সেবার ইনিয়েস্তা, এবার তোরেস

ফাইনালে গোলের পর ফেরান তোরেসরয়টার্স

অমরত্ব পেতে কী লাগে? একটা মুহূর্ত। ফেরান তোরেস এবার বিশ্বকাপে অবশেষে এমন একটি মুহূর্তের দেখাই পেলেন। যে মুহূর্ত তাঁকে জায়গা করে দিল স্প্যানিশ ফুটবলে রূপকথার পাতায়।

নিউ জার্সির ফাইনালে তখন অতিরিক্ত সময়ের (১০৬ মিনিট) খেলা চলছিল। পেদ্রো পোরো ক্রস ফেলেন আর্জেন্টিনার বক্সে। বাঁ প্রান্তে থাকা নিকো উইলিয়ামস হেড করে বল পাঠান ডানে। সেখানে দাঁড়ানো ফেরান তোরেসের বাঁ পায়ের শট আর্জেন্টিনার জালে। গোল!

তোরেসের সেই গোলেই শেষ পর্যন্ত ১৬ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তুলেছে স্পেন। অথচ ভাগ্যের কী লীলা, ফাইনালের আগে তোরেসের পারফরম্যান্স বলতে শুধু পর্তুগালের বিপক্ষে এক অ্যাসিস্ট। এবার বিশ্বকাপে একটি গোলের জন্য মাথা কুটে মরেছেন তোরেস। ফাইনালে ৬২ মিনিটে নেমেছিলেন মিকেল ওইয়ারসাবালের বদলি হয়ে। এরপরই খুলে যায় ভাগ্য। বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে বদলি নেমে গোল করা পঞ্চম খেলোয়াড় তোরেস। ২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানির মারিও গোটশের পর ফাইনালে বদলি নেমে প্রথম গোলদাতাও তোরেস।

বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে তোরেস
রয়টার্স

সৌদি আরবের বিপক্ষে গ্রুপ ম্যাচে তাঁর গোলটি বৈধ ছিল কি না, সেটা যখন ভিএআরে দেখা হচ্ছিল, তখন মনে মনে তোরেসের প্রার্থনা দেখেছে বিশ্ব। গোলটি বাতিল হওয়ায় কেঁদেছিলেন তোরেস। কাঁদলেন গতকাল রাতে নিউ জার্সিতে বিশ্বকাপের ফাইনালে শেষ বাঁশি বাজার পরও। সেই কান্না আসলে আনন্দাশ্রু।

১১৩ মিনিটে অফসাইডের কারণে তোরেসের আরও একটি গোল বাতিল হয়। কিন্তু ২৬ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডের এসবের কিছুই আর মনে রাখার কথা নয়। ১৬ বছর আগে স্পেনের প্রথম বিশ্বকাপ জয়েও অতিরিক্ত সময়ে গোল করেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। স্পেনের বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন থেকে ইনিয়েস্তার পাশেই উচ্চারিত হবে তোরেসের নাম। দুজনেই আবার গোলের সময় বার্সেলোনারই খেলোয়াড়।

আরও পড়ুন

কেপ ভার্দের বিপক্ষে স্পেনের গোলশূন্য ড্রয়ের পর একাদশে জায়গা হারিয়েছিলেন তোরেস। সেই ম্যাচে তাঁর একটি শট পোস্টে লেগেছিল। উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে তাঁকে হতাশ করেছিল ক্রসবারও। ভাগ্য বারবার তাঁকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ফাইনালে এসে দুই হাত ভরেই দিল।

ম্যাচ শেষে মেসির সঙ্গে হাত মেলান তোরেস
রয়টার্স

জয়ের পর স্প্যানিশ টিভি চ্যানেল ‘লা ১’কে তোরেস বলেন, ‘এই গোল আমার নয়, ৪ কোটি ৭০ লাখ মানুষের। ভাগ্যে আগেই লেখা ছিল, আমাদের জেতার জন্যই হয়তো এটা নির্ধারিতই ছিল।’

বিশ্বকাপজুড়ে গোলশূন্য থাকার পর ফাইনালে গোল পাওয়া নিয়ে তোরেস বলেছেন, ‘বড় স্বস্তি পেলাম। বিশ্বকাপজুড়েই আমার তীব্র সমালোচনা হয়েছে। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ। আমি যেমনটা বলি—ঈশ্বর তাঁদেরই পুরস্কৃত করেন, যাঁরা এর সবচেয়ে বেশি যোগ্য।’