‘এমএসএন’ কি তবে নতুন রূপে ফিরে এসেছে বার্সেলোনায়

রাফিনিয়া-ইয়ামাল-লোপেজ: লা লিগা আর চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলিয়ে বার্সেলোনার এই ত্রয়ী এখন পর্যন্ত মিলিতভাবে করেছেন অবিশ্বাস্য ২৬টি গোলবার্সেলোনা ইনস্টাগ্রাম

নতুন মৌসুম শুরু হওয়ার মাত্র এক মাস গড়িয়েছে।

স্রেফ এটুকু সময় দেখেই পুরো মৌসুম নিয়ে কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করা বোকামি হবে। তবে সকালের সূর্য কিছুটা হলেও তো দিনের আভাস দেয়। আর সেই আভাস যদি সত্যি হয়, তাতে এটুকু তো বলাই যায়, এই মৌসুমে বার্সেলোনার যে আক্রমণভাগ, তা প্রতিপক্ষকে স্রেফ ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলতে যাচ্ছে।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে (আসলে শুধু লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ) এখন পর্যন্ত বার্সেলোনা আটটি ম্যাচ খেলেছে, গোল করেছে ৩৬টি। এর মধ্যে শুধু লা লিগাতেই গোল ৩১টি। কোনো ম্যাচ হারেনি বার্সা।

আরও পড়ুন

কাতালানদের এই আধিপত্যের মূল দুই নায়ক রাফিনিয়া ও লামিনে ইয়ামাল। মৌসুমের শুরু থেকে ঝড় তুলেছেন দুজন। আর এঁদের সঙ্গে যখন ফেরমিন লোপেজও যোগ দিলেন গোল উৎসবে, তখন সেটি আর ঝড় রইল না, হয়ে গেল ত্রিমুখী বজ্রপাত।

কাতালানদের আধিপত্যের মূল দুই নায়ক রাফিনিয়া ও লামিনে ইয়ামাল।
বার্সেলোনা ওয়েবসাইট

লা লিগা আর চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলিয়ে বার্সেলোনার এই ত্রয়ী এখন পর্যন্ত মিলিতভাবে করেছেন অবিশ্বাস্য ২৬টি গোল, যার মধ্যে ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনিয়া একাই করেছেন ১৪টি! তাঁর পাশে ডান দিকে উড়তে থাকা ইয়ামালের গোল ৮টি, আর মাঝমাঠ থেকে ক্ষণে ক্ষণে আক্রমণ বক্সে হানা দেওয়া ফেরমিন করেছেন ৪টি। গোল করানোর ক্ষেত্রেও তাঁদের জুড়ি নেই, তিনটি নাম মিলে সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ১১টি গোল।

আরও পড়ুন

মৌসুমের শুরু থেকে তাঁরা তিনজন মিলে বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন ২০১৪-১৭ সময়টার সেই মেসি-সুয়ারেজ-নেইমার ত্রয়ীকে। ‘এমএসএন’ ত্রিফলা কি তবে নতুন রূপে ফিরে এসেছে বার্সেলোনায়? ‘আরওয়াইএল’ নামে?

এর বিপরীতে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর রাজপুত্রদের কিছুটা করুণ হাল। কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও জুড বেলিংহাম—তিনজন মিলে জাল খুঁজে পেয়েছেন মাত্র ১২ বার! এমবাপ্পে ৮টি গোল করে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করলেও বেলিংহাম করেছেন মাত্র ৩টি। আর মাদ্রিদের সবচেয়ে বড় হতাশার নাম হয়ে ওঠা ভিনিসিয়ুসের পা থেকে এসেছে মাত্র ১টি গোল। সোজা কথায়, বার্সার ত্রিফলার সঙ্গে রিয়ালের ত্রিফলার এরই মধ্যে ব্যবধানটা দাঁড়িয়েছে ১৪ গোলের!

রাফিনিয়া একাই করেছেন ১৪টি গোল, ইয়ামালের গোল ৮টি।
বার্সেলোনা ওয়েবসাইট


ইউরোপের বড় বড় ক্লাবের আক্রমণভাগও বার্সার ত্রিফলার এই গতির সঙ্গে তাল রাখতে পারছে না। আর্লিং হলান্ড, রায়ান শেরকি ও আন্তোয়ান সেমেনিওকে নিয়ে গড়া ম্যানচেস্টার সিটির ত্রয়ী সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে করেছেন ১২ গোল। মাইকেল ওলিসে, হ্যারি কেইন ও জামাল মুসিয়ালাকে নিয়ে বায়ার্ন মিউনিখের গোলমেশিন করেছে ১২ গোল। পিএসজির উসমান দেম্বেলে, ফেরান তোরেস ও ভিতিনিয়া মিলে সাকল্যে ১০ গোল।

আরও পড়ুন

বার্সেলোনার এই উত্থানের কেন্দ্রবিন্দুতে রূপকথার মতো এক রূপান্তর—রাফিনিয়া। রবার্ট লেভানডভস্কি ও ফেরান তোরেসের বিদায়ের পর ফলস নাইন পজিশনে তাঁকে নিয়ে বাজিমাত করেছেন হান্স ফ্লিক। আর্মব্যান্ড হাতে অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়াটাও হয়তো উজ্জীবিত করে তুলেছে এই ব্রাজিলিয়ানকে। মৌসুমের প্রথম এক মাসেই নিজের নামের পাশে দুটি হ্যাটট্রিক আর তিনটি জোড়া গোল লিখিয়ে নিয়েছেন। এমনকি লা লিগার ২০টি দলের মধ্যে ১৬টির মোট গোলের চেয়েও রাফিনিয়ার একার গোলসংখ্যা বেশি! ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শুর দৌড়েও তিনি এরই মধ্যে বড় ফেবারিট।

বার্সেলোনার এই উত্থানের কেন্দ্রবিন্দুতে রাফিনিয়া।
বার্সেলোনা ওয়েবসাইট


রাফিনিয়ার এক পাশে ইয়ামালের ৮ গোল আর ৬ অ্যাসিস্টের জাদুকরি ছন্দ, অন্য পাশে শেষ মুহূর্তের দৌড়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স চুরমার করে দেওয়া ফেরমিনের আক্রমণ। এই তিনজন মিলে যেন একটা সিম্ফনি বাজাচ্ছেন। তিনটি আলাদা সুর, কিন্তু একসঙ্গে বাজলে তৈরি হচ্ছে দুর্দান্ত এক সংগীত।
মৌসুমের অনেক বাকি। অনেক মাসের পথ বাকি। অনেক ম্যাচ, অনেক চ্যালেঞ্জ, অনেক রাত অপেক্ষা করছে তাঁদের জন্য। সময়ের সঙ্গে গল্প বদলাতেও পারে। তবে এখন পর্যন্ত গোল করার যে ঝোড়ো গতি বার্সেলোনার আক্রমণভাগ ধরে রেখেছে, ইউরোপের কোনো দলের পক্ষে তা স্পর্শ করা সত্যিই কঠিন।

আরও পড়ুন