অলিম্পিকে ট্রাম্পকে নিষিদ্ধ করার কথা ভাবছে অ্যান্টি–ডোপিং এজেন্সি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পফাইল ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অলিম্পিক গেমস হচ্ছে, আর সেই গেমসে চাইলেও যেতে পারছেন না প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—এমন কিছু কি সম্ভব?

হ্যাঁ, সম্ভব। বিশ্ব ডোপিং বিরোধী সংস্থার (ওয়াডা) নতুন একটি পরিকল্পনা বাস্তব রূপ পেলে নজিরবিহীন এ ঘটনাই ঘটতে পারে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে।

প্রতিযোগিতামূলক খেলাকে মাদক ও কৃত্রিম শক্তিবর্ধক উপাদানমুক্ত রাখার কাজে নিয়োজিত সংস্থাটি নতুন একটি নিয়মের প্রস্তাব করছে, যা কার্যকর হলে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ হবে। সম্ভাব্য নিয়মটি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকেও প্রভাবিত করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ডোপিং বিরোধী সংস্থার এই উদ্যোগের পেছনে আছে দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ। ওয়াডার কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্কের জেরে যুক্তরাষ্ট্র কয়েক বছর ধরে তাদের বার্ষিক চাঁদা দেয়নি। জো বাইডেনের প্রশাসনই এটি শুরু করেছিল, যা ট্রাম্প বহাল রেখেছেন। চীনকে কেন্দ্রকে করে পুরোনো বিরোধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক ও রিপাবলিকান দুই দলের সরকারি কর্মকর্তারাই ওয়াডার সঙ্গে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিরোধী।

কানাডার ডোপিং বিরোধী সংস্থার প্রধান কার্যালয়
রয়টার্স

বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার ওয়াডার সভার আলোচ্যসূচিতে যেসব সরকার বকেয়া ফি পরিশোধ করেনি, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হচ্ছে ক্রীড়া ইভেন্টগুলোতে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্মকর্তা ও সরকারি প্রতিনিধিদের নিষিদ্ধ করা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দুই বছরে ওয়াডার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বকেয়া ৭৩ লাখ ডলারের বেশি।

আরও পড়ুন

ওয়াডা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিবাদের সূত্রপাত ২০২১ সালের এক ঘটনা থেকে। সে বছর নিষিদ্ধ ড্রাগের পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়া সত্ত্বেও ২৩ জন চীনা সাঁতারুকে কোনো শাস্তি না দিয়ে বিষয়টি গোপন রাখার অভিযোগ ওঠে ওয়াডার বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্র এই ঘটনায় ওয়াডার স্বচ্ছতা এবং চীন সরকারের প্রতি তাদের আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে। যার জেরে দেশটির সরকার ২০২৪ ও ২০২৫ সালের ওয়াডার সদস্যপদ ফি আটকে দেয়।

সর্বশেষ গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি আইনে স্বাক্ষর করেন, যার ফলে ওয়াডাকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ প্রদান স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। মার্কিন সরকার জানায়, অভিজ্ঞ ও স্বতন্ত্র নিরীক্ষকদের মাধ্যমে ওয়াডার পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো অর্থ দেবে না।

২০২৮ অলিম্পিক হবে লস অ্যাঞ্জেলেসে
এক্স/এলএ২৮

যুক্তরাষ্ট্রের এমন অবস্থানের পর আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) এবং ওয়াডা হুমকি দেয়, ২০৩৪ সালের শীতকালীন অলিম্পিক যুক্তরাষ্ট্রের ইউটা থেকে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া হবে। শেষ পর্যন্ত ইউটা কর্তৃপক্ষ অলিম্পিক ধরে রাখতে একটি বিশেষ ‘বাতিলকরণ শর্তে’ সই করতে বাধ্য হয়। এই শর্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যদি ডোপিং বিরোধী নিয়মনীতি বা ওয়াডার কর্তৃত্ব অমান্য করে, তাহলে আইওসি গেমস সরিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রাখবে।

আরও পড়ুন

ডোপিং বিরোধী সংস্থা আরও কঠোর ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এখন সদস্যপদ ফি না দেওয়ার শাস্তি হিসেবে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিষিদ্ধের কথা ভাবছে।

তবে ওয়াডার সাবেক কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য রাহুল গুপ্ত বিষয়টি বাস্তবায়নযোগ্য নয় মনে করছেন। ওয়াডা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের পার্থক্য তুলে ধরে বার্তা সংস্থা এপিকে তিনি বলেন, ‘আমি কখনো শুনিনি যে পাঁচ কোটি ডলার বাজেটের একটি সুইজারল্যান্ড-ভিত্তিক ফাউন্ডেশন এমন কোনো নিয়ম প্রয়োগ করতে সক্ষম হতে পারে যা, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কোথাও যেতে বাধা দেবে। আপনি এটি প্রয়োগ করবেন কীভাবে? তারা কি ইন্টারপোল থেকে রেড নোটিশ জারি করবে? এটি হাস্যকর। স্পষ্টতই তারা বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবেনি।’

আরও পড়ুন