খালাতো বোন সাদিয়াও নড়াইলের মেয়ে। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে নিয়মিত একসঙ্গে খেলেন সোনাম ও সাদিয়া। বার্মিংহামে সর্বশেষ কমনওয়েলথ গেমস ও তুরস্কে ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে সোনাম ও সাদিয়া একসঙ্গে খেলেছেন জাতীয় দলের হয়ে।

সোনাম মূলত ছিলেন আবাহনী লিমিটেডের খেলোয়াড়। ২০০৩ সাল থেকে শুরু করে গত বছর পর্যন্ত খেলেছেন আবাহনীর জার্সিতে। তবে মাঝে দুই মৌসুম ছিলেন বাংলাদেশ বিমানে। আবাহনীকে টেবিল টেনিসে চ্যাম্পিয়ন করতে সব সময় বড় ভূমিকা রাখতেন সোনাম। কিন্তু এবার আবাহনী ছেড়ে তিনি যোগ দেন পুলিশে। প্রথম আসরেই বাজিমাত করেছেন সোনাম। আবাহনী এবার চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি, রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থেকেছে।

এবারের লিগটা সোনাম ও সাদিয়ার জন্য ছিল চ্যালেঞ্জের। ফেডারেশনের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার খড়্‌গ মাথায় নিয়ে খেলতে নামেন দুজন। বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নারী দ্বৈতের ইভেন্টে ওয়াকওভার দিয়ে দুজন বেড়াতে গিয়েছিলেন—এমন অভিযোগে তাঁদের আন্তর্জাতিক টিটি থেকে তিন বছর ও ঘরোয়া খেলা থেকে দুই বছরের জন্য নিষেধাজ্ঞা দেয় ফেডারেশন।

পরে অবশ্য সেই শাস্তি কমিয়ে আন্তর্জাতিক টিটিতে দুই বছর ও ঘরোয়া টিটিতে এক বছরের শাস্তি বহাল রাখে ফেডারেশন।

তবে সেই শাস্তি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেয় এবারের টিটি লিগ ও জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ শেষ হওয়ার পর। তবে এই ঘটনার জন্য আলাদা করে আরেকটি তদন্ত কমিটি করেছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)। সেই তদন্ত রিপোর্ট আসার পর বদলাতে পারে শাস্তি।

শাস্তি পাওয়া দুই খেলোয়াড় গত দেড় মাস মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত অবস্থায় ছিলেন। ফেডারেশন তাঁদের বিপক্ষে ষড়যন্ত্র করেছে, এমনটাই দাবি তাঁদের।

আর সেই ষড়যন্ত্রের জবাব টেবিল টেনিস কোর্টেই দিয়েছেন বলে মনে করেন সোনাম, ‘এবার আমাদের চ্যালেঞ্জ ছিল দুই দিক থেকে। অনেক মানসিক চাপের মধ্যে ছিলাম আমরা। ঠিকমতো অনুশীলন করতে পারিনি। এরপরও চিন্তা করেছি যে যদি আমাদের সম্মানটা ফিরে পেতে চাই, তাহলে টেবিলেই জবাব দিতে হবে। সেটা আমরা পেরেছি।’

প্রথমবার পুলিশকে চ্যাম্পিয়ন করতে পেরে খুশি পাঁচবারের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন সোনাম, ‘এত দিন আবাহনীকে শিরোপা দিয়েছি। এবার নতুন দলে খেলেছি। লক্ষ্যই ছিল পুলিশকে চ্যাম্পিয়ন করা। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি বলে খুবই খুশি।’