ভারতের কাছে ৩-০ গোলের হারে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড়েরা। গত দুটি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতকে ৩-০ ও ৩-১ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। গতকালের হারটি তাই সাফের হ্যাটট্রিক শিরোপার মিশনে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের জন্য বড় ধাক্কা। ভারতকে হারাতে না পারায় গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে ৩ জুন সেমিফাইনালে নেপালের মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশকে।
গোয়ায় আজ অনুশীলন ছিল না ফুটবলারদের। তবে ছিল রিকভারি সেশন, যা সাধারণত সব ম্যাচের পরদিনই হয়ে থাকে। দলের কেউ সংবাদমাধ্যমের সঙ্গেও সরাসরি কথা বলেননি। তবে বাফুফের মিডিয়া বিভাগ থেকে সাংবাদিকদের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাঠানো হয়েছে। তাতে দলের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন গোলকিপার কোচ মাসুদ আহমেদ।
গতকালের ভুলত্রুটি অকপটে স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘গতকালের ম্যাচটা আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারিনি। খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগতভাবে যে পরিকল্পনা দিয়েছিলাম, অনেকে ভালো করেছে, আবার অনেকে সফলভাবে করতে পারেনি। ভারতের মতো দলের বিপক্ষে সব বিভাগ একসঙ্গে পরফর্ম করতে না পারলে আসলে এর শাস্তি আপনাকে পেতেই হবে, যেটা আমরা পেয়েছি।’
তবে এই বিপর্যয় কাটিয়ে ৩ জুনের সেমিফাইনাল নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা শুরু করেছে দল। নেপাল ম্যাচকে সামনে রেখে দলের বর্তমান প্রস্তুতি ও ফুটবলারদের মানসিক অবস্থা নিয়ে মাসুদ আহমেদের কথা, ‘আমরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলছি। সমস্যাগুলো কীভাবে সমাধান করা যায়, ওটা নিয়ে কাজ করছি। আশা করি, নেপাল ম্যাচে মেয়েরা ঘুরে দাঁড়াবে।’
মানসিক জড়তা কাটিয়ে মেয়েদের চেনা ছন্দে ফেরানোটাই এখন টিম ম্যানেজমেন্টের প্রধান লক্ষ্য। এ বিষয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা বড় ভুলগুলো দেখানোর চেষ্টা করব মেয়েদের। সেসব থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসা যায়, এ নিয়েও আলোচনা হবে। আমরা প্রতিটি খেলোয়াড়কে মানসিকভাবে চাঙা করার চেষ্টা করছি, যাতে তারা তাদের স্বাভাবিক খেলাটাতে ফিরে আসতে পারে।’
গত ম্যাচে গোলকিপার মিলি আক্তার মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন, যা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে চোটের বিষয়টি গুরুতর নয় বলে আশ্বস্ত করেছেন গোলকিপার কোচ, ‘আশা করি, মিলি পরের ম্যাচ খেলার জন্য তৈরি হয়ে যাবে।’
সব মিলিয়ে গোয়ার ক্যাম্পে এখন ভারত ম্যাচের বিপর্যয় সামলে এবং ভুল শুধরে সেমিফাইনালে নেপাল–বাধা পেরোনোর ছক কষতেই ব্যস্ত বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।