ইনফান্তিনোর ক্ষমাপ্রার্থনার পরও বিশ্বকাপ বর্জনে অনড় উয়েফা
বিশ্বকাপসহ ফিফার প্রতিযোগিতা বর্জনের হুমকি থেকে এখনো সরে আসেনি উয়েফা। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে ক্ষমা চাইলেও ইউরোপিয়ান ফুটবল সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
গত মাসে ফিফা ঘোষণা দেয়, তারা ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে নতুন একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গঠন করে সেটির ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা করছে।
ফিফার মতো অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি মালিকানা যুক্ত করার এই পরিকল্পনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় ফুটবল বিশ্বে। জরুরি সভায় বসে উয়েফার ৫৫টি সদস্য সংস্থা সর্বসম্মতিক্রমে বিশ্বকাপসহ ফিফার সব প্রতিযোগিতা বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়।
চাপের মুখে গত শুক্রবার এফএফই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে ফিফা। এরপর বুধবার মরক্কোয় ফিফার শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে সভায় ওই পরিকল্পনা কার্যক্রম ‘ভুল ছিল’ বলে স্বীকার করেন ইনফান্তিনো। এ ঘটনায় ফিফা সভাপতি ক্ষমা চেয়েছেন বলেও জানানো হয় বৈঠকের পর দেওয়া ফিফার বিবৃতিতে। আরও বলা হয়, ফিফার কর্মকর্তারা সভাপতিকে সমর্থন করায় ইনফান্তিনো দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন।
তবে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা তাতে সন্তুষ্ট নয়। আজ এক বিবৃতিতে উয়েফা বলেছে, বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য দুটি শর্ত দেওয়া হয়েছিল। প্রথমত, বড় প্রতিযোগিতা বিক্রির প্রস্তাব সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যতে ফুটবলকে এভাবে বিকৃত করার কোনো চেষ্টা আর হবে না, এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে।
উয়েফার ভাষ্য, এই দুই শর্তের কোনোটিই এখনো পূরণ হয়নি। এর সঙ্গে গত শনিবারের বিবৃতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে সংস্থাটি জানায়, আগেই বলা হয়েছে ইনফান্তিনোর ওপর আমাদের আস্থা নেই। সেই অবস্থান এখনো অটুট।
অবশ্য নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকের পর দেওয়া ফিফার বিবৃতিতে বলা হয়, সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে পাঠানো চিঠিতে ‘আন্তরিক ক্ষমা প্রার্থনা’র পাশাপাশি ‘ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটা’র অঙ্গীকার করা হয়েছে।
ফিফার বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করতে গিয়ে উয়েফা কঠোর ভাষায় এমনও লিখেছে, ‘এটিই ঘোষণা করা হয়েছে যে ফিফা সভাপতির নিযুক্ত কিছু ব্যক্তি (যাঁদের ক্যারিয়ার তাঁর অনুগ্রহের ওপর নির্ভরশীল) তাঁর সঙ্গে একমত হয়েছেন, তবে এটি পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটায় না।’
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই টানাপোড়েনের ফলে বিশ্বকাপসহ ফিফার প্রতিযোগিতা বর্জনের সম্ভাবনা এখনো উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আগামী অক্টোবরে ২০২৭ নারী বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের প্লে-অফেই প্রথম পরীক্ষা হতে যাচ্ছে এই সিদ্ধান্তের।