ফিফার মালিকানায় থাকা এই ট্রফি ফাইনাল শেষে বিজয়ী দলের নাম খোদাই করে তুলে দেওয়া হবে। তবে ট্রফি তুলে দেওয়ার পর সেটি আবার জিডিই বের্তোনিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। উদ্‌যাপনের জন্য খেলোয়াড়দের হাতে দেওয়া হয় রেপ্লিকা ট্রফি। আসল ট্রফিটি ফিফাকে ফিরিয়ে দেওয়ার আগে নিজেদের কাছে সংরক্ষণ করে রাখে বের্তোনি। এরপর পরবর্তী বিশ্বকাপ পর্যন্ত ট্রফিটির ঠাঁই হয় ফিফার অফিশিয়াল জাদুঘরে।

খেলোয়াড়দের উদ্‌যাপনের সময় ট্রফিটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এই আশঙ্কাতেই মূলত বের্তোনি নিজেদের কাছে ট্রফিটি সংরক্ষণ করে রাখে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, জিডিই বের্তোনি কীভাবে বিশ্বকাপের এই প্রতিলিপি তৈরি করে?

প্রথমত, কারখানায় পিতলের কাঠামোটি তৈরি হয়। এরপর ধাতু একটি বিশেষ পাত্রে ঢালা হয় (যা কিনা আসল বিশ্বকাপের নকশার মতো), যা একটি প্লাস্টার কাস্ট ((কোনো কিছু বানানোর জন্য ঢালাইয়ের মাধ্যমে তৈরি করা ছাঁচ)) তৈরি করে। এটি হয়ে গেলে একে ডাই গ্রিন্ডিং দ্বারা ছেঁকে নেওয়া হয়, যা অতিরিক্ত ধাতুগুলোকে অপসারণ করে।

এরপর ছোট হাতুড়ি দিয়ে এটি পরিমার্জন করা হয় এবং ট্রফির ওপর প্রয়োজনে বিষয়গুলো যোগ করা হয়। বিশেষ করে সেই দুটি মানবহাতের আকার, যা পৃথিবীকে আগলে ধরে আছে। এরপর আরও বেশি পরিমার্জন প্রয়োজন হয়। ফলে এটিকে নিখুঁত দেখানোর জন্য ভারী যন্ত্র দিয়ে পলিশ করা হয়।

এরপর ট্রফিটি নিয়ে আসা হয় গ্যালভানিক (তাড়িত) বিভাগে। যেখানে আল্ট্রাসোনিক ক্লিনিং সম্পন্ন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে ট্রফিটির যথাযথভাবে পরিষ্কার হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এটি ধাতুর প্রভাবও বাড়ায়। এরপর ট্রফিটিকে গিলডিং বাথ দেওয়া হয়, গিলডিং মূলত এমন কৌশল যার মাধ্যমে ট্রফিটিতে সোনার প্রলেপ দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করা হয়।

পরবর্তী ধাপে বিশেষ প্রক্রিয়ায় বিশুদ্ধ পানিতে এটি পরিস্কার করা হয়। এর ফলে ট্রফিটিকে আরও চকচকে দেখায়। ভিত্তিমূলে ম্যালাকাইট সবুজ মার্বেল প্রয়োগ করা হয় এবং বিশেষভাবে সংরক্ষণ করা হয়। বিশ্বকাপ ফাইনালের দিন প্রদর্শনের আগে শেষবারের মতো ট্রফিটিকে পরিষ্কার হয়।

পুরো বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সময় লাগে তিন মাস। শুধু বিশ্বকাপ ট্রফিই নয়, জয়ী দলকে দেওয়া সোনার পদকগুলোও তৈরি করে জিডিই বের্তোনি। কোম্পানিটি বিশ্বকাপ ট্রফি ছাড়াও শীর্ষ টুর্নামেন্টগুলোর ট্রফি বানানো নিয়ে সারা বছর ব্যস্ত থাকে। চ্যাম্পিয়নস লিগ, ইউরোপা লিগ ও সুপারকাপের ট্রফিও তৈরি করে তারা।