ইফতারের বিরতিতে মুসলিম ফুটবলারদের প্রতি অসম্মান, গার্দিওলার ক্ষোভ
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের একটি ম্যাচে মুসলিম ফুটবলারদের ইফতারের বিরতির সময় কটূক্তির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার এল্যান্ড রোডে ম্যানচেস্টার সিটি-লিডস ইউনাইটেড ম্যাচের সাময়িক বিরতিতে গ্যালারি থেকে উচ্চ স্বরে দুয়োধ্বনি শোনা যায়। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা।
স্থানীয় সময় সাড়ে পাঁচটায় শুরু হওয়া সিটি-লিডস ম্যাচের ১৩তম মিনিটে খেলা থামানো হয়, যাতে দুই দলের খেলোয়াড়েরা সাইডলাইনে গিয়ে পানি ও তরল পান করতে পারেন। এ সময় স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় একটি বার্তা প্রদর্শিত হয়। যেখানে লেখা ছিল—‘যেহেতু আজকের ম্যাচটি পবিত্র রমজান মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তাই খেলোয়াড়দের রোজা ভাঙার (ইফতার) সুযোগ দিতে খেলা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।’
ম্যাচটিতে সিটির শুরুর একাদশে ছিলেন তিন মুসলিম খেলোয়াড় রায়ান শেরকি, রায়ান আইত-নুরি ও ওমর মারমুশ। এ ছাড়া বেঞ্চে ছিলেন আবদুকোদির খুসানভ। এক মিনিটেরও কম সময় স্থায়ী হওয়া ওই বিরতির সময় গ্যালারি থেকে কিছু দর্শকের কটূক্তি ভেসে আসে। ম্যাচে আন্তোয়ান সেমেনিওর গোলে ১–০ ব্যবধানে জেতে সিটি।
ইফতারের বিরতির ঘটনা নিয়ে ম্যাচ শেষে সিটি কোচ গার্দিওলা বলেন, ‘আমরা অল্প কিছু ভিটামিন গ্রহণ করেছি, কারণ শেরকি ও আইত-নুরি আজ কিছু খায়নি।’
কটূক্তিকারীদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে স্প্যানিশ এই কোচ বলেন, ‘এটি একটি আধুনিক বিশ্ব, তাই না? বিশ্বে আজ কী ঘটছে, তা আপনারা দেখছেন। ধর্ম ও বৈচিত্র্যকে সম্মান জানানোই হলো আসল কথা। প্রিমিয়ার লিগ বলেছে যে আপনারা এক বা দুই মিনিট সময় নিতে পারেন, যাতে (রোজাদার) খেলোয়াড়েরা ইফতার করতে পারে। এটি যেমন হওয়া উচিত তেমনই হয়েছে, দুর্ভাগ্যবশত (কিছু মানুষ তা মানতে পারেনি)।’
দুয়োধ্বনি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় সংবাদ সম্মেলনে আসা লিডসের সহকারী কোচ এডমন্ড রিমারকে। তিনি বলেন, ‘আমরা এটি থেকে শেখার চেষ্টা করছি। পরেরবার আমাদের আরও ভালো করতে হবে।’
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যে এই সময়ে সূর্যাস্ত হয় বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে। যার ফলে প্রিমিয়ার লিগে শুধু শনিবারের সাড়ে পাঁচটা ও রোববারের সাড়ে চারটায় শুরু ম্যাচগুলোয় ইফতারের বিরতি দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী সংস্থা ‘কিক ইট আউট’ ইফতারের বিরতিতে কিছু দর্শকের অসম্মানজনক কাণ্ডের বিষয়টিকে ‘ব্যাপক হতাশাজনক’ বলে অভিহিত করেছে। সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রোজার সময় মুসলিম খেলোয়াড়দের রোজা ভাঙার অনুমতি দেওয়ার জন্য খেলা সাময়িক বিরতি রাখা এখন স্বীকৃত প্রটোকল। মুসলিম খেলোয়াড় ও সম্প্রদায়ের কাছে ফুটবলকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তোলার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দৃশ্যমান অংশ। কিন্তু আজকের প্রতিক্রিয়া দেখায় যে শিক্ষা এবং মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ফুটবলকে এখনো দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।’
২০২১ সাল থেকে প্রিমিয়ার লিগে ইফতারের মুহূর্তে সাময়িক বিরতি চালু আছে। এ বছরও ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে রোজার সময় মুসলিম ও অমুসলিম খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও অন্যদের করণীয় সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।