বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

সুনামগঞ্জের মেয়ে পপি প্রথমবার অংশ নিয়েই জিতেছেন ব্রোঞ্জ। ঢাকার বাইরের জেলা থেকে কোনো মেয়ে এসে শরীরগঠন প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন, ব্যাপারটা তত সহজ ছিল না পপির জন্য।

পদক জয়ের পর রোমাঞ্চিত পপি শুরুর দিনগুলোর লড়াইয়ের কথা বলছিলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই মা–বাবা প্রথমে রাজি হচ্ছিলেন না। আমার বোন এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছে। ওর সাহায্য না পেলে আমার এখানে আসা সম্ভব ছিল না। সত্যি বলতে কী, সুনামগঞ্জ জেলা থেকে একজন মেয়ে উঠে এসে এভাবে শরীরগঠনে নামবে, এটা কেউ কখনো ভাবেনি। কিন্তু আমি সেটা করে দেখিয়েছি। আরও অনেক দূর যেতে চাই আমি।’

পপির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বোন পারুল দাস হাসিমুখে বলছিলেন, ‘পপির শরীরগঠনের প্রতি প্রচণ্ড ঝোঁক ছিল। যার যে কাজ ভালো লাগে, তাকে সেটা করতে দেওয়া উচিত। আমি মা-বাবাকে বুঝিয়েছি। তাঁরা কিছুতেই রাজি ছিলেন না। পরে অবশ্য তাঁরা কিছুদিন পর ওকে জিমে যেতে অনুমতি দেন। পদক হাতে পপিকে দেখে বেশি খুশি হয়েছি আমি।’

ফুটবল, ক্রিকেট ছাড়া ব্যক্তিগত অনেক খেলায় দারুণ পারফর্ম করছেন মেয়েরা। এত সব প্রতিযোগিতা রেখে কেন শরীরগঠন বেছে নিলেন?

default-image

পপি জানালেন, নিজের পছন্দেই এসেছেন শরীরগঠনে, ‘হঠাৎ করেই আমার শরীরের ওজন বেড়ে যাচ্ছিল। তখন থেকে শরীরের প্রতি বেশি সচেতন হই। জিম করতে শুরু করি। যখন জিম, ডায়েট শুরু করলাম, তখন ভাবলাম তাহলে প্রতিযোগিতায় কেন অংশগ্রহণ করব না!’

সিলেটে বিবিএতে পড়াশোনা করা পপি স্নায়ুচাপে ভুগছিলেন শুরুতে, ‘মঞ্চে যখন উঠি, তখন কিছুটা নার্ভাস ছিলাম। তবে দর্শক ভালোই উৎসাহ দিয়েছেন। এরপর আমার ভয় কেটে গেছে।’

পপি যেখানে স্নায়ুচাপে ভুগছিলেন, শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হওয়া মাকসুদা শুরু থেকেই ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। হওয়ারই কথা! কিছুদিন আগে মুম্বাইয়ে আন্তর্জাতিক অ্যামেচার অলিম্পিয়ায় তৃতীয় রানারআপ হয়েছেন মাকসুদা। এরপর ঢাকায় এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেন। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসীই ছিলেন মাকসুদা।

পদক ধরে রাখতে পেরে খুশি তিনি, ‘আবারও চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছি বলে ভালো লাগছে। তবে বেশি ভালো লাগছে বাংলাদেশের মেয়েরা শরীরগঠনে আগ্রহী হয়ে উঠেছে দেখে।’

অন্য খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন