কমনওয়েলথ গেমস শেষে ‘নিখোঁজ’ উগান্ডা-পাকিস্তানের একাধিক অ্যাথলেট
স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে গত রোববার জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে পর্দা নেমেছে কমনওয়েলথ গেমসের। তবে গেমস শেষে দেশের বিমান ধরার বদলে উল্টো নিখোঁজ হয়ে গেছেন কয়েকটি দেশের বেশ কয়েকজন অ্যাথলেট। কয়েকজন খেলোয়াড় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ‘নিখোঁজ’ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্কটল্যান্ড পুলিশ।
ক্রীড়াবিষয়ক ওয়েবসাইট এনবিএস স্পোর্টসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, উগান্ডা বক্সিং দলের চারজন সদস্য নির্ধারিত সময়ে দেশের ফ্লাইটে ওঠেননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিখোঁজদের একজন এনবিএসকে জানিয়েছেন, তাঁরা স্কটল্যান্ডেই রাজনৈতিক আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) প্রার্থনা করার পরিকল্পনা করছেন।
অন্যদিকে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম পাকিস্তান টুডে জানিয়েছে, দেশটির বক্সার কুদরাতউল্লাহও নিজ দলের সঙ্গে দেশে ফেরেননি। পাকিস্তানের কর্মকর্তারা হোটেলে তাঁর কক্ষে গিয়েও তাঁকে আর খুঁজে পাননি।
অতীতেও কমনওয়েলথ গেমসে এমন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা দেখা গেছে। ২০১৪ সালের গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের পরও অনেক অ্যাথলেট উধাও হয়ে যান; যাঁদের অনেকেই পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় চান কিংবা চিরতরে আত্মগোপন করেন।
স্কটল্যান্ড পুলিশের এক মুখপাত্র এবারের ঘটনা নিয়ে বলেন, ‘বেশ কয়েকজন অ্যাথলেট নিখোঁজ থাকার রিপোর্ট আমাদের কাছে এসেছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রাথমিক সমন্বয় শুরু হয়েছে।’
উগান্ডার সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, নিখোঁজ চার বক্সার হলেন নুহু বাত্তে, অ্যাঞ্জেল কাটুশাবে, ইব্রাহিম কেমিস ও এমিলি নাকালেমা।
এনবিএস স্পোর্টস জানায়, নিখোঁজ চারজনের একজনের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করতে পেরেছে। ওই বক্সার জানিয়েছেন, নিজ দেশের চেয়ে যুক্তরাজ্যে উন্নত প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার আশা থেকেই তাঁরা ক্যারিয়ার এগিয়ে নিয়ে যেতে আশ্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি উগান্ডানদের তাঁদের এই সিদ্ধান্তের জন্য ভুল না বুঝে মানবিক দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান।
গ্লাসগো ২০২৬-এর নিয়ম অনুসারে, নিজ নিজ ইভেন্ট শেষ হওয়ার দুই রাতের মধ্যে অ্যাথলেটদের আবাসন ত্যাগ করার কথা ছিল। গ্লাসগো ২০২৬-এর মুখপাত্র সোফি অ্যাশক্রফট জানিয়েছেন, তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ রাখছেন, ‘গত দুই সপ্তাহে আমরা ৭৪টি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ৩ হাজার অ্যাথলেটকে গ্লাসগোতে স্বাগত জানিয়েছি। গেমস শেষে সবাই যেন নিরাপদে ফিরে যেতে পারেন, সে জন্য পুলিশ স্কটল্যান্ড, বর্ডার ফোর্স এবং ইউকে ভিসা অ্যান্ড ইমিগ্রেশনের সঙ্গে আমরা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’
২০১৪ সালের গ্লাসগো গেমসেও উগান্ডার দুজন রাগবি খেলোয়াড় একইভাবে নিখোঁজ হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে কার্ডিফের একটি স্থানীয় ক্লাবের হয়ে তাঁদের খেলতে দেখা যায়। তাঁদের একজন ফিলিপ প্যারিও, পরে ধর্ষণের দায়ে চার ও সাড়ে চার বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।
একই আসরে ক্যামেরুন থেকে পালিয়ে আসা ভারোত্তোলক সিরিল চ্যাচেট গেমসের পর নিখোঁজ হন। চ্যাচেট পরে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। এবার তো ইংল্যান্ডের প্রতিনিধি হিসেবে রুপাও জিতেছেন।
সাধারণত যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আগে অ্যাথলেটদের ব্যাকগ্রাউন্ড কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করে থাকে। সবকিছু নিয়ে সন্তুষ্ট হলেই তাঁদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।