাবে। অর্থাৎ সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে সরাসরি লাল কার্ড না পেলে ফাইনাল ম্যাচ মিস করার কোনো আশঙ্কা থাকবে না।