রোনালদো ‘যত বড় তারকাই হন’ বলে তাঁকে কেন সতর্ক করল সৌদি প্রো লিগ
দলবদলের খরচ নিয়ে সৌদি প্রো লিগে চলমান বিতর্ক তু্ঙ্গে উঠেছে। সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ) আল নাসরে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করছে না; বরং প্রতিদ্বন্দ্বী আল হিলালকে সুবিধা দিচ্ছে—এই অভিযোগ এনে আল রিয়াদের বিপক্ষে গত সোমবার লিগের ম্যাচটি খেলেননি আল নাসরের তারকা ফরোয়ার্ড ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
গুঞ্জন আছে, পিআইএফ যদি ক্লাব ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের নিশ্চয়তা না দেয়, তবে আজ রাতে আল ইত্তিহাদের বিপক্ষে ম্যাচেও না খেলতে পারেন রোনালদো। ক্লাবসংশ্লিষ্ট সূত্র অবশ্য সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, আজ রাতের ম্যাচে রোনালদোর খেলার ব্যাপারে আশাবাদী তারা।
এর মধ্যে রোনালদোর উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়েছে সৌদি প্রো লিগ কর্তৃপক্ষ। প্রো লিগের পক্ষ থেকে রোনালদোকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তিনি যত বড় ব্যক্তিই হন না কেন, নিজের ক্লাবের বাইরে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।
শীতকালীন দলবদলে আল নাসরে যথেষ্ট পরিমাণ বিনিয়োগ না করার কারণেই মূলত পিআইএফের ওপর ক্ষুব্ধ হন রোনালদো। বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বী দল আল হিলাল রোনালদোর সাবেক রিয়াল মাদ্রিদের সতীর্থ করিম বেনজেমাকে দলে ভেড়ানোয় তাঁর অসন্তোষ আরও বেড়েছে। আল হিলালের ৭৫ শতাংশ মালিকানাও পিআইএফের।
এসব ঘটনাই মূলত প্রতিবাদী করে তোলে রোনালদোকে। তবে এর পরিণতিতে সর্তকবার্তাও শুনতে হচ্ছে তাঁকে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে সৌদি প্রো লিগ জানিয়েছে, প্রতিটি ক্লাবই নিজেদের আর্থিক বিষয় স্বাধীনভাবে পরিচালনা করে।
লিগের এক মুখপাত্র বলেন, ‘সৌদি প্রো লিগের কাঠামো খুবই স্পষ্ট। প্রতিটি ক্লাব একই নিয়মের আওতায় স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয়। প্রতিটি ক্লাবের নিজস্ব বোর্ড, নির্বাহী ও ফুটবল ব্যবস্থাপনা রয়েছে। খেলোয়াড় কেনা, ব্যয় ও কৌশল নির্ধারণের সিদ্ধান্ত ক্লাবই নেয়, নির্ধারিত আর্থিক কাঠামোর মধ্য থেকে।’
ওই মুখপাত্র আরও বলেন, ‘ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আল নাসরে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ক্লাবের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত এবং ক্লাবের বিকাশ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। একজন শীর্ষ প্রতিযোগীর মতো তিনিও জিততে চান। তবে কোনো ব্যক্তি—তিনি যত বড় তারকাই হন, নিজের ক্লাবের বাইরে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।’
মুখপাত্র জানান, সাম্প্রতিক দলবদল কার্যক্রমই এই স্বাধীনতার প্রমাণ। তাঁর মতে, একটি ক্লাব নির্দিষ্টভাবে শক্তি বাড়িয়েছে, আরেকটি ক্লাব ভিন্ন পথে হেঁটেছে। এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে অনুমোদিত আর্থিক সীমার মধ্যেই।
লিগে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথাও তুলে ধরেন সৌদি প্রো লিগের এই মুখপাত্র, ‘শীর্ষ চার দলের মধ্যে পয়েন্ট ব্যবধান খুবই কম। শিরোপা লড়াই এখনো জমে আছে। এই ভারসাম্যই প্রমাণ করে, ব্যবস্থাটি কার্যকরভাবে চলছে। আমাদের মনোযোগ ফুটবলেই—মাঠে, যেখানে এর জায়গা। খেলোয়াড় ও সমর্থকদের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক লিগ গড়ে তোলাই লক্ষ্য।’
জানা গেছে, খেলোয়াড় কেনার অর্থ সরাসরি পিআইএফ থেকে আসে না। এর জন্য রয়েছে একটি আলাদা ‘প্লেয়ার অ্যাকুইজিশন ফান্ড’। এই তহবিল সৌদি প্রো লিগ কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনা করে এবং ক্লাবের আকার অনুযায়ী প্রতিবছর অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। দেশটির চারটি বড় ক্লাব—আল নাসর, আল হিলাল, আল ইত্তিহাদ ও আল আহলি। তারা গত গ্রীষ্মকালে দলবদল মৌসুমের আগে প্রায় সমপরিমাণ অর্থ পেয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
সে সময় বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করে আল নাসর। জোয়াও ফেলিক্স ও কিংসলে কোমানকে দলে আনে তারা। পাশাপাশি ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নতুন চুক্তিতে রোনালদোকেও রেখে দেয়। ফলে পরবর্তী আর্থিক জোগান পাওয়ার আগে তাদের খেলোয়াড় কেনার তহবিলের বড় অংশই খরচ হয়ে গেছে। অন্যদিকে আল হিলালের বেনজেমাকে দলে ভেড়ানোর অর্থ জুগিয়েছেন একজন বেসরকারি বিনিয়োগকারী। চাইলে আল নাসরও একই পথে হাঁটতে পারত; কিন্তু তারা তা করেনি।
শুক্রবারের ম্যাচে রোনালদোর খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে প্রশংসামূলক বার্তা দিয়েছে আল নাসর, ‘এই কিংবদন্তির গল্প থামছে না। আপনার অঙ্গীকার, মানসিকতা ও নেতৃত্ব আমাদের স্বপ্নকে এগিয়ে নেয়। শুভ জন্মদিন, ক্রিস্টিয়ানো!’