আর সংস্করণটা ওয়ানডে বলেই বিসিএলে ভিড় জমেছে জাতীয় দলের তারকাদের। ৫০ ওভারের সংস্করণটা এলেই বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা হইচই করে খেলতে নেমে পড়েন। যেন হাতের তালুর মতো চেনা সংস্করণে খেলার সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন ক্রিকেটাররা। অথচ চার দিনের প্রতিযোগিতায় জাতীয় দলের অনেককেই খুঁজে পাওয়া যায় না। আয়োজকেরাও সুযোগ পেলে এক সপ্তাহর মধ্যে নামিয়ে ফেলেন একটি ৫০ ওভারের টুর্নামেন্ট। কারণ খুঁজে পেতেও সমস্যা হয় না। এবারের ভারত সফর তেমনই এক কারণ।

গতবার অবশ্য এই বিসিএলেই ব্যবহার করা হয়েছে বিপিএলের প্রস্তুতি হিসেবে। চার দিনের প্রতিযোগিতা শেষে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে এক সপ্তাহ সময় বের করে প্রথমবারের মতো মাঠে গড়ায় বিসিএল ওয়ানডে। সাকিব, তামিমরা সেবার চার দিনের ম্যাচ না খেললেও খেলেছেন বিসিএল ওয়ানডেতে।

বিপিএলের ছায়া যে এবারও নেই, সেটা বলা যাবে না। আজ বিসিএলের দুটি ম্যাচ মাঠে বসে দেখেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। ২৩ নভেম্বর বিপিএলের ড্রাফট। ড্রাফট থেকে কোন ক্রিকেটারকে বেছে নিলে ভালো হয়, সেটার পোশাকি মহড়াও যেন বিসিএল ওয়ানডে।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, এবার যে ওয়ানডে সিরিজের জন্য বিসিএল ওয়ানডে হচ্ছে, সেটা অবশ্য আইসিসি সুপার লিগের অংশ নয়। সিরিজটি ভারতের বিপক্ষে বলে এর একটা আর্থিক গুরুত্ব আছে বটে। টিভি সম্প্রচার থেকে এই সিরিজে আয় হবে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। বাংলাদেশও এ সংস্করণে শক্তিশালী। ভারতের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে একমাত্র ওয়ানডেতেই। তাই ওয়ানডে সিরিজের গুরুত্বটাই বেশি।

সে তুলনায় ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ অতটা গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। অথচ টেস্ট সিরিজটি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। বিসিএলের চার দিনের প্রতিযোগিতাটা টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতির জন্য ব্যবহার করা যেত। কিন্তু না। ওয়ানডেটাই বরাবরের মতো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ টেস্ট দলের এক অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের মতো বলতেই হয়, ‘এত অবাক হওয়ার কী আছে। আমাদের মূল খেলা ওয়ানডে। আমরা তো এমনই করব।’

১৭ নভেম্বর শেষ হলো জাতীয় ক্রিকেট লিগের ২৩তম আসর। তামিম ইকবাল প্রথম দুই রাউন্ড খেলে আর কোনো ম্যাচ খেলেননি। মুশফিক ছাড়া অভিজ্ঞদের মধ্যে কেউই জাতীয় লিগে নিয়মিত নন। অথচ ডিউক বল, পেস বোলিং সহায়ক উইকেটের কারণে এবারের জাতীয় লিগের খেলা ছিল রোমাঞ্চে ঠাসা।

প্রতিযোগিতাপূর্ণ আবহ ছিল প্রতি ম্যাচেই। টানা ছয় রাউন্ডের খেলা শেষে কিছুদিন বিশ্রাম দিয়ে বিসিএলের চার দিনের ম্যাচ শুরু হবে, জাতীয় দলের বাইরের ক্রিকেটারদের প্রত্যাশা ছিল এমনই। কিন্তু দুই দিনের ব্যবধানে শুরু হয়ে গেল বিসিএলের ৫০ ওভার সংস্করণের ম্যাচ।

ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিতদের এ নিয়ে অভিযোগ করতে শোনা গেছে। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের দিকে আঙুল তুলে এক ক্রিকেটার বলছিলেন, ‘ওরাই ক্রিকেটার। আমরা ক্রিকেটাররা না? আমাদের বিরতি দরকার হয় না? হুট করে একটা টুর্নামেন্ট খেলিয়ে দিলেই তো হয় না।’

বাংলাদেশ এর আগেও বহুবার ৫০ ওভারের ম্যাচকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে টেস্ট দলের ক্ষতি করেছে। সবচেয়ে তাজা উদাহরণ ২০২১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বাংলাদেশ সফর। আইসিসির ভবিষ্যৎ সফর পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলে তিনটি ওয়ানডে খেলার কথা বাংলাদেশের। টেস্ট সিরিজটি ছিল চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ, ওয়ানডে সিরিজটি সুপার লিগের।

কিন্তু প্রস্তুতির জন্য যেন বেশি সময় পাওয়া যায়, সে জন্য সূচি বদলে এগিয়ে আনা হয় ওয়ানডে সিরিজ। এরপর টেস্ট দলের পেসারদের ব্যবহার করা হয় ওয়ানডের সিরিজের নেট বোলারের ভূমিকায়।

বাংলাদেশ খর্বশক্তির ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওয়ানডে দলের বিপক্ষে সে সিরিজ জিতেছিল ৩-০ ব্যবধানে। কিন্তু টেস্ট সিরিজ হেরেছে ২-০ ব্যবধানে। এতে অবশ্য চমকের কিছু নেই। কারণ, ক্যারিবীয় টেস্ট ক্রিকেটাররা সফরে আসার পর থেকেই মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে টেস্ট সিরিজের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করেছে। বাংলাদেশ প্রস্তুতি নিয়েছে ওয়ানডে সিরিজের জন্য।

এবারও তা–ই হচ্ছে। তামিম-মুশফিকরা ওয়ানডে খেলেই প্রস্তুত হবেন টেস্ট সিরিজের জন্য। টেস্ট দলের সম্ভাব্য কয়েকজন অবশ্য ভারতীয় ‘এ’ দলের বিপক্ষে দুটি চার দিনের ম্যাচ খেলবেন। সেটা অবশ্য শাক দিয়ে মাছ ঢাকা ছাড়া কিছুই নয়।