‘পরিবারকে শান্তিতে থাকতে না দিলে এক মুহূর্তও থাকব না’
ফ্রাঙ্কফুর্টে জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের (ডিএফবি) সদর দপ্তরের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে বসে যখন তিনি কথা বলছেন, ঠোঁটের কোণে সেই চিরচেনা ট্রেডমার্ক হাসি। কিন্তু সেই হাসির আড়ালে ইয়ুর্গেন ক্লপের যে ইস্পাতকঠিন কাঠিন্য, সেটা দেখা গেল একটু পরেই।
জার্মানির নতুন কোচ হিসেবে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে একটু আগেই। নতুন দায়িত্ব নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাসের কথা জানানোর পর ক্লপ সবাইকে দিয়ে দিলেন একটা সতর্কবার্তাও। সমালোচনা করতে গিয়ে যদি কখনো তাঁর ব্যক্তিগত জীবন টেনে আনা হয়, তাঁর পরিবারের শান্তি নষ্ট করা হয়, তাহলে সোজা ইস্তফা দিয়ে চলে যাবেন।
লিভারপুলকে সম্ভাব্য প্রায় সব শিরোপা জিতিয়ে ২০২৪ সালে বিদায়ের সময় ক্লপ বলেছিলেন, ক্লাব ফুটবলে আর ফেরার ইচ্ছা নেই। তারপর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যোগ দিয়েছিলেন রেড বুলের বৈশ্বিক ফুটবল প্রধান হিসেবে।
আদতে সেটা ছিল একটা প্রশাসনিক ভূমিকা, একটু দূর থেকে ফুটবল দেখার কাজ। কিন্তু ফুটবল তো দূর থেকে দেখার খেলা নয়। যারা এর ভেতরে থাকে, তারা শেষ পর্যন্ত বোধ হয় মাঠেই ফিরে আসে। জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের ডাকে ক্লপও তাই ফিরলেন।
উত্তর আমেরিকার মাটিতে সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে জার্মানির যাত্রা থেমে গিয়েছিল শেষ ৩২-এ। সেই ব্যর্থতার দায় নিয়ে ইউলিয়ান নাগলসমান পদত্যাগ করলেন। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে ডিএফবি খুঁজছিল এমন একজনকে, যিনি জার্মানিকে নতুন প্রাণ দেবেন। প্রথম পছন্দই ছিলেন ক্লপ। ডর্টমুন্ড ও লিভারপুলের সাবেক এই কোচও ‘না’ বলতে পারেননি দেশের ডাকে।
ক্লপ একা ফেরেননি, তাঁর আছেন পরিচিত ছায়ারাও। ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে আসা পেপাইন লাইন্ডার্স সহকারী হিসেবে থাকছেন তাঁর পাশে। সঙ্গে লিভারপুল ও বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহচর পিটার ক্রাভিৎস এবং ডর্টমুন্ডে ক্লপের অধীনে খেলা সাবেক জার্মান তারকা সভেন বেন্ডার।
আর স্পোর্টিং ডিরেক্টর হিসেবে আর্সেনালের একাডেমি ছেড়ে যোগ দিচ্ছেন পার মার্টেসাকার। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত ক্লপের হাতে সঁপে দেওয়া হয়েছে জার্মান ফুটবলের ভবিষ্যৎ, এর আগে তিনি পাচ্ছেন ২০২৮ ইউরোও।
নতুন দায়িত্ব নিয়ে উচ্ছ্বসিত ক্লপের কথা, ‘জাতীয় দলের পর ইয়ুর্গেন ক্লপের আর কোনো ক্যারিয়ার থাকবে না। এটিই আমার কোচিং জীবনের চূড়ান্ত অধ্যায়, আমার ক্যারিয়ারের শীর্ষবিন্দু। আমি আমার সবটুকু উজাড় করে দেব।’
তারপরই দিলেন সেই সতর্কবার্তা, সমালোচকদের জন্য টেনে দিলেন একটা সীমারেখাও, ‘যেদিন আপনারা আমাকে আর চাইবেন না, আমি চলে যাব। কোনো ক্ষতিপূরণ ছাড়াই। ডিএফবি যদি বলে আমি ব্যর্থ, আমি চলে যাব। আপনারা আমার কাজের সমালোচনা করুন, আমি মাথা পেতে নেব। কিন্তু যদি সীমা লঙ্ঘন করেন, আমার পরিবারকে শান্তিতে থাকতে না দেন, তবে আমি এক মুহূর্তও থাকব না।’
ক্লপের অধীনে জার্মানি প্রথমবার মাঠে নামবে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে। ইতিহাসে প্রথমবার একটা আন্তর্জাতিক বিরতিতে টানা চারটি ম্যাচ খেলবে জার্মানি। ২৫ সেপ্টেম্বর নেশনস লিগে প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস।
কাকতালীয়ভাবে, সেই ম্যাচে ডাচদের ডাগআউটে হয়তো দেখা যেতে পারে আর্নে স্লটকে! রোনাল্ড কোমান পদত্যাগ করার পর স্লটের সঙ্গেই কথা বলছে নেদারল্যান্ডস। লিভারপুলের দুই সাবেক কোচের মুখোমুখি লড়াই দিয়ে শুরু হতে পারে জার্মানির নতুন অধ্যায়। এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর অগসবুর্গে প্রতিপক্ষ গ্রিস, ১ অক্টোবরে সার্বিয়া এবং ৪ অক্টোবরে ফের গ্রিসের মুখোমুখি হবে জার্মানি।