আর্চারিতে নতুনদের নিয়ে স্বপ্ন ফ্রেডরিখের
টঙ্গীর আর্চারির প্রশিক্ষণ একাডেমির মাঠে অনেকটা আলো-আঁধারি পরিবেশেই পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হলো এবারের জাতীয় আর্চারি। শেষক্ষণে পুরস্কার দিতে মঞ্চে ওঠেন বাংলাদেশ আর্চারি দলের প্রধান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখ। তাঁর চোখে-মুখে তৃপ্তি। কারণ, তীর ১৬তম জাতীয় আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপে কিছু ভালো পারফরম্যান্স দেখেছেন। নতুন কয়েকজন নজরও কেড়েছেন।
রোমান সানা, দিয়া সিদ্দিকী, অসীম কুমার, আবদুল হাকিম রুবেলদের মতো দেশসেরা আর্চাররা এখন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। তাঁদের অনুপস্থিতিতে দেশের আর্চারি অনেকটাই রং হারিয়েছে, সৃষ্টি হয়েছে বড় এক শূন্যতা। হারানো তারকাদের নিয়ে আক্ষেপ আছে ফ্রেডরিখের। তবে তাঁদের শূন্যস্থান পূরণ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেও নতুনদের মধ্যে সম্ভাবনার ঝিলিক দেখছেন ফ্রেডরিখ।
ফ্রেডরিখ জানালেন, এই জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে চারজন খেলোয়াড়কে জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাকতে পারেন তিনি। আগামী মার্চ ও এপ্রিলে থাইল্যান্ড ও ইরাকে দুটি বিশ্বকাপ রয়েছে। সেই লক্ষ্যে ২৪ জনের ক্যাম্প ডাকা হবে শিগগিরই।
প্রতিযোগিতার প্রথম দিনে কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে দুটি নতুন জাতীয় রেকর্ড হয়। রিকার্ভ পুরুষ দলীয় বিভাগে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর রামকৃষ্ণ সাহা, রাকিব মিয়া ও আবদুর রহমান আলিফ রেকর্ড গড়েন। রিকার্ভ নারী দলগততে রেকর্ড গড়েন বিকেএসপির সায়মা সালাউদ্দিন, মনিরা আক্তার ও সোনালী রায়।
ছেলেদের রিকার্ভ দলগত ২০০২ স্কোরকে বিশ্বমানের বলছেন ফ্রেডরিখ। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে রাকিবের ৬৭৩ এবং বিকেএসপির সায়মার ৬৪৯ স্কোর তাঁর নজর কেড়েছে। ফ্রেডরিখ বলেন, ‘রাকিব ও সায়মার স্কোর বেশ ভালো। আমি খুশি ওদের পারফরম্যান্সে। বিকেএসপির ঐশ্বর্যও নজর কেড়েছে। নতুন-পুরোনো মিলে কয়েকজন খেলোয়াড় আমাকে বেশ আশাবাদী করেছে, যদিও কখনোই পুরোপুরি সন্তুষ্ট হওয়া যায় না। রোমান-দিয়াদের অভাব একদিনে পূরণ হবে না, তবে আমাদের চেষ্টা করে যেতে হবে।’
প্রতিযোগিতায় হতাশ করেছেন গত অলিম্পিকে খেলা সাগর ইসলাম। একেবারে ম্রিয়মাণ ছিলেন তিনি, জেতেননি কোনো পদক। আসরের অন্যতম বড় চমক বিকেএসপির কোচ ঐশ্বর্য রহমান। কম্পাউন্ডে একসময় দেশের শীর্ষস্থানীয় আর্চার ছিলেন, তবে বর্তমানে তিনি বিকেএসপির কোচ হিসেবে কর্মরত। এবার আবার কম্পাউন্ড ইভেন্টে খেলতে নেমে বাজিমাত করেছেন ঐশ্বর্য, জিতেছেন সোনা।
কোয়ালিফিকেশনে দুর্দান্ত স্কোর করা এই কোচকেও জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাকার ইঙ্গিত দিয়েছে ফেডারেশন। পুরুষ বিভাগে ঐশ্বর্য সর্বোচ্চ দুটি সোনা ও একটি রুপা জিতেছেন। নারী বিভাগে সর্বোচ্চ দুই সোনা, এক রুপা জিতেছেন বন্যা আক্তার। প্রতিযোগিতায় ১০টি সোনার লড়াইয়ে ৫টি জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, ৪টি সোনা গেছে বিকেএসপির ঘরে। অন্য সোনাটি আনসারের।
চার দিনের প্রতিযোগিতায় রেকর্ড ৭২টি দলের ২০৫ জন আর্চার অংশ নিয়েছেন। যদিও অনেক দল অংশ নিয়েছে মাত্র একজন করে আর্চার নিয়ে। ঢাকার বাইরের তিনটি জেলা থেকে বেশ কয়েকজন আর্চার এসেছেন। চুয়াডাঙ্গার ১৭ ক্লাব থেকে ৩২ জন, ফরিদপুরের ৩ ক্লাবের ১৮ জন ও নড়াইলের ৭ ক্লাব থেকে এসেছেন ১৭ জন। চুয়াডাঙ্গার কোচ হযরত আলী বলেন, ‘ঢাকার বাইরে চুয়াডাঙ্গা, নড়াইল আর ফরিদপুরেই যা একটু আর্চারির চর্চা হয়। আর্চারি খেলতে চায় ছেলে-মেয়েরা, কিন্তু ফেডারেশনের আরও সহায়তা দরকার।’
এবারই প্রথম জাতীয় আর্চারিতে অর্থ পুরস্কার দিয়েছে ফেডারেশন। রিকার্ভ ও কম্পাউন্ডের ব্যক্তিগত ইভেন্টে সোনাজয়ীরা পেয়েছেন ৫০ হাজার টাকা, রুপাজয়ীরা ২৫ হাজার এবং ব্রোঞ্জজয়ীরা ১০ হাজার টাকা। আর্চারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ জানান, আগামী এপ্রিল-মে মাস নাগাদ দেশে প্রথমবারের মতো আর্চারি লিগ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রিমিয়ার ও প্রথম বিভাগ—দুই স্তরে লিগ চালু হলে ক্লাব ও দলগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়বে।