‘প্রতিদিন এখনো হাতে ব্যথা নিয়ে নামি’, ফাইনালের আগে এমি মার্তিনেজ
গত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার রক্ষাকর্তা ছিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। মাঠে যত যা–ই হয়ে যাক না কেন, গোলপোস্টকে রক্ষা করার দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করছিলেন তিনি। ফ্রান্সের বিপক্ষে শেষ মিনিটে তাঁর দুর্দান্ত সেভ আর টাইব্রেকারে কিংসলে কোমানের শট থামিয়ে আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছিলেন আরাধ্য শিরোপা।
চার বছর আগের এমি মার্তিনেজের সঙ্গে এখনকার মার্তিনেজকে মেলানো দুষ্কর। কারণ, বিশ্বকাপে যখন গোলরক্ষকেরা নিজেদের ছাড়িয়ে যাচ্ছেন, মার্তিনেজ সেখানে তুলনামূলক নিষ্প্রভ। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে নামার আগে সংবাদ সম্মেলনে জানালেন চোট নিয়েও দলকে বিশ্বকাপ ফাইনালে তোলার গল্প।
বিশ্বকাপের মাসখানেক আগে ইউরোপা লিগের ফাইনালে অনুশীলনের সময় ডান হাতের আঙুলে চোট পান মার্তিনেজ। সেই চোট নিয়ে খেলেছেন ফাইনাল, গোল হজম না করেই জিতেছেন শিরোপা। চোট সাড়াতে তাঁকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল অপারেশন করার। কিন্তু বিশ্বকাপের জন্য সেই পরামর্শ গোনাতেও নেননি।
বিশ্বকাপের সময় প্রতিদিন অনুশীলন করছেন হাতে ব্যথা নিয়ে, ‘এখনো প্রতিদিন অনুশীলনের সময় হাতে ব্যথা লাগে। আমেরিকায়, ইংল্যান্ডে—যেখানেই চিকিৎসক দেখিয়েছি, সবাই বলেছে অপারেশন করিয়ে ফেলো। আর অপারেশন করালে বিশ্বকাপ খেলা হতো না আমার।’
চোটের প্রভাব পড়েছে ফর্মেও। বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচ খেলে মাত্র ২টি ক্লিন শিট রাখতে পেরেছেন মার্তিনেজ। মার্তিনেজ ফাইনালের আগে মনে করিয়ে দিলেন, ‘আমার সবার সঙ্গে অনুশীলন করতে ভালো লাগে। সেই আমি পুরো গ্রুপ পর্ব আমি একা একা অনুশীলন করেছি, বেশির ভাগ সময়ই বিশ্রাম নিয়েছি। নকআউট পর্বে এসে স্বাভাবিকভাবে অনুশীলন করতে পেরেছি। এখন সত্যি বলতে দলের সঙ্গে পুরোপুরি ফিরতে পেরে ভালো লাগছে। আঙুলটাও আর বেশি কষ্ট দিচ্ছে না।’
মার্তিনেজের ক্যারিয়ার বদলে গিয়েছিল আর্সেনালের গোলরক্ষক লেনোর চোটে। তাঁর চোটে মাঠে নেমেই সে কী দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। সেখান থেকে বিশ্বকাপ ফাইনালে হিরো হয়ে শিরোপা জেতানো মার্তিনেজের আর ইচ্ছা নেই হিরো হওয়ার, ‘সত্যি কথা বলতে আমি সেরা খেলোয়াড় হলাম না কি না, পত্রিকার প্রথম পাতায় নাম এল কি না, এটা দিয়ে আমার কিছু যায় আসে না। আমার কাছে সবচেয়ে বড় হচ্ছে সতীর্থ আর কোচের ভরসার পাত্র হতে পারা। কোচ যখন লেখেন, অবস্থা যেমনই হোক না কেন, দলে আমার তোমাকে লাগবে। সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে গর্বের। পত্রিকার প্রথম পাতায় আসার চেয়ে ১০টা পেনাল্টি সেভ দেওয়া আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
গত ফাইনালের হিরো এবার অবশ্য ব্যাক সিটে বসতে পারলেই খুশি, ‘যদি এমন হয়, পুরো ম্যাচে আমার বলার মতো কিছুই করা লাগল না, আমি একইভাবে উদ্যাপন করব। চার বছরে কিছুই বদলায়নি। শিরোপাটাও এক, স্বর্ণপদকটাও এক। জিতে আমাদের অভ্যাস আছে। আমি চাই আমার সতীর্থরা লাইমলাইট পাক। গোলরক্ষকেরা পুরো ম্যাচ একাই থাকেন, গোল হলেও উদ্যাপনে যান না, সবকিছু থেকে যেন আলাদা। আমি আর গল্পের মূল চরিত্র হতে চাই না, অন্য কেউ হোক। দরকার হলে তো আমি আছিই।’