আর্জেন্টিনা দল থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ভাবছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ

আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজএএফপি

এমিলিয়ানো মার্তিনেজ তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ধাক্কাগুলোর একটির মুখোমুখি হয়েছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আবারও নায়ক হওয়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর। আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয় শিরোপা এনে দেওয়ার লক্ষ্যে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে একের পর এক দুর্দান্ত সেভও করেন তিনি।

কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলটি আর ঠেকাতে পারেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় আজ আভাস দিয়েছেন, জাতীয় দলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি নতুন করে ভাবছেন।

বিশ্বকাপ হারার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় কাউকে দোষারোপ করেননি মার্তিনেজ। বরং টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিততে না পারার যন্ত্রণা প্রকাশের পাশাপাশি জাতীয় দলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার কথা জানিয়েছেন। সোমবার রাতে বুয়েনস এইরেসে ফিরে ঠান্ডা আর বৃষ্টি উপেক্ষা করে জড়ো হওয়া হাজারো সমর্থকের অভ্যর্থনা পাওয়ার পর ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন বার্তা লিখেছেন মার্তিনেজ।

আরও পড়ুন

বিশ্বকাপজয়ী এই গোলরক্ষক লিখেছেন, ‘স্বপ্ন দেখেছিলাম, আমরা আবারও বিশ্বকাপ জিতব। ট্রফিটা আবার আর্জেন্টিনায় নিয়ে যাব, আরেকবার ইতিহাস গড়ব।’

কাঁদছেন এমি মার্তিনেজ
ইনস্টাগ্রাম

তবে এরপর যা লিখেছেন, সেটি আর্জেন্টিনা সমর্থকদের খানিকটা ভাবিয়ে তুলতে পারে, ‘সত্যি বলতে, এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এখন অনেক কিছু নিয়ে ভাবার সময়। সামনে কীভাবে এগিয়ে যাওয়া যায়, সেটাই ভাবতে হবে। আর হয়তো এটাও ভাবার সময় এসেছে, আমার সরে দাঁড়ানোর সময় হয়েছে কি না।’

২০২১ সালের ৩ জুন দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে চিলির বিপক্ষে ১-১ ড্র ম্যাচ দিয়ে জাতীয় দলে অভিষেকের পর থেকেই তিনি নিজেকে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। লিওনেল মেসিসহ সতীর্থদের কাছে তিনি শুধু দুর্দান্ত একজন গোলরক্ষকই নন, অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে পারা একজন ফুটবলার এবং দলে ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান কারিগর।

আরও পড়ুন

একাধিক ছবিসহ দেওয়া পোস্টের শেষ দিকে ছিল বিশ্বকাপের রুপার পদকে চুমু খাওয়া এবং ফাইনাল হেরে অঝোরে কান্নার মুহূর্ত। সেখানে আর্জেন্টিনার জার্সিতে চতুর্থ তারকা যোগ করতে না পারার আক্ষেপে সমর্থকদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন মার দেল প্লাতার এই গোলরক্ষক। তিনি লিখেছেন, ‘আমি সত্যিই খুব দুঃখিত। আমার দেশ আর সতীর্থদের সাহায্য করার জন্য নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’