বায়ার্ন ৪–৩ রিয়াল
(দুই লেগ মিলিয়ে বায়ার্ন ৬–৪ গোলে জয়ী)
দ্য বিউটিফুল গেম!
কেন, সেই ব্যাখ্যা আরেকবার পাওয়া গেল আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায়। মিউনিখে বুধবার রাতে কী ছিল না বায়ার্ন–রিয়াল ম্যাচে। রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনার যে ম্যাচ শেষে শেষ হাসি হেসেছে বায়ার্ন মিউনিখ।
ম্যাচটা যখন অতিরিক্ত সময়ে যাই যাই করছে, ৮৬ মিনিটে লাল কার্ড দেখে রিয়ালকে ১০ জনের দল বানিয়ে দিলেন এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা। তিন মিনিট পরেই লুইস দিয়াজের গোলে ৩–৩ সমতা। যার অর্থ দুই লেগ মিলিয়ে ৫–৪ গোলে এগিয়ে বায়ার্ন। যোগ করা সময়ে ব্যবধানটা আরও বাড়ল মাইকেল ওলিসের গোলে। কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগটা ৪–৩ গোলে জিতেছে স্বাগতিকেরা। তাতে দুই লেগের লড়াইটা ৬–৪ গোলে জিতে ১৫ বারে চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদকে বিদায় করে সেমিফাইনালে উঠেছে বায়ার্ন।
অথচ দিয়াজরা নন, ম্যাচের নায়ক হতে পারতেন আরদা গুলের। ম্যাচ শুরু হতে না হতেই মানুয়েল নয়্যারের মতো গোলরক্ষকের অবিশ্বাস্য ভুল। আর সেই ভুল থেকে আরদা গুলেরের তারচেয়েও অবিশ্বাস্য দূরপাল্লার গোল। জায়গা ছেড়ে বল ক্লিয়ার করতে সামনে এগিয়ে ভুল করেছেন রিয়াল মাদ্রিদ গোলরক্ষক আন্দ্রে লুনিনও। আর তাতে পাঁচ মিনিট যেতে না যেতেই আলেকসান্দার পাভলোভিচের গোলে সমতায় বায়ার্ন । ফ্রি–কিক থেকে গুলেরের আরেকটি অসাধারণ গোল। হ্যারি কেইনের গোলে আবার সমতা, এরপর কিলিয়ান এমবাপ্পের আবার রিয়ালকে এগিয়ে দেওয়া গোল। ভুলগুলো সব ভুলে গিয়ে দুই গোলরক্ষকই এরপর করেছেন অবিশ্বাস্য কিছু সেভ। এ সবই হয়েছে পাঁচ গোলের অবিশ্বাস্য প্রথমার্ধে।
এরপর ম্যাচ শেষের সেই নাটক, আর বায়ার্নের হাসি।
প্রথম লেগে ঘরের মাঠে ২–১ গোলে হেরেছিল রিয়াল। মিউনিখে তাই জয় ছাড়া অন্য কোনো উপায় ছিল না রিয়ালের। সেই হিসাব মেলানোর কাজটা কী দুর্দান্তভাবেই না শুরু করে দলটি। ম্যাচের বয়স ৫০ সেকেন্ড না হতেই নয়্যারের সেই ভুল পাস থেকে গুলেরের বাঁ পায়ের শটে শূন্যে ভাসানো সেই গোল।
সেই গুলের ২৯ মিনিটে দূরপাল্লার ফ্রি–কিকে পেয়ে যান দ্বিতীয় গোল। এবার নয়্যার বলে হাত লাগালেও কাজ হয়নি কোনো। ৯ মিনিট পরে কেইন দেখিয়েছেন কেন তিনি এই মূহূর্তে বিশ্বের সেরা স্ট্রাইকার। যার সঙ্গে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতা সেই এমবাপ্পেও গোল পেয়েছেন।
অবিশ্বাস্য প্রথমার্ধের তুলনায় দ্বিতীয়ার্ধের খেলাটাকে মানেগুণে পিছিয়েই ছিল। তবু মনে হয়েছিল ৪–৪ অগ্রগামিতায় থাকা লড়াইটা অতিরিক্ত সময় তো বটেই গড়াতে পারে টাইব্রেকার রোমাঞ্চেও।
দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে কামাভিঙ্গার বিদায়ের পর দেখতে না দেখতেই উধাও সেই সম্ভাবনা। পরে সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়ার পর লাল কার্ড দেখেছেন গুলেরও।
৪–৩ গোলে ম্যাচটি জেতা বায়ার্ন সেমিফাইনালে খেলবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজির বিপক্ষে।