ছয় বছরের ব্যবধানে সেই মিসবাহই পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের ফিটনেসের উল্টো চিত্র দেখছেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযানে নামার আগমুহূর্তে বাবর আজমের দলের স্বাস্থ্যগত উদাসীনতায় বেজায় চটেছেন। সাবেক শিষ্যদের ফিটনেসের মাত্রা তাঁর কাছে একধরনের তামাশা মনে হচ্ছে। একটি টিভি অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘ওদের ফিটনেস ঘাটতি এখন দৃশ্যমান। এটা লুকিয়ে রাখার সুযোগ নেই। ওয়াকার ইউনিস চারবার (কোচের) দায়িত্ব ছেড়েছেন, আমি একবার ছেড়েছি। আমার, শোয়েব মালিক ও ইউনিস খানের মতো খেলোয়াড়েরা সব সময় ফিটনেস নিয়ে ভেবেছি। একে-অপরকে অনুপ্রাণিত করেছি। তবে গণ্ডির বাইরে গিয়ে এ ব্যাপারে কাউকে সচেতন হতে বলা হলে তারা আমাদের খারাপ প্রশিক্ষক বা খারাপ কোচ ভাবত।’

ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৭ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে গিয়েও হেরেছে পাকিস্তান। ব্রিসবেনে পরশু বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচে জস বাটলার-মঈন আলীদের কাছে আরেক দফা অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে পাকিস্তান। মাঝে নিউজিল্যান্ড-বাংলাদেশকে নিয়ে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জিতলেও সেখানে ক্রিকেটারদের ফিটনেস সমস্যা চোখে পড়েছে।

ক্ষোভ নিয়েই মিসবাহ জানিয়েছেন, সমস্যাটা শিকড়েই। মানে, ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের ফিটনেসের মাত্রা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলেও লাভ হয়নি, ‘ঘরোয়া মৌসুমের সময় মনে হয়েছে, ওদের ফিটনেসের মাত্রা তামাশার পর্যায়ে চলে গিয়েছে। এ নিয়ে তর্কেও জড়িয়েছি। বলেছি, ঘরোয়া ক্রিকেটেও খেলোয়াড়দের ফিটনেস আন্তর্জাতিক মানের হওয়া উচিত। কিন্তু দায়িত্ববানেরা কথাগুলোকে আমলে তো নেনইনি, উল্টো বিরোধিতা করেছেন।’

ওদের ভুঁড়ি স্পষ্ট দেখা যায়। চর্বি জমে পেট ভারী হয়েছে। ফলে ওরা নড়তে পারছে না। এর কারণ, ওদের ফিটনেস পরীক্ষায় উতরে আসতে হয় না।
মিসবাহ–উল–হক, পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও কোচ

শ্রীলঙ্কা সফরে হাঁটুতে পাওয়া চোটে এশিয়া কাপ খেলতে পারেননি শাহিন আফ্রিদি। পরশু প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়ে তিন মাস পর মাঠে ফিরলেও পুরোনো ছন্দ খুঁজে পাননি। চোটের সঙ্গে লড়াই করছেন অন্য দুই পেসার নাসিম শাহ ও মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র। বুড়ো আঙুলে ব্যথা পেয়ে বিশ্বকাপের মূল স্কোয়াড থেকে স্ট্যান্ডবাইয়ে চলে গেছেন লেগ স্পিনার উসমান কাদির। অন্যতম ব্যাটিং স্তম্ভ মোহাম্মদ রিজওয়ানকেও হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট নিয়ে খুঁড়িয়ে চলতে দেখা গেছে।

খেলোয়াড়দের এ দৈন্যের দায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকেই (পিসিবি) দিয়েছেন মিসবাহ, ‘ওদের ভুঁড়ি স্পষ্ট দেখা যায়। চর্বি জমে পেট ভারী হয়েছে। ফলে ওরা নড়তে পারছে না। এর কারণ, ওদের ফিটনেস পরীক্ষায় উতরে আসতে হয় না। কোনো বেঞ্চমার্কও নেই।’