আজ কোন রূপকথা লিখবেন মেসি
নোভাক জোকোভিচের ইংরেজিতে করা প্রশ্নটা ঠিকঠাক বুঝতে পারলেন না লিওনেল মেসি। বছর তিনেক আগে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর সময় ইংরেজি ভাষাটার সঙ্গে তেমন সখ্য ছিল না। এখন নাকি দু–একটা শব্দ শিখেছেন। তবে সেটা সাক্ষাৎকারে করা প্রশ্নের অনর্গল জবাব দেওয়ার মতো নয়।
মেসিকে প্রশ্নের ভাষান্তর করে দেওয়ার কথা ছিল আয়োজকদের; কিন্তু হঠাৎ বিভ্রাটে প্রশ্নটা শেষ হওয়ার পর এমিলিয়ানো মার্তিনেজের দিকে তাকিয়ে হাসতে শুরু করেন মেসি। আর্জেন্টাইন গোলরক্ষকই পরে নেন অনুবাদের ভূমিকা।
যে প্রসঙ্গে প্রশ্ন, সেটির উত্তর দেওয়ার জন্য মেসিই সম্ভবত সবচেয়ে বেশি যোগ্য। টেনিসে ২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতা জোকোভিচও কি নইলে আর তাঁর কাছেই জানতে চান, ‘লিও, তুমি কীভাবে চাপ সামলাও? এত চাপের মধ্যে লড়াই চালিয়ে যেতেই–বা কোথায় শিখলে?’
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে ফিফা আয়োজিত ‘ফ্যানাটিকস ফেস্ট’ সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করেছেন অন্য সব খেলার তারকারাও। সেখানেই জোকোভিচের ওই প্রশ্ন, যার উত্তরে মেসি বলেন, ‘ছোটবেলায় শিখেছিলাম, জেতার চেয়ে হারতে হয় বেশি। সেই শিক্ষাই আমাকে মানুষ ও ফুটবলার হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করেছে।’
কিন্তু মেসির গল্প তো আর এটুকুতেই আটকে নেই। হাসি, কান্না, আশা, নিরাশা—আবেগের এমন কোনো স্রোত নেই, জীবনে যা বয়ে যায়নি। চাপ সামলে নিতে না জানলে তো আর এমন গল্প লেখা সম্ভব নয়!
এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়েই মেসি টেনে আনলেন ছোটবেলার কথা, ‘আমরা ফুটবলের প্রতি আবেগ নিয়েই বড় হয়েছি। মাঠে নামার জন্য, আনন্দ করার জন্য আর নিজেদের উজাড় করে খেলাটা উপভোগ করার জন্য সব সময় ব্যাকুল থাকতাম। সেটা স্কুলেই হোক, রাস্তায় কিংবা কোনো দলের হয়েই হোক।’
এই আর্জেন্টিনা দলই যে চাপের বদলে খেলাটাকে উপভোগের উপলক্ষ মনে করে, সেটিও জানিয়ে দিলেন মেসি, ‘চাপ নিয়ে কখনোই ভাবি না আমরা। আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এক দল, জিততে ভালোবাসি; কিন্তু এটা একটা দলীয় খেলা, প্রতিপক্ষও জেতার জন্যই খেলে, আপনি সব সময় জিততে পারবেন না।’
কিন্তু মেসি জেতেননি, এমন কিছুই তো আর নেই। এক সাংবাদিক বললেন, আপনার জীবনটা তো ভিডিও গেমের মতো! একটার পর একটা ‘লেভেল আনলক’ করে যাচ্ছেন...!
একটু ঘুরিয়ে করা রসিকতায় মেসিও যেন সায় দিলেন। তাঁর কাছে এটি এখন আসলেই একটা ‘ভিডিও গেম’, যেন খেলছেন সব কাজ শেষ করে! নইলে কেন বলবেন, ‘আমি তো কাতার বিশ্বকাপেই ফুটবল শেষ করে ফেলেছি (হাসি)!’